নাবালিকার হাত ধরা, প্যান্টের চেন খুলে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন যৌন নির্যাতন নয়, রায় বম্বে হাইকোর্টের

নাবালিকার হাত ধরা, প্যান্টের চেন খুলে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন যৌন নির্যাতন নয়: বম্বে হাইকোর্ট (প্রতীকী ছবি)

হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও নাবালিকার হাত ধরা বা তার সামনে প্যান্টের চেন খোলা পকসো আইনের ধারায় যৌন হেনস্থা নয়।

  • Share this:

    #নাগপুর: জামার ওপর দিকে গোপনাঙ্গ স্পর্শ করা যেমন যৌন নির্যাতন (Sexual Assault) নয়, ঠিক সেভাবেই নাবালিকার হাত ধরা বা প্যান্টের চেন খোলা যৌন হেনস্থা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি পুষ্পা গানেদিওয়ালার সিঙ্গেল বেঁচের এ হেন রায়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

    হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও নাবালিকার হাত ধরা বা তার সামনে প্যান্টের চেন খোলা পকসো আইনের ধারায় যৌন হেনস্থা নয়। উল্লেখ্য, বিচারপতি গানেদিওয়ালা সম্প্রতি আরও একটি বিতর্কিত রায় দেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, জামার ওপর দিয়ে অর্থাৎ নাবালিকার বুকে সরাসরি হাত না দিলে তা পকসো আইনের (POCSO) আওতায় যৌন হেনস্থা নয়। কারণ পকসো আইনে 'স্কিন টু স্কিন' কনট্যাক্টের কথা বলা হয়েছে। যদিও বিচারপতির এই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

    কোন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায়? জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ২০০৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির। সেদিন এক মহিলা তাঁর নাবালিকা মেয়েকে বাড়িতে রেখে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় এক বছর পঞ্চাশের ব্যক্তি লিবনুস কুজুর তাঁদের বাড়িতে ঢুকে মেয়েকে শ্লীলতাহানি করে, এমনই অভিযোগ করেন তিনি। ওই নাবালিকার মা জানান, অভিযুক্ত তাঁর মেয়ের হাত ধরেছিল, মেয়ের পোশাক অবিন্যস্ত ছিল। মামলায় ৩৫৪ (১) (i) (শ্লীলতাহানি), ৪৪৮ (বিনা অনুমতিতে বাড়িতে ঢোকা) এবং পকসো আইনের ৪ (যৌন নির্যাতন), ১০ (aggravated sexual assault) and ১২ (sexual harassment) ধারায়  দোষী সাব্যস্ত হয় কুজুর। পাঁচ বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয় তাকে। কিন্তু  যথেষ্ট প্রমাণ নেই বলে গুরুতর যৌন হেনস্থার যে অভিযোগ ছিল, সেটা খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। কুকুরকে আইপিসির 354-A(1)(i) ধারায় পাঁচ মাসের জেলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ইতিমধ্যেই সেই মেয়াদ সম্পন্ন হয়েছে।

    তবে সেই মামলার প্রেক্ষিতেই বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর সিঙ্গল বেঞ্চ নজিরবিহীন এই রায় দিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯ জানুয়ারি আরও একটি উল্লেখযোগ্য রায় দেয় বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চের বিচারপতি গানেদিওয়ালা। সেক্ষত্রে ৩৯ বছরের এক ব্যক্তি সতীশের বিরুদ্ধে ১২ বছরের এক কিশোরীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ছিল। সেই রায়ে বিচারপতি বলেন, জামার ওপর দিয়ে শরীর স্পর্শ করলে, তা পকসো আইনে যৌন হেনস্থা নয়।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: