পথ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন নাসিরুদ্দিন শাহ ! আপনি কখন এগোবেন ?

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Jun 14, 2019 03:49 PM IST
পথ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন নাসিরুদ্দিন শাহ ! আপনি কখন এগোবেন ?
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Jun 14, 2019 03:49 PM IST

#কলকাতা: বিশ্বে পরিবর্তন ঘটছে প্রতিনিয়ত। জীবনের সব কিছুতেই ঘটে চলেছে অগ্রগতি। তবে এরই সঙ্গে মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবোধ ৷ সঙ্গে কমে যাচ্ছে মানবিকতাও। অমানবিক বিষয়টি ঠিক তখনই প্রকাশ্যে চলে আসে যখন চোখের সামনে আমরা একটি পথ দুর্ঘটনা হতে দেখি কিংবা পথ দুর্ঘটনায় আহতদের পড়ে থাকতে দেখি।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনও উদ্বেগ ছাড়াই শুধুই কৌতুহল নিয়ে সকলে দাঁড়িয়ে দেখেন। সব থেকে নিম্নরুচির বিষয় হল যাঁরা নিজেদের স্মার্টফোন বার করে পুরো দুর্ঘটনার ছবি তোলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে তা আপলোড করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফার্স্ট এডের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স কিংবা প্রশাসনের কাউকে কল করার কোনও চেষ্টা করাও হয় না।

এই বিষয়টির পরিবর্তন ঘটতে পারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে। দুর্ঘটনার প্রথম ৬০ মিনিটে কী করা উচিত সেই সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। নাসিরুদ্দিন শাহ, দেশের অন্যতম সেরা অভিনেতা এবং পরিচালক এই বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন এবং এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। ভারতে প্রতি ঘণ্টায় ১৮জন পথদুর্ঘটনায় আহত হন। জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যেই সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ।

গোল্ডেন আওয়ার

সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি জানা উচিত- একটি পথদুর্ঘটনায় আহতকে প্রথম এক ঘণ্টায় যদি সঠিক চিকিৎসাটি দেওয়া যায় তাহলে আহতের জীবন বাঁচানো যেতে পারে, এই প্রথম ঘণ্টাটিই হল গোল্ডেন আওয়ার।

Loading...

দুর্ঘটনা হওয়ার পর প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই যদি ক্ষতিগ্রস্তকে ঠিকমতো সাহায্য করা যায় তাহলে শুধুমাত্র যে আহতের জীবনই বাঁচানো যাবে তা নয়, তার সঙ্গে তাঁর ক্ষতস্থানগুলির যন্ত্রণাও কিছুটা প্রশমিত করা যাবে।

কেন একজন দুর্ঘটনায় আহত মানুষকে সাহায্য করতে সাধারণ মানুষ ভয় পান

• তাঁরা জানেন না অ্যাম্বুল্যান্স আসা পর্যন্ত ঠিক কী করা উচিত। যেমন অনেকই এটা ভেবে ভয় পান যে আহতকে স্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলে কিংবা তাঁকে ধরে তুললে তাঁর শরীরে ক্ষতস্থানগুলি আরও বেড়ে যেতে পারে, কারণ বেশিরভাগ মানুষই এমার্জেন্সি এক্সপার্ট নয়।

• পুলিশের মামলায় ফেঁসে যাওয়া কিংবা থানা এবং হাসপাতালে যাওয়া আসা লেগে থাকার ভয় থাকে।

• পুলিশের দ্বারা আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়া, তার সঙ্গে অকারণে ব্যক্তিগত সময় নষ্ট এবং নিজের কাজের ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকে। যদি এই ক্ষেত্রে বলে রাখা উচিত পথ দুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্যের জন্য দিল্লি সরকার ২০০০ টাকা পুরস্কার এবং প্রশংসাপত্রের কথা ঘোষণা করেছেন।

• পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া, রিপোর্ট দেওয়া এবং প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বয়ান দেওয়ার বিষয়ে অনিহা থাকে।

• পথদুর্ঘটনার পর আইনি ঝুট ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে।

কীভাবে প্রথম ৬০ মিনিটে জীবন বাঁচানো যাবে

• ১০৮ কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন।

• শহরের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটলে ১০০ ডায়াল করে পুলিশকে জানান।

• ডায়াল করুন ১০৩৩। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথোরিটি অফ ইন্ডিয়ার একটি ২৪ঘণ্টার টোল ফ্রি হেল্পলাইন রয়েছ “১০৩৩”। ন্যাশনাল হাইওয়েতে দুর্ঘটনা অথবা অন্য যে কোনও আপদকালীন সাহায্য দেওয়া হয় এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে। জরুরি হলে এই নম্বরে কল করুন এবং অপেক্ষা করুন https://ihmcl.com/24x7-national-highways-helpline-1033/

• আহতের মোবাইলের কন্ট্যাক্ট লিস্ট ঘেঁটে তাঁর পরিবার পরিজনদের ফোন করে বিষয়টি জানান। যদি ফোন লক থাকে তাহলে হোম স্ক্রিনে অনেক সময় এমার্জেন্সি কন্ট্যাক্ট নম্বর সেভড (ICE) থাকতে পারে, সেইক্ষেত্রে সেই নম্বরে ফোন করুন।

• জড়ো হয়ে যাওয়া ভিড়কে শান্ত করুন, নিশ্চিত করুন যাতে হাওয়া এবং অক্সিজেন ঠিকঠাক আহতের কাছে পৌঁছতে পারে।

• কয়েকজনকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বলুন যাতে কোনও গাড়ি হঠ্যাৎ দাঁড়িয়ে না পড়ে কারণ গাড়ি দাঁড়ালেই আবার অহেতুক ট্রাফিক জ্যাম হবে।

• রাস্তার ডানদিক থেকে যাতে অ্যাম্বুলেন্স আসতে পারে তা নিশ্চিত করুন এবং বাকি সব গাড়িকে ডানদিক দিয়ে যাওয়ার সঙ্কেত দিন এবং কোনও গাড়ি যেন কৌতুহলবশত দুর্ঘটনাস্থলের কাছে গাড়ি ধীরগতি না করে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

• যদি আহত ব্যক্তি হেলমেট পড়ে থাকেন তাহলে খুবই ধীরে মাথা না ঝাঁকিয়ে হেলমেটের স্ট্র্যাপ খুলুন অথবা হেলমটটি পুরোপুরি খুলে ফেলুন।

• আহতের জামা কাপড় ঢিলে করে দিন। যদি আপনি জানেন কীভাবে ফার্স্ট এড দিতে হয় তাহলে ফার্স্ট এড দিন। না জানলে প্যারামেডিক্স অথবা অন্য পেশাদার সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

• আহতের রক্ত বেরোচ্ছে এমন যদি কোনও ক্ষতস্থান থাকে, দেখুন সেই ক্ষতস্থানে কোনও কিছু ঢুকে গিয়েছে নাকি। কিন্তু সেটি বার করার চেষ্টা করবেন না কারণ এরফলে রক্তকোষ কিংবা নার্ভকে আরও ক্ষতি করতে পারে এবং রক্তক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে।

• একটি পরিষ্কার কাপড়ে ক্ষতস্থানে রক্তকে শুষে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

• যদি হাতে পায়ে রক্ত ক্ষরণ হয় তাহলে হাত, পা-কে কিছুটা ছড়িয়ে দিয়ে কাপড় দিয়ে রক্তক্ষরণ শুষে নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।

• যদি আহতের মুখ থেকে রক্ত বেরোয় কিংবা সে যদি বমি করে তাহলে তাহলে তাঁর শরীর যে পাশে আছে তার থেকে অন্য পাশে ঘুরিয়ে দিন। এর ফলে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া আটকানো যেতে পারে।

• ক্ষতস্থানের চারিদিকে হাল্কা প্রেসার দিন এবং আঘাতপ্রাপ্ত জায়গার আশপাশের চামড়ায় চাপ দিয়ে ক্ষতস্থানের মুখটি বন্ধ করার চেষ্টা করুন। এটা হয়তো রক্ত ক্ষরণ কমিয়ে দেবে কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু থেকে বাঁচানো যেতে পারে।

• যদি ব্যক্তি খুব মারত্মকভাবে জখম হন এবং সাহায্য আসতে দেরি হয় তাহলে তাঁকে নিয়ে কাছাকাছি কোনও হাসপাতালে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করুন, যাতে গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যেই তাঁর চিকিৎসা শুরু হতে পারে।

উপসংহার

ভয় এবং উদাসীনতা যেন আপনাকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং গুড সামারিটান হওয়া থেকে আটকাতে না পারে। রাষ্ট্রপতি ২০১৬ সালে গুড সামারিটান বিলে সই করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টে গুড স্যামারিটান আইন পাস হয়ে গিয়েছে। এই আইন পথদুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্যের জন্য নাগরিকদের বিভিন্ন আইনি ঝামেলা এবং অকারণ উতক্ত্যের হাত থেকে বাঁচায়।

নিজের মধ্যে থাকা মানবিকতাকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং ভিতরের সেই হিরোকেও সামনে আনুন যে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে এবং পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে সাহায্য করবে।

Network18 এবং DIAGEO-র সাহায্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সচেতন হওয়ার জন্য ভিডিওটি দেখুন এবং সমাজের পরিবর্তনের স্রোত নিয়ে আসতে সঠিক জিনিসটি করুন।

First published: 02:49:24 PM Jun 14, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर