ঘুমোচ্ছে প্রশাসন! সরকারের কাজ নিজেরা করতে ঢালি, কোদাল হাতে নামল গ্রামবাসীরা

গ্রামে রাস্তা বলে কিছু নেই। জমির আল পেরিয়ে, আমবাগান দিয়ে আবার কখনো রেললাইন টপকে গ্রামবাসীদের যাতায়াত করতে হয়।

গ্রামে রাস্তা বলে কিছু নেই। জমির আল পেরিয়ে, আমবাগান দিয়ে আবার কখনো রেললাইন টপকে গ্রামবাসীদের যাতায়াত করতে হয়।

  • Share this:

#মালদহ:

গ্রামে চলাচলের কোনও রাস্তা নেই। যোগাযোগ বলতে রেললাইন পেরিয়ে যাতায়াত। বহুবার পঞ্চায়েত এবং প্রশাসনকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি। শেষে প্রশাসনের ওপর ভরসা না করে নিজেরাই ডালি, কোদাল নিয়ে রাস্তা তৈরিতে নামলেন গ্রামের বাসিন্দারা। ঘটনা পুরাতন মালদহ ব্লকের  সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শান্তিপুর এলাকায়। পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে শতাধিক গ্রামবাসী মাটি কেটে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। পুরাতন মালদহের শান্তিপুর গ্রামে পায় পাঁচশো পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা কয়েক হাজার। কিন্তু এই গ্রাম থেকে যাতায়াতের কোনও রাস্তা নেই। জমির আল পেরিয়ে, আমবাগান দিয়ে আবার কখনো রেললাইন টপকে গ্রামবাসীদের চলাচল করতে হয়।

এই গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে ব্যস্ততম রেললাইন। রেললাইন পার হতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন গ্রামের মানুষ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে জমির সমস্যা সামনে আসে। কারণ, রাস্তা তৈরিতে রেলের কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত  ও প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল । কিন্তু গ্রামের রাস্তা নিয়ে কোনওরকম উদ্যোগ  নেওয়া হয়নি। এদিকে বর্ষার মরশুমে জলকাদায় চলাচল  করতে গিয়ে দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছিল গ্রামবাসীদের। অবশেষে একরকম বাধ্য হয়েই হাতে ডালি, কোদাল নিয়ে শতাধিক গ্রামবাসী এক কিলোমিটার মাটি কেটে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

রাস্তা তৈরিতে গ্রামবাসীদের নিজস্ব উদ্যোগকে অবশ্য স্বাগত জানিয়েছেন সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান উকিল মন্ডল। তাঁরও দাবি, ওই গ্রামে রাস্তার একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু রেলের জমি থাকায় কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। আবার ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করে কাজের ক্ষেত্রেও আর্থিক বাধা রয়েছে। এই অবস্থায় গ্রামবাসীরা নিজেরাই যেভাবে রাস্তা তৈরির কাজে হাত লাগিয়েছেন, তাতে যোগাযোগের সুবিধা হবে বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান। গ্রামবাসীরা রাস্তা তৈরি করার পর প্রয়োজনে ওই রাস্তা পঞ্চায়েত থেকে ঢালাই করে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Published by:Suman Majumder
First published: