নোট বাতিলে ক্ষোভ কমাতে জনতাতুষ্টিই জেটলির মূল বাজেট দর্শন

নোট বাতিলে ক্ষোভ কমাতে জনতাতুষ্টিই জেটলির মূল বাজেট দর্শন

নোটবাতিলের জেরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ সামলাতে বাজেট হাতিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের। গোদের ওপর বিষফোড়া, পাঁচ রাজ্যের ভোট।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: নোটবাতিলের জেরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ সামলাতে বাজেট হাতিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের। গোদের ওপর বিষফোড়া, পাঁচ রাজ্যের ভোট। সরকার বিরোধিতার সুর জোরালো হওয়ার আগে, গরিব, কৃষক ও মধ্যবিত্তের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন অরুণ জেটলি। সাবধানী বাজেটে, কেন্দ্রীয় সরকারকে কৃষক ও গরিব দরদী হিসেবে তুলে ধরতে, চেষ্টার খামতি রাখেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

নোটবাতিলের জেরে প্রবল হয়রানির মুখে পড়ে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও কৃষক। ক্রমশই দানা জোরালো হতে থাকে সরকার বিরোধিতার সুর। পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ-সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটে সেই বিরোধিতার সুরই হয়তো আছড়ে পড়ত ইভিএমে। সেই বিরোধিতার উত্তাপ আঁচ করেই, বাজেটে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।

বাজেট বক্তৃতা শুরুতে দশটি কারণ বলেন অরুণ জেটলি, তার মধ্যে কৃষকদের আয়বৃদ্ধি, গ্রামে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো, যুবকদের জন্য শিক্ষা, গরিবদের জন্য স্বাস্থ্য বিমা, জীবনের মানোন্নয়ন ৷

নোটবাতিলে ধাক্কা খেয়েছে রবি ও খরিফ চাষ। অথচ সামনেই উত্তরপ্রদেশ-পঞ্জাবের মতো কৃষি প্রধান রাজ্যে ভোট। কৃষকের সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতেই কি কৃষিক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব?

বাজেটে কৃষিতে গুরুত্ব

- আগামী ৫ বছরে কৃষিক্ষেত্রে আয় দ্বিগুণ করার ঘোষণা

গ্রামীণ কৃষিক্ষেত্রে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

- কৃষিক্ষেত্রে বৃদ্ধির হারের লক্ষ্যমাত্রা ৪.০১%

- ফসল বিমা যোজনায় ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

- ৪০% জমি বিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা

ইউপিএ আমলেই চালু হয় একশো দিনের কাজ বা মনরেগা প্রকল্প। সেসময় খয়রাতি দিয়ে ভোট কেনার প্রকল্প বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি তৎকালীন বিরোধী বিজেপি। এবার সে মনরেগাতেই রেকর্ড বরাদ্দবৃদ্ধি করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

MGNREGA-এ রেকর্ড বরাদ্দ

- ১০০ দিনের কাজে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা

- ১ বছরে ১০ লক্ষ পুকুর খননের পরিকল্পনা

বাজপেয়ী সরকারের আমলে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা ও নানা গ্রামীণ প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। দেওয়া হয়েছে নতুন প্রতিশ্রুতিও।

গ্রামমুখী নানা প্রকল্প

- গ্রামে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

- প্রতি দিন ১৩৩ কিমি রাস্তা নির্মাণ

- ১ কোটি মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে আনার প্রতিশ্রুতি

- ২০১৯ সালের মধ্যে ৫০ হাজার পঞ্চায়েত দারিদ্র মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি

- দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণে বরাদ্দ ৮ হাজার কোটি টাকা

- উত্তর-পূর্ব ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরে ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে

- প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

- ২০১৯ সালের মধ্যে ১ কোটি মানুষের পাকা ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি

কথায় বলে, পাঁচ বছরের কোনও সরকারের তৃতীয় বছরের বাজেট করা বেশ কঠিন। তার ওপর নোটবাতিলের হার্ডল। সেসব ক্ষত সামলাতে, বাজেটে সরকারের গ্রাম ও গরিব দরদী মুখই তুলে ধরলেন অরুণ জেটলি।

First published: 05:08:31 PM Feb 01, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर