এ বছর রাষ্ট্রপতি ভবনে হবে না ইফতার পার্টি, সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির

এ বছর রাষ্ট্রপতি ভবনে হবে না ইফতার পার্টি, সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির
ফাইল চিত্র ৷

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপতি ভবনে কোনও ইফতার পার্টির আয়োজন করবেন না রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। রাইসিনা হিলসে কোনওরকম ধর্মীয় অনুষ্ঠান করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    অবশ্য এটাই প্রথম নয়, বছর দশেক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামও রাষ্ট্রপতি ভবনে ইফতার পার্টি বন্ধ করেছিলেন ৷ ২০০৭ সালে প্রতিভা পাটিল সেই পদে আসীন হলে তিনি ফের রাষ্ট্রপতি ভবনে ইফতার পার্টির রেওয়াজ চালু করেন। সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। দশ বছর পরে কালামের দেখানো পথে হাঁটতে চলেছেন কোবিন্দ।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সেক্রেটারি অশোক মালিক জানান, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর রামনাথ কোবিন্দ সিদ্ধান্ত নেন, রাষ্ট্রপতি ভবনের অন্দরে কোনওরকম ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা হবে না। দীপাবলি, ক্রিস্টমাস, হোলির মতো অনুষ্ঠানগুলিও পালন করা হবে না। ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হয়েই দীপাবলি এবং ক্রিস্টমাস পালন বন্ধ করে দিয়েছিলেন রামনাথ কোবিন্দ। সেই সময়েই বোঝা গিয়েছিল যে ২০১৮ সালে রমজান মাসে ইফতার পার্টির আসর বসবে না রাইসিনা হিলে।


    স্বাধীন ভারতের রাজনীতিতে ইফতার পার্টির রেওয়াজ শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হেমাবতি নন্দন বহুগুনার হাত ধরে শুরু হয় সেই প্রথা। যদিও প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু ইফতার পার্টির আয়োজন করতেন তবে তা তিনি কংগ্রেস সদর দফতরে ব্যক্তিগতভাবে আয়োজন করতেন। এরপরে ১৯৮০ সালে পুনরায় ক্ষমতা দখলের পরে সাড়ম্বরে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। এর পিছনে ভোট ব্যাংকের স্বার্থ কাজ করেছিল বলে দাবি করেন অনেকে। তারপর থেকে দ্বিতীয় ইউপিএ জমানা পর্যন্ত দেশের সকল প্রধানমন্ত্রীই ইফতার পার্টির আয়োজন করে এসেছেন। তালিকায় বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীও রয়েছেন।

    ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সেই ধারা বন্ধ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। এমনকি রাষ্ট্রপতি ভবনে বা অন্যান্য প্রশাসনিক দফতরের ইফতারও তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর মন্ত্রী সভার অন্য একাধিক সদস্য ইফতারে অংশ নিলেও নিজেকে এসবের থেকে দূরেই রেখেছেন মোদী। যে ধারা এখনও অক্ষত রয়েছে। ব্যস্ততার অজুহাতেই ইফতার এড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর জন্য অন্য কোনও কারণ দেখান হয়নি।

    First published: