Eid 2021 : কবে কী ভাবে প্রচলিত হল ইদ উৎসব? জানুন ইতিহাস...

ইতিহাসের পাতায় ইদের তাৎপর্য ছবি : সংগৃহিত

বছরের প্রথম ইদ (Eid-2021) উদযাপিত হয় দীর্ঘ ১ মাস রোজা (Roja) রাখার পর। যাকে বলা হয় ঈদ-উল-ফিতর(Eid-ul-Fitr 2021) বা রোজার ইদ, আর অন্যটি আত্মত্যাগের কোরবানীর ইদ বা ঈদ-উল-আজহা। এই দুইটি ইদই হলো মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

  • Share this:

    এসেছে খুশির ইদ (Eid 2021)। টানা একমাসের রমজানের (Ramadan) পর উৎসবে মাতবেন গোটা বিশ্বের মুসলিম সমাজ। 'ইদ' শব্দের সামাজিক অর্থ উৎসব আর আভিধানিক অর্থ পুনরাগমন বা বারবার ফিরে আসা। তাই প্রতি বছরই মুসলমানদের জীবনের ফিরে আসে এই উৎসব। বছরের প্রথম ইদ উদযাপিত হয় দীর্ঘ ১ মাস রোজা (Roja) রাখার পর। যাকে বলা হয় ইদ-উল-ফিতর (Eid-ul-Fitr) বা রোজার ইদ, আর অন্যটি আত্মত্যাগের কোরবানীর ইদ বা ঈদ-উল-আজহা। এই দুইটি ইদই হলো মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

    ইদ-উল-ফিতর

    মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটি খুবই আনন্দের সঙ্গে পালন করেন। সবাই এ দিন সাধ্যামতো ভালো পোশাক পরেন। ঘরে ঘরে উৎসবের আয়োজন হয়। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরাও এই আনন্দের অংশীদার হয়। দরিদ্ররাও এ দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদা আনন্দের মধ্যে দিয়ে সাধ্যমত পালন করেন। আর সেটাই এই দিনটির বিশেষত্ব। মুসলমানেরা এ দিন ইদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বাড়ির ছোটদের দেন ইদির উপহার। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই কোলাকুলি-সহ সালাম ও শুভেচ্ছার হাত বাড়িয়ে দেয়।

    ইতিহাসের পাতা থেকে :

    এই ইদ উৎসবের কী ভাবে প্রচলন হয়েছে তার ইতিহাস ও তথ্য সঠিকভাবে আজও জানা যায়নি। নানা ইতিহাস গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক সূত্র ও তথ্য থেকে রোজাপালন এবং ইদ-উল-ফিতর বা ইদ-উল-আজহা উদযাপনের যে ইতিহাস জানা যায় তাতে ১২০৪ খৃস্টাব্দে বঙ্গদেশ মুসলিম অধিকারে এলেও নমাজ, রোজা ও ইদোৎসবের প্রচলন হয়েছে তার বেশ আগে থেকেই। বঙ্গদেশ যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে মুসলিম অধিকারে আসার বহু আগে থেকেই মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া থেকে মুসলিম সুফি, দরবেশ ও সাধকরা ধর্ম-প্রচারের লক্ষ্যে উত্তর ভারত হয়ে পূর্ব-বাংলায় আসেন।

    অন্যদিকে আরবীয় এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের বণিকেরা চট্টগ্রাম নৌবন্দরের মাধ্যমেও বাংলার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এভাবেই একটা মুসলিম সাংস্কৃতিক তথা ধর্মীয় প্রভাব যে পূর্ব-বাংলায় পড়েছিল। তবে মুঘল যুগে ঈদের দিন যে হইচই বা আনন্দ হতো তা মুঘল ও বনেদি পরিবারের উচ্চপদস্থ এবং ধনাঢ্য মুসলমানদের মধ্যে কিছুটা হলেও সীমাবদ্ধ ছিল। তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের ব্যবধান না থাকলেও কিছু দূরত্ব ছিল।

    বর্তমানে ইদে শুভেচ্ছা কার্ড বিনিময় একটি জনপিয় প্রথায় পরিণত হয়েছে। আর তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সোশ্যাল মিডিয়াতেও আনন্দ-খুশি ও ইদের আবেগ ভাগাভাগি করে নেন মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মের মানুষও। সমাজের ধনী ও সক্ষম ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট হারে গরিবদের ফিতরা বা শর্তহীন অনুদান বিতরণ করে থাকেন। ধর্মীয় দিক থেকে ধনীদের জন্য বাধ্যতামূলক এই সেবা। এতেই তাঁদের রোজা পূর্ণতা পায় বলে মনে করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published: