Video:'বাবার কাছে ফোন আসে,গিয়ে দেখি নির্ভয়ার দেহ রক্তে ভাসছে!'ফ্ল্যাশব্যাকে ১৬ই ডিসেম্বরের রাত

Video:'বাবার কাছে ফোন আসে,গিয়ে দেখি নির্ভয়ার দেহ রক্তে ভাসছে!'ফ্ল্যাশব্যাকে ১৬ই ডিসেম্বরের রাত
▪ নির্ভয়ার সঙ্গে মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই দেশেবাসী দাঁড়িয়েছে তার মায়ের পাশে, এই লড়াইয়ে সামিল হতে৷ তাই যতদিন না ফাঁসির সাজা মিলছে, ততদিনই তারা লড়াই চালিয়ে গিয়েছে৷ যা শুক্রবার ২০ মার্চ শেষ হল৷
  • Share this:

#নয়াদিল্লি: সেই রাত ছিল ভয়ঙ্কর৷ রাত ১১.৩০ নাগাদ ওর বাবার কাছে ফোন আসে পুলিশের থেকে৷ আমরা দু’জেন ছুটে যাই হাসপাতালে৷ গিয়ে দেখি আমাদের মেয়ে রক্তে ভাসছে৷ দেখে মনে হল যেন পশুর খাঁচা থেকে বার করে আনা হয়েছে নির্ভয়াকে৷ ধর্ষকদের ফাঁসির সাজার পর ১৬ ডিসেম্বরর ২০১২ রাতের মর্মান্তিক অভিজ্ঞার ফ্ল্যাশব্যাক হল নির্ভয়ার মায়ের কথায়৷ ধর্ষকদের ফাঁসির পর তার মুখোমুখি হল News18৷

ধর্ষকদের ফাঁসির পর তিনি খুশি৷ বলছেন যে অবশেষে মেয়ের ন্যায়বিচার হল৷ তবে সেইদিন ঠিক কী হয়েছিল উঠে এসেছে তার কথায়৷ তিনি জানিয়েছেন যে ১৬ই ডিসেম্বরের শীতের রাতে সফদরজং হাসপাতাল থেকে পুলিশ তাদের ফোন করেন৷ শুনেই তড়িঘড়ি ছুটে যান তারা৷ গিয়ে দেখতে পান যে মেয়ের শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে৷ হাসপাতালের ইউনিফর্ম পরানো হয়েছিল নির্ভয়াকে৷ কিন্তু সেই পোশাক উপেক্ষা করেই রক্তে ভেসেছিল মেয়ের দেহ৷ সারা শরীরজুড়ে ছিল ক্ষতচিহ্ন৷ এমনকী কিছু জায়গায় মাংসও বেরিয়ে এসেছিল, জানিয়েছেন আশাদেবী৷

কাউকে এই খবর আমরা জানানোর সময় পাইনি৷ দু’দিন ধরে হাসপাতালেই ছিলাম৷ বলছেন তিনি৷ খবর ছড়িয়ে পড়তেই তারপর একে একে সব আত্মীয় বন্ধুরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ শুরু হয় নির্ভয়ার চিকিৎসা৷ কিন্তু মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা সম্ভব হত না তাদের ৷ কারণ নির্ভয়া খুব দুর্বল ছিলেন এবং চিকিৎসকরাও বেশি কথা না বলতে মানা করতেন৷ মেয়ের কী হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, সেসবও জিজ্ঞাসা করতে বারণ করা হয়েছিল৷

মা বলছেন যে মেয়ের শরীরে নানা অস্ত্রোপচার হয়েছিল৷ রক্তও দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু তা অনেক সময়ই নিতে পারেননি নির্ভয়া৷ শরীর থেকে সেই রক্ত বেরিয়ে আসত৷ চোখে-মুখেই স্পষ্ট ছিল ক্লান্তি ও ধকলের ছাপ৷ তাই এই অবস্থায় মেয়ের সঙ্গে সেভাবে কোনও কথাই হয়নি তাদের৷ ঠিক করে কথা বলতেও সমস্যা হত নির্ভয়ার বলছেন আশাদেবী৷ সেই সব দিনের স্মৃতি কখনও ভোলার নয়৷

সেই সময় ছিল দুর্বিশহ৷ ছোট বাচ্চাদের ঘরে রেখেই নির্ভয়ার জন্য ছু়টেছেন তার মা ও বাবা৷ দু’দিন তারা বাড়িতে একলাই ছিল৷ কোনও খাবার জোটেনি তাদের৷ কারণ মেয়েকে হাসপাতালে দেখে মাথার ঠিক ছিল না নির্ভয়ার বাবা মায়ের৷ তার বুঝেই উঠতে পারছিলেন না কী করবেন৷ ২ দিন পর মেয়ের হুশ ফেরে, তখনই বাড়িতে বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা৷ মেয়ের সঙ্গে কাটানো শেষ সময়ের স্মৃতি যেন এখনও টাটকা আশাদেবীর৷

First published: March 20, 2020, 8:56 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर