কী এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ? কীভাবে ধূলিসাৎ পাক জঙ্গি ঘাঁটি ?

কী এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ? কীভাবে ধূলিসাৎ পাক জঙ্গি ঘাঁটি ?

দীর্ঘ অপেক্ষার অপর এবার পাকিস্তানে ঢুকে হামলা। সামরিক পরিভাষায় যার নাম সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। ঘণ্টার অভিযানে সাতটি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ফিরে আসে ভারতীয় সেনা। কী এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক?

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: দীর্ঘ অপেক্ষার অপর এবার পাকিস্তানে ঢুকে হামলা। সামরিক পরিভাষায় যার নাম সার্জিক্যাল স্ট্রাইক।  ঘণ্টার অভিযানে সাতটি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ফিরে আসে ভারতীয় সেনা। কী এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক?

নজরবন্দি সীমান্ত। পলক ফেলছে না ভারত-পাকিস্তান কেউ। তার মাঝেই পাকিস্তানে ঢুকে উধমপুর-পাঠানকোট-উরি হামলার বদলা নিল ভারত। অস্ত্র সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। চিকিৎসকের মতো শরীরের পচে যাওয়া অঙ্গ কেটে ফেলার ধাঁচেই এই ধরনের হামলা।

সার্জিক্যাল স্ট্রাইক কী?

সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ওপর আচমকা হামলা। যুদ্ধে পারিপার্শ্বিক ক্ষতি বা কোল্যাটারাল ড্যামেজের সম্ভাবনা বেশি হলেও সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে পারিপার্শ্বিক ক্ষতির সম্ভাবনা একেবারেই কম। প্রথমে আকাশপথে রেইকি করে নেওয়া হয়। লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে আরও নানা ভাবে খবর সংগ্রহ করে সেনাবাহিনী। তারপর অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ মেপে টার্গেট ফিক্স করা হয়। এই ধরনের হামলায় বোমারু বিমান থেকে মিলিটারি রিইনফোর্সমেন্টকে বাধা দেওয়ার জন্য কার্পেট বম্বিং হতে পারে।

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় এই ধাঁচেই বাগদাদে বম্বিং করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সম্প্রতি, মায়ানমারের মধ্যে ঢুকে এই ভাবেই আলফা জঙ্গিদের ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারত। এই ধরনের অপারেশনে নিয়োগ করা হয় এলিট কমান্ডো গ্রুপকে।

উরি হামলার পর থেকেই পারদ চড়ছিল ভারত-পাকিস্তান দু’দেশে। বুধবার রাতে ৬ ঘণ্টার অপারেশনে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারের জঙ্গিঘাঁটিগুলিতে বড়সড় ধাক্কা দিল ভারতীয় সেনা। কার্যত কোমর ভেঙে দেওয়া হয় জইশ-ই-মহ্মমদ, লস্কর-এ-তইবার মতো জঙ্গি সংগঠনকে সামনে রেখে পাক সেনাবাহিনীর।

কী করল ভারতীয় সেনা?

ভীমবের, হটস্প্রিং সেল এবং লিপা সেক্টরে পাক সেনার মদতে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি চলার খবর সংগ্রহ করে ভারতীয় সেনা। আকাশপথে ড্রোন উড়িয়ে সেই ঘাঁটিগুলি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয় প্রথমে। পাক বাহিনী সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখলেও, বুধবার গভীররাতে প্রথমে আকাশপথে LOC-তে পৌঁছন ভারতীয় সেনার কমান্ডোরা। সেখান থেকে কিছুটা হেঁটে গিয়ে তাঁরা ঢুকে পড়েন পাক মাটিতে। এরপর কমান্ডোরা হামলা চালান লক্ষ্যবস্তুতে। তিনটি সেক্টরে একইসঙ্গে হামলা চালানো হয়। তাতে পালাবার পথ পায়নি জঙ্গিরা। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অপারেশন চলে। তারপর, ভারতীয় সেনা ফিরে আসে নিরাপদেই। গোটা অপারেশনের সময় মাথার ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ও বিমান। মোট ২ হাজার সেনা নিয়োগ করা হয়েছিল এই অপারেশনে।

ওয়াঘার ওপার থেকে পরমাণু হামলার হুমকি দিলেও, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ঘোর এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইসলামাবাদ। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের ভয় বাড়িয়ে তুলেছে পলক ফেলার আগে ভারতের পাল্টা আঘাতের শক্তি।

First published: 04:10:33 PM Sep 29, 2016
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर