Indian Railways: মিজোরামে রেল সংযোগ ব্যবস্থার ফলে যুগান্তকারী পরিবর্তন! প্রথমবার FCI ফুড ফুড গ্রেন কার্গো ট্রেন পৌঁছাল সাইরাং
- Reported by:ABIR GHOSHAL
- Published by:Ankita Tripathi
Last Updated:
Indian Railways: ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফসিআই)-এর প্রথম ফুড গ্রেন কার্গো ট্রেন ৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সাইরাং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়
যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে, মিজোরামে রাজ্য জুড়ে যাত্রী পরিবহন এবং পণ্য পরিবহন, উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নয়ন কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিই করেনি বরং অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রেও অবদান রেখেছে এবং এই অঞ্চলে পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করেছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাইলফলকে, ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফসিআই)-এর প্রথম ফুড গ্রেন কার্গো ট্রেন ৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সাইরাং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এই কার্গো ট্রেনে ৪২টি ওয়াগন ছিল, যেখানে পাঞ্জাব থেকে প্রায় ২৫,৯০০ কুইন্টাল চাল সরবরাহ করা হয়। এটি রাজ্যে রেল-বেসড ফ্রেইট কানেক্টিভিটিকে মজবুত করার এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
advertisement
advertisement
এফসিআই রেকটিকে স্টেশনে মিজোরাম সরকারের খাদ্য, সামরিক সরবরাহ ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী বি. লালছানজোভা, রাজ্যসভার সাংসদ কে. ভানলেলভেনা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গ্রহণ করেন। সাইরাং-এ এফসিআই খাদ্যশস্য আসা রেকের সফল আনলোডিং স্টেশনের ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষমতাকে প্রদর্শন করে এবং মিজোরামের লজিস্টিক ও খাদ্য বিতরণ নেটওয়ার্ককে সমর্থন করার ক্ষেত্রে রেলওয়ে পরিকাঠামোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তুলে ধরে।
advertisement
উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্বারা ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে ৫১.৩৮ কিলোমিটার ভৈরবী-সাইরাং রেলওয়ে লাইনের উদ্বোধন, মিজোরামের জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল। এই বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পটি আইজলকে ভারতরে রেলওয়ে মেপে নিয়ে এসেছে, কারণ এর মাধ্যমে রাজ্যটি সরাসরি ভারতের রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি, নতুন রেললাইনের ফলে অর্থনৈতিক বিকাশ এবং পর্যটন উন্নয়নকে উৎসাহিত করা জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
advertisement
মিজোরামে পর্যটনের গতি বৃদ্ধি:
মিজোরামে নতুন চালু হওয়া রেল লাইন পর্যটনকে উৎসাহিত করেছে, গত ছয় মাসে রাজ্যে আসা পর্যটকের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।মিজোরামে রেল পরিষেবা এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যখন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে “নর্থ ইস্ট ডিসকভারি” সার্কিটের অধীনে প্রথমবারের মতো ভারত গৌরব ডিলাক্স এসি ট্যুরিস্ট ট্রেনের সাইরাং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এই প্রিমিয়াম ট্যুরিস্ট ট্রেন, যেখানে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং নেপালের মতো অন্যান্য দেশ থেকে ৮১ জন পর্যটক নিয়ে এসেছিল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে মিজোরামের ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতির প্রতিফলন ঘটায়। উন্নত অ্যাক্সেসযোগ্যতা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে, যার ফলে আতিথেয়তা এবং সংশ্লিষ্ট সেক্টরগুলিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিহচ্ছে, ইকো-ট্যুরিজম এবং কালচারেল ট্যুরিজমকে উৎসাহিত করছে এবং মিজোরামকে ইনক্লুসিভ গ্রোথ এবং আঞ্চলিক একীকরণের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি উদীয়মান গন্তব্য হিসাবে স্থান দিচ্ছে।
advertisement
যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি:
সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ভৈরবী-সাইরাং রুটে ট্রেন পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া অভূতপূর্ব রয়েছে। সাইরং-আনন্দ বিহার রাজধানী এক্সপ্রেসের উভয় দিকেই যাত্রী সংখ্যা ১৫০% থেকে অধিক অকুপ্যান্সি রয়েছে। সাইরং-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস এবং সাইরং-কলকাতা এক্সপ্রেস একইভাবে ১০০% এরও বেশি যাত্রী অকুপ্যান্সি অর্জন করেছে, যা স্পষ্টতই সাইরং থেকে রেল পরিষেবার চাহিদা এবং জনসাধারণের গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন ঘটায়। গত মাসে, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, মাননীয় রেলমন্ত্রী সাইরাং থেকে শিলচর পর্যন্ত একটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেছেন, যার ফলে আঞ্চলিক গতিশীলতাকে আরও মজবুত হয়েছে এবং মিজোরাম অসমের বরাক উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, চিকিৎসা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত হয়েছে।
advertisement
মিজোরামে মালবাহী প্রদর্শন:
ভৈরবী-সাইরাং সেকশন চালু হওয়ার পর থেকে পণ্য পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে গতি পেয়েছ। উল্লেখ্য, উদ্বোধনের পরেই ২১টি সিমেন্ট ওয়াগনের প্রথম মালবাহী রেকটি সফলভাবে সাইরাং পৌঁছায়, ফলে রাজ্যে নিয়মিত মালবাহী পরিবহনের সূচনা হয়। সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত, সাইরাং টার্মিনাল ৩০টিরও বেশি মালবাহী রেক হ্যান্ডেল করেছে, যা মিজোরামে রেল-বেসড কার্গো পরিবহনের ধীরে ধীরে বিকাশের ইঙ্গিত দেয়। এই সময়ের মধ্যে, টার্মিনালে ৩.৫ রেক সিমেন্ট আনলোড করা হয়। সিমেন্ট ছাড়াও, রেলের মাধ্যমে সহবরাহকৃত অন্যান্য পণ্যের মধ্যে অটোমোবাইল (২টি রেক), সার (০.৫ রেক), স্টোন চিপস (২০.৫ রেক) এবং বালি (৪টি রেক) রয়েছে। এই বিভিন্ন ধরণের পণ্যের হ্যান্ডিলং থেকে দেখা যাচ্ছে যে সাইরং-এর ব্যবহার একটি উদীয়মান মালবাহী কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে, যা পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে সমর্থন করে এবং রাজ্যে নির্মাণ সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ উন্নত করে।
advertisement
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১১৯টি যাত্রীবাহী যানবাহন বহনকারী প্রথম অটোমোবাইল রেক ডিসেম্বর ২০২৫-এ সাইরাং পৌঁছেছে, যার ফলে দেখাযাচ্ছে যে এই রেল লাইনের উচ্চ-মূল্যের বাল্ক কনসাইনমেন্ট পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে পার্সেল লজিস্টিক শক্তিশালী করার জন্যও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে উদ্যানপালন এবং পচনশীল পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে রেফ্রিজারেটেড পার্সেল ভ্যান পরিষেবা চালু করা রয়েছে, যার ফলে স্থানীয় কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বাজার অ্যাক্সেস সম্প্রসারিত হবে।
রেল যোগাযোগের সম্প্রসারণ মিজোরামের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করে, অর্থনৈতিক বিকাশকে প্রোৎসাহিত করে এবং পর্যটন বৃদ্ধির মাধ্যমে, রেলওয়ে রাজ্যের রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকায়, মিজোরাম উত্তর-পূর্ব ভারতে একটি সহজলভ্য এবং আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে ক্রমশ আবির্ভূত হচ্ছে।
দেশের সব লেটেস্ট খবর ( National News in Bengali ) এবং বিদেশের সব খবর ( World News in Bengali ) পান নিউজ 18 বাংলায় ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং টপ হেডলাইন নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ ডাউনলোড করুন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-এ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Mar 06, 2026 2:20 PM IST









