পরিস্থিতি সরকারের হাতের বাইরে, কৃষক আন্দোলন নিয়ে তীব্র আক্রমণ রাহুলের

পরিস্থিতি সরকারের হাতের বাইরে, কৃষক আন্দোলন নিয়ে তীব্র আক্রমণ রাহুলের
কৃষি আন্দোলন নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে আক্রমণ রাহুলের৷

কেন্দ্রীয় বাজেটেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন রাহুল গাঁধি৷ তাঁর অভিযোগ, এই বাজেট দেশের এক শতাংশ মানুষের কথা ভেবে করা হয়েছে৷

  • Share this:

    #দিল্লি: কৃষক আন্দোলন নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সরকারের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে৷ এমনই অভিযোগ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধি৷ তাঁর প্রশ্ন, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে কেন দিল্লিকে দুর্গে পরিণত করছে সরকার?

    প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনের নামে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছিল৷ লাল কেল্লায় ঢুকে পড়েছিলেন আন্দোলনকারীদের একাংশ৷ রাহুল গাঁধি এ দিন পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, লাল কেল্লায় কীভাবে এত মানুষ একসঙ্গে ঢুকে পড়ল? কেন তাঁদের আটকানো গেল না? কংগ্রেস নেতা বলেন, 'আমি সেই মানুষটার খোঁজ পেতে যে এই ঘটনার জন্য দায়ী৷ লাল কেল্লায় যখন এত মানুষ ঢুকে পড়ল, তখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছিলেন?'

    মোদি সরকারকে নিশানা করে রাহুল বলেন, 'আসলে গোটা পরিস্থিতি সরকারের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে৷ সরকার দেশ শাসনে ব্যর্থ৷ তাদের অযোগ্যতা দিন দিন সামনে চলে আসছে৷ বিজেপি নজর ঘোড়াতেই কৃষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে৷ লালকেল্লায় কেউ ঢুকে পড়লে তাদের আটকানোর দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের৷ অর্থনীতি, সম্প্রীতি, প্রতিরক্ষা- সবক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ৷ দেশ বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি৷ সীমান্তে চিন আগ্রাসন দেখাচ্ছে৷ ওরা কী করতে চায়, তা পরিষ্কার৷ কিন্তু আমাদের নীতি পরিষ্কার নয়৷'


    ক্ষুব্ধ রাহুল আরও বলেন, 'কোভিডের সময় যখন অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তখন কৃষকরাই আমাদের রক্ষাকর্তা ছিলেন৷ তাঁরাই আমাদের সবথেকে বড় শক্তি৷ বিজেপি- আরএসএস মিলে তাঁদের মন ভেঙে দিয়েছে৷ গোটা পৃথিবীর সামনে দেশের বদনাম হয়েছে৷ কৃষকদের শেষ করে দিয়ে তার পর বলছেন একটা ফোনের অপেক্ষা! ফোন করে কী হবে, কৃষকরা আইন প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন৷ প্রধানমন্ত্রীর উচিত আইন প্রত্যাহার করা৷' কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, কৃষকদের অধিকার কেড়ে নিয়ে হাতে গোনা কয়েকজন বন্ধুর হাতে তা তুলে দিতে চাইছে মোদি সরকার৷ ঠিক যে ভাবে দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে কয়েকজন বন্ধুর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷

    রাহুল গাঁধি বলেন, 'গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বলেছিলাম কোভিড আমাদের দেশের পক্ষে বিপজ্জনক৷ তখন আমার মন্তব্য নিয়ে হাসিঠাট্টা হয়েছিল৷ আজ আবারও বলছি, দেশ যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তা বিপজ্জনক৷ প্রধানমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ করা৷ প্রধানমন্ত্রীকে আমার আবারও অনুরোধ, আপনার কাজটা করুন৷ আপনার কাজ দেশের সম্পত্তি এক শতাংশ মানুষের কাছে বিক্রি করে দেওয়া নয়৷ আপনার কাজ বাইরে গিয়ে কৃষকদের আলিঙ্গন করে তাঁদের দাবি পূরণ করা৷ দেশের ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা৷ কারণ তাঁরাই চিনের বিরুদ্ধে ভারতের জবাব হতে পারেন৷ আবারও বলছি, নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে দেশ৷'

    এ দিন কেন্দ্রীয় বাজেটেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন রাহুল৷ তাঁর অভিযোগ, ৯৯ শতাংশ মানুষের কথা না ভেবে দেশের এক শতাংশ মানুষের স্বার্থরক্ষা করবে এই বাজেট৷ রাহু এই বাজেট ১ শতাংশ জনসংখ্যার বাজেট৷ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিকদের অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে পাঁচ- দশজন মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ চাহিদা না বাড়লে যোগান বাড়ালে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না৷ এক শতাংশের হাতে পয়সা দিলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না৷ রাহুল গাঁধির অভিযোগ, প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ খুব বেশি না বাড়িয়ে আসলে দেশের সেনাবাহিনীর মনোবলকেই ভেঙে দিয়েছে মোদি সরকার৷ চিনকেও বার্তা দেওয়া হয়েছে, যে দেশের প্রতিরক্ষা নিয়ে চিন্তিত নয় ভারত৷ ফলে তাঁরা আক্রমণ চালাতেই পারে৷ রাহুল কটাক্ষ করে বলেন, 'এ কেমন দেশভক্তি? প্রবল ঠান্ডায় জওয়ানরা লাদাখে সীমান্ত রক্ষা করছেন অথচ প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে না৷'

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: