দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'আমার অন্নদাতা ওঁরাই,' পরিযায়ী শ্রমিকদের বিমানে চড়িয়ে কাজে ফেরাচ্ছেন এই ব্যক্তি

'আমার অন্নদাতা ওঁরাই,' পরিযায়ী শ্রমিকদের বিমানে চড়িয়ে কাজে ফেরাচ্ছেন এই ব্যক্তি
প্রতীকী চিত্র।

সংবাদমাধ্যমের তরফে যোগাযোগ করা হলে সাদামাটা মানুষটা বলেন, ২০ বছর ধরে আমার পরিবারকে বাঁচিয়ে রেখেছে ওঁরা! ওঁদের জন্য ভাবন না তো কার জন্যে ভাবব!"

  • Share this:

#পটনা: পরিযায়ী শ্রমিকদের দীর্ঘ পথ হাঁটার আখ্যান গত কয়েক মাসে বারবার সংবাদপত্রে জায়গা করে নিয়েছে। অসহায় মানুষগুলোর যন্ত্রণা বিদ্ধ করেছে কয়েক কোটি দেশবাসীর হৃদয়। কিন্তু এ যেন উলাটপুরাণ। কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন যাঁরা, তাঁরাই এবার কাজে ফিরছেন বিমানে চড়ে।

হ্যাঁ, দিল্লির এক মাশরুম চাষি পাপ্পন সিং তাঁর জমিতে কাজ করা ২০ জন পরিযায়ী শ্রমিককে কাজে ফেরাচ্ছেন বিমানে চড়িয়েই। নিজের ফার্মে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

করোনার সঙ্গে লড়তে মার্চ মাসে লকডাউন ঘোষিত হয় এ দেশে। দেশের অন্য প্রান্তের মতোই রাজধানীতে আটকে যান বিহারের সমস্তিপুরের বাসিন্দা এই শ্রমিকরা। অবশেষে মে মাসে ঘরে ফেরেন তাঁরা।

মাশরুম চাষের মরশুম হল অগাস্ট থেকে এপ্রিল। আগেভাগে জমি তৈরি করতে হয়। ফলে জুন থেকেই তাঁদের ফেরার কাজে ফেরার কথা বলেন ওই মাশরুম চাষী। এদিকে বারবার ট্রেনের টিকিট কাটতে চেষ্টা করলেও আসন না পেয়ে ফার্ম মালিককে জানান তাঁরা।

নবীন রাম নামের এক ক্ষেতমজুর বলেন, "আমাদের পরিস্থিতি শুনে মালিক বলেন চিন্তা করতে হবে না। তিনি বিমানের টিকিট কেটে দেবেন তিনি। দিন কয়েকের মধ্যেই আমাদের টিকিট কেটেও পাঠান তিনি। সেই টিকিট কাটতে খরচ হয় ১ লক্ষ টাকারও বেশি।"

কেমন লাগছে বিমানে চড়ার কথা ভেবে? নবীন সংবাদমাধ্যকে বলেন, "অবশ্যই ভালো লাগছে। কিন্তু এই প্রথম নয়, বিমান পরিষেবা চালু হতেই আমাদের মালিক আমাদের বিমানেই বাড়ি ফিরিয়েছিলেন।"

স্বাভাবিক ভাবেই জানতে ইচ্ছে হয়, কে এই পাপ্পন সিং! সংবাদমাধ্যমের তরফে যোগাযোগ করা হলে সাদামাটা মানুষটা বলেন, ২০ বছর ধরে আমার পরিবারকে বাঁচিয়ে রেখেছে ওঁরা! ওঁদের জন্য ভাবন না তো কার জন্যে ভাবব!"

এর পর আর একটা কথাই হয়তো বলার থাকে, সকলেই যদি এভাবে ভাবতে পারত, তা হলে দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের বুকের পাথরটা হয়তো একটু নামত।

Published by: Arka Deb
First published: August 26, 2020, 3:04 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर