৫ পয়সার জন্য ৪০ বছরের লড়াই! সন্তানরাও তাঁকে 'দোষী' ভাবত,বাস কন্ডাক্টরের জীবনের গল্পে আবেগে ভাসছে নেটদুনিয়া
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
মাত্র ৫ পয়সার অভিযোগ, আর তার জেরে চার দশকের আইনি লড়াই—দিল্লির এক বাস কন্ডাক্টরের এই ঘটনা ফের সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে বিচার ব্যবস্থার গতি ও বাস্তবতা নিয়ে। ন্যায়ের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা কীভাবে এক সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে, সেই চিত্রই তুলে ধরছে এই ঘটনা।
মাত্র ৫ পয়সার অভিযোগে চাকরি খোয়ানো, আর সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে চার দশকের লড়াই—দিল্লির এক বাস কন্ডাক্টরের জীবনগাথা নতুন করে সামনে আসতেই আবেগে ভাসছে নেটদুনিয়া। অনেকেরই প্রশ্ন, এত সামান্য অঙ্কের জন্য কি একজন মানুষের গোটা জীবন নষ্ট হয়ে গেল?
১৯৭৩ সালে দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (ডিটিসি)-এর বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন রণবীর সিং যাদব। অভিযোগ ওঠে, তিনি এক মহিলা যাত্রীকে ১৫ পয়সার বদলে ১০ পয়সার টিকিট দেন এবং অতিরিক্ত ৫ পয়সা নিজের কাছে রেখে দেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং ১৯৭৬ সালে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
advertisement
পরে ২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে যাদব জানান, এই অভিযোগ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল। “আমার নিজের সন্তানরাও আমাকে জিজ্ঞাসা করত আমি কী প্রতারণা করেছি? আমাকে তাদের বোঝাতে হত যে আমি কিছু করিনি। অন্যরা তীর্থ করতে যেত, আমি যেতাম আদালতে,” বললেন যাদব।
advertisement
advertisement
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন যাদব। ১৯৯০ সালে শ্রম আদালত তাঁর বরখাস্তকে বেআইনি বলে রায় দেয়। কিন্তু ডিটিসি সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে, যার ফলে মামলাটি আরও দীর্ঘায়িত হয়। প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মামলা চলতে থাকে।
advertisement
এই সময়ে মাত্র ৫ পয়সা উদ্ধার করতে আইনি খরচ হিসেবে ডিটিসির খরচ হয় প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯৪ সালেই ৫ পয়সার মুদ্রা ভারতে প্রচলন থেকে তুলে নেওয়া হয়।
This is Ranvir Singh Yadav.
– In 1973, he was a bus conductor in Delhi (DTC).
– He was accused of issuing a ₹0.10 ticket instead of ₹0.15 and keeping 5 paise.
– The DTC filed a case against him.
– In 1976, he was dismissed from his job.
– He fought the case in court for… pic.twitter.com/MJUVIBABvk— Nalini Unagar (@NalinisKitchen) March 25, 2026
advertisement
যাদবের স্ত্রী বিমলা দেবী বলেন, “মামলাটা ৫ পয়সার হোক বা ২ পয়সার, যেভাবে আমাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা লাখ টাকার সমান। সেই মুদ্রা আর নেই, কিন্তু আমরা এখনও এই লড়াইয়ে আটকে আছি।”
অবশেষে ২০১৬ সালে দিল্লি হাইকোর্ট ডিটিসির আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত নির্দেশ দেয়, যাদবকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ, ১.২৮ লক্ষ টাকা গ্র্যাচুইটি এবং ১.৩৭ লক্ষ টাকা সিপিএফ হিসেবে দিতে হবে।
advertisement
সাম্প্রতিক সময়ে এই পুরনো ঘটনা আবার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এক ব্যবহারকারী লেখেন, “৫ পয়সার জন্য তাঁর জীবন নষ্ট হয়ে গেল, সিস্টেম তাঁর সঙ্গে অন্যায় করেছে।” আরেকজন লেখেন, “৪০ বছরের লড়াইয়ে জিতলেন ঠিকই, কিন্তু হারালেন গোটা জীবন। বড় দুর্নীতিবাজরা যেখানে পার পেয়ে যায়, সেখানে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগেন।”
অনেকে আবার মন্তব্য করেছেন, “এটা শুধু ৫ পয়সার বিষয় নয়, এটা ছিল নিজের সততা প্রমাণের লড়াই।” আরেকটি মন্তব্যে বলা হয়, “৪০ বছর ধরে ৫ পয়সার জন্য লড়াই—এটা প্রশাসনিক জেদ ছাড়া কিছুই নয়।”
advertisement
শুনানির সময় আদালতও মন্তব্য করে, “এই ব্যক্তি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডিটিসির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। শ্রম আদালত ও হাইকোর্টে জিতলেও, তিনি সেই জয়ের প্রকৃত ফল ভোগ করতে পারেননি।”
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Mar 26, 2026 7:07 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পাঁচমিশালি/
৫ পয়সার জন্য ৪০ বছরের লড়াই! সন্তানরাও তাঁকে 'দোষী' ভাবত,বাস কন্ডাক্টরের জীবনের গল্পে আবেগে ভাসছে নেটদুনিয়া










