সাধারণতন্ত্র দিবস ২০২১: ৫৫ বছরে প্রথম, থাকছেন না কোনও প্রধান অতিথি, বাতিল মোটর সাইকেল স্টান্টও!

সাধারণতন্ত্র দিবস ২০২১: ৫৫ বছরে প্রথম, থাকছেন না কোনও প্রধান অতিথি, বাতিল মোটর সাইকেল স্টান্টও!
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু করোনা সংক্রমণ বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষদের তাড়াতাড়ি হতে পারে, তাই এই দুই অংশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু করোনা সংক্রমণ বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষদের তাড়াতাড়ি হতে পারে, তাই এই দুই অংশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাস (Coronavirus) প্যানডেমিকের জেরে পালটেছে একাধিক পরিস্থিতি। এবার পালটাচ্ছে সাধারণতন্ত্র দিবসের বহু পুরনো প্যারেডের চিত্র। আগামীকাল ৭২তম সাধারণতন্ত্র দিবস। সেই উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো প্যারেডের আয়োজন হয়েছে রাজপথে। কিন্তু করোনার কথা মাথায় রেখে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কুচকাওয়াজে অনেকটাই পরিবর্তন করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে আন্দোলন পরিস্থিতিতে এই নিয়ে দ্বিতীয় বছর রাজধানীর বুকে কুচকাওয়াজ হতে চলেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়েছিল দিল্লিতে। এবার সেই একই পরিস্থিতি, কিন্তু প্রেক্ষাপট আলাদা। নয়া কৃষি বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথে নেমেছেন হাজার হাজার কৃষক। আগামীকাল দিল্লিতে তাঁদের ট্রাক্টর মিছিল করার কথাও রয়েছে।

জানা গিয়েছে, এই বছর করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একাধিক পরিবর্তন আসছে অনুষ্ঠানে। কমছে প্যারেডের রুট, কমছে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি।


কোনও প্রধান অতিথি থাকছেন না

৫৫ বছরে এই প্রথম প্রথা ভেঙে কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবেন না কোনও প্রধান অতিথি। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয় চলতি মাসের শুরুতেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এ বছর সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে কোনও প্রধান অতিথি থাকবেন না।

যদিও শুরুতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে (Boris Johnson) কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, পরে পরিস্থিতি পালটে যাওয়ায়, বিশেষ করে ব্রিটেনে করোনার নতুন স্ট্রেইন পাওয়ায় বরিস জনসন নিজেই ভারতে আসবেন না বলে জানিয়ে দেন।

কম সংখ্যক মানুষজনের প্রবেশ

সংবাদ সংস্থা PTI-এর খবর অনুযায়ী, গত বছর ১.২৫ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল এই অনুষ্ঠানে। কিন্তু এই বছর সেই সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মোট ১৫ হাজার মানুষ উপস্থিত থাকছেন বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪,৫০০ জন টিকিট কেটে অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি টিমের প্রত্যেক সদস্যকে করোনা নির্দেশিকা মেনে মুখে মাস্ক পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের সংখ্যাও।

পাশাপাশি, অনুষ্ঠান দেখার জন্য যে বসার জায়গা রয়েছে, তাতেও অনেকটা দূরত্ব রাখা হয়েছে।

প্যারেডের আকার ছোট করে দেওয়া হচ্ছে

সাধারণত বিজয় চক থেকে লাল কেল্লা পর্যন্ত ৮.২ কিলোমিটারের যে লম্বা প্যারেডের আয়োজন প্রতি বছর হয়, তাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার লাল কেল্লার পরিবর্তে ন্যাশনাল স্টেডিয়াম পর্যন্ত এই প্যারেড চলবে। অর্থাৎ ৩.৩ কিলোমিটার হবে প্যারেডের আকার।

Indian Express-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩২টি ট্যাবলো লাল কেল্লায় অনুষ্ঠানে যোগ দেবে। যার মধ্যে লাদাখের ট্যাবলো থাকবে প্রথমবারের জন্য।

সেফ বাবলের ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা

সেনা দিবস ও সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডের কথা মাথায় রেখে ২০২০-র নভেম্বর মাসেই দিল্লিতে উপস্থিত হয়েছেন দু'হাজারেরও বেশি সেনা আধিকারিক। তাঁদের প্রত্যেককেই সেফ বাবলে রাখা হয়েছে।

সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষার্থে নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে দিল্লি পুলিশ। শহরের প্রায় ৭৫ শতাংশ পুলিশ আধিকারিক অর্থাৎ ৮৭ হাজার পুলিশ আগামীকাল অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় থাকবেন।

এ দিকে, তৃতীয়বারের জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১২২ জন সেনা আধিকারিক প্যারেডে অংশ নেবেন।

বেশ কিছু অংশ বাতিল করা হয়েছে

ভেটেরানস প্যারেড, ন্যাশনাল ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড বাতিল করা হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু করোনা সংক্রমণ বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষদের তাড়াতাড়ি হতে পারে, তাই এই দুই অংশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও বাতিল করা হয়েছে মোটরসাইকেল স্টান্টস।

এত কিছু মাথায় রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও ভাবাচ্ছে আগামীকাল আন্দোলনরত কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিল। ইতিমধ্যেই সেই মিছিলের অনুমতি পুলিশ তাঁদের দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। যদিও দিল্লির পুলিশের PRO অনিল মিত্তল জানিয়েছেন, কৃষকদের মিছিল করতে দেওয়া হবে কি না তা এখনও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কৃষকদের মিছিলের প্রভাব প্যারেডে পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ কৃষকরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্যারেড শেষ হওয়ার পরই মিছিল শুরু করবেন এবং প্যারেডের এলাকায় মিছিল না-ও হতে পারে।

তবে, কৃষক নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মোট ১০০টি রুটে মিছিল করবেন।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

লেটেস্ট খবর