‘আমাদের বিরোধী মানেই তারা দেশ বিরোধী নয়’, নির্বাচনের আগে দল নিয়ে বিস্ফোরক আদবানি

‘আমাদের বিরোধী মানেই তারা দেশ বিরোধী নয়’, নির্বাচনের আগে দল নিয়ে বিস্ফোরক আদবানি
  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ‘পার্টি উইথ এ ডিফারেন্স। পার্টি উইথ অল প্লাইট।’ এই আদর্শকে সামনে রেখেই গড়ে উঠেছিল এক রাজনৈতিক দল। সাড়ে তিন দশক পর কি সেই আদর্শ থেকে সরে আসছে বিজেপি? লোকসভা ভোটের মুখে ৫০৯ শব্দের এক বিস্ফোরক ব্লগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে লালকৃষ্ণ আদবানি মনে করালেন, মতের অমিল হলেই কাউকে শত্রু চিহ্নিত করাটা বিজেপির পরম্পরা নয়। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের বিজেপিকে বার্তা দলের লৌহপুরুষের ৷

একসময়ের দাপুটে প্রবীণ নেতাকে প্রার্থী পদের তালিকা থেকে ব্রাত্য রেখেছে দল ৷ ৯১ বছর বয়সী এই লৌহপুরুষ বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ছিলেন নীরব ৷ পাওয়া যায়নি কোনও প্রতিক্রিয়া ৷ অবশেষ ভাঙল মৌনতা ৷ মোদি জমানায় প্রথম থেকে কোণঠাসা তিনি। এবার লালকৃষ্ণ আদবানি ভোটেও নেই। প্রচারেও নেই। বলা হচ্ছে, মার্গদর্শক এখন শুধুই দর্শক।

বিজেপিতে কিন্তু পরিবর্তনের হাওয়া। নিজস্ব স্টাইলে দল চালাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি। এই জুটির কাজকর্ম নিয়ে হাজারো অভিযোগ। মতের অমিল হলেই শত্রু হিসাবে দাগিয়ে দেওয়া। কখনও দেশের শত্রু, আবার কখনো দলের। এই পরিস্থিতিতে ব্লগকে হাতিয়ার করলেন প্রবীণ নেতা। তিনি লিখেছেন,

‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু ভাবেনি বিজেপি ৷ দলের জন্মলগ্ন থেকে এমন মনোভাব ছিল না ৷ মতের অমিল হলেই শত্রু হিসাবে দেখা ঠিক নয়। বিজেপিতে কখনও এই পরম্পরা ছিল না। তেমনি জাতীয়তাবাদ নিয়ে আমাদের যা ধারণা, তার সঙ্গে অন্যদের মত নাও মিলতে পারে। বিজেপির জাতীয়তাবোধ পরমতসহিষ্ণু ৷ বিরোধী কথা বললেই কেউ দেশবিরোধী নয় ৷’

পুলওয়ামা হামলা ও বালাকোটে অভিযানের পরই জাতীয় রাজনীতিতে এখন এক নতুন ট্রেন্ড। প্রশ্ন করলেই পাকিস্তানপন্থী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। উল্লেখ্য, মৃত জঙ্গির সংখ্যা জানতে চাওয়ায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধিকেও পাকিস্তানপন্থী বলে আক্রমণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি ৷

সাংবিধানিক সংস্থাগুলির ক্ষমতা কাড়ার অভিযোগও উঠেছে নরেন্দ্র মোদিদের বিরুদ্ধে। আদবানির ব্লগে তা নিয়েও বার্তা এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যেখানে তিনি লিখেছেন, বিজেপি বরাবর সংবাদমাধ্যম সহ গণতান্ত্রিক সংস্থাগুলির স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ পরিচলন নীতির পক্ষে। এইজন্যই আমরা ভোটে ইলেকট্ররাল বন্ডের দাবি তুলেছিলাম।

তিনি আরও বলেন,

সত্য, ন্যায়নীতি ও গণতন্ত্র -- তিনটিই বিজেপির মূলমন্ত্র। আমার আশা, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য বজায় রাখতে আমরা একইভাবে চেষ্টা করে যাব। ভোট আসলে গণতন্ত্রের উদযাপন। সবাই এতে অংশ নিলেই এর সাফল্য সম্ভব ৷

দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী ভিয়েনায় রাষ্ট্রসংঘের সভায় পাঠিয়েছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে। খোদ আদবানিকে পাকিস্তানে পাঠান ইউপিএ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ঘোর সমালোচক সিপিএম নেতা হরকিষেণ সিং সুরজিতের শেষকৃত্যে দিনভর ছিলেন আদবানি। এমনই হাজারো দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে। মোদি সরকারের আমলে সেই পরম্পরা ভাঙছে - সেই বার্তাই কী স্পষ্ট হল না বিজেপি লৌহপুরুষের বক্তব্যে ৷ ভোটের আগে বিজেপির একসময়ের পোস্টার নেতার এমন বিস্ফোরক উক্তিতে চরম অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির ৷

আডবানীর দীর্ঘদিনের নির্বাচনী কেন্দ্র গান্ধিনগর থেকে ২০১৯ নির্বাচনে লড়ছেন বর্তমান বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ৷ ভোটে না দাঁড়ানোর কথাও নাকি আদবানিকে জানাননি মোদি ও অমিত শাহ। প্রার্থী পদ না পাওয়ার যন্ত্রণার থেকেও ব্লগের প্রতি ছত্রে ফুটে উঠেছে দলের বর্তমান সদস্যদের প্রতি অভিমান ৷ দলের ভিতরের গণতন্ত্র নিয়ে হতাশা ৷ প্রার্থী পদ না পাওয়ার ক্ষোভেই যে এই বিস্ফোরণ, সেটাও বলার সুযোগ পাচ্ছেন না মোদিপন্থীরা। কারণ বিজেপির আদর্শ আর গঠনতন্ত্র ধরে রাখার পক্ষেই বলেছেন দলের লৌহপুরুষ।

First published: April 4, 2019, 8:30 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर