শুধু মাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত, অর্ধসত্য কথা বলে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা আক্রমণ মমতার

শুধু মাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত, অর্ধসত্য কথা বলে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা আক্রমণ মমতার

সকালে প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণ, বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা জবাব ৷

সকালে প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণ, বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা জবাব ৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বড়দিনে রাজ্য থেকে কেন্দ্রের রাজনীতিতে উষ্ণতার ঝড় ৷ নয়া কৃষক বিল নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তাল দেশ ৷ সকালে প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণ, বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা জবাব ৷ ‘অর্ধসত্য কথা বলে এবং ঘটনাকে বিকৃত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদি। কৃষকদের সমস্যার সমাধান না করে টিভিতে লোক দেখানো উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।’ মোদির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

বড়দিনের সকালে কৃষকদের উদ্দেশে বার্তা দিতে ভার্চুয়াল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ নয়া কৃষক আইনের পক্ষে সওয়ালের সঙ্গে সঙ্গে আগাগোড়া মোদির আক্রমণের নিশানায় ছিলেন বিরোধীরা ৷ বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নাম করে তোপ দাগেন মোদি ৷ বলেন, ‘বাংলার ৭০ লক্ষ কৃষক বছরে ৬ হাজার টাকার কেন্দ্রীয় সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন৷ রাজনৈতিক কারণেই কৃষকদের এই সুবিধে থেকে বঞ্চিত করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৷’ ক্ষোভের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাজ্য সরকারকে এক পয়সাও দিতে হবে না ৷ পুরোটা কেন্দ্র দেবে৷ কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজি হচ্ছে না৷ বাংলার অনেক কৃষক এই সাহায্য চেয়ে সরাসরি ভারত সরকারকে চিঠিও লিখেছেন৷ বাংলার লক্ষ লক্ষ কৃষক অনলাইনে এই সাহায্যের জন্য আবেদন করেছেন৷ তার পরেও রাজ্য সরকার এই প্রকল্প আটকে রেখেছে৷'

প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের জবাবে বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে সবসময়েই আমরা তৎপর। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে দু’বার চিঠি লিখেছি। ২ দিন আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেছি। কিন্তু, সহযোগিতা পাইনি। উল্টে, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

রাজ্যকে আক্রমণের পাল্টা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ বরং কেন্দ্রই সহযোগিতা করছে না, বকেয়া মেটাচ্ছে না ৷ তিনি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সাহায্যের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কিছুই করেনি। এখনও কেন্দ্রের থেকে রাজ্যের বকেয়া পাওনা ৮৫ হাজার কোটি টাকা। সত্যিই সাহায্য করতে চাইলে বকেয়া অর্থ দিন ৷ কেন্দ্রের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিপন্থী ৷’

এর আগেও বহু প্রকল্প কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে রূপায়ন করেছে ৷ সেখানে এই প্রকল্পটি নিয়েই প্রশ্ন কেন? শুধুমাত্র আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিথ্যে অপপ্রচার করছে বিজেপি সরকার ৷ দাবি মমতার ৷ বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উপকারের জন্য আমরা সবকিছু করতে রাজি। এমনকি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও কেন্দ্র কোনও প্রকল্প চালু করলে, আমরা তাতেও রাজি। বাংলার মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা এবং আমার আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আপনাকে মনে করিয়ে দিই, যাঁরা দেশ গড়েছেন আমি তাঁদের আদর্শ মেনে চলি।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর একের পর এক অভিযোগের জবাবে বিবৃতি লিখেছেন, ‘আমি মনেপ্রাণে রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করি। রাজ্যবাসীর প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আমাদের এবং রাজ্যের গায়ে যাঁরা কালি লাগাতে চাইছেন তাঁদের রাজ্যবাসী যোগ্য জবাব দেবেন।’কেন্দ্র কেন রাজ্যকে পাশ কাটিয়ে কৃষকদের টাকা দিতে চাইছে তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে বহু প্রকল্প রূপায়ন করছে। সেখানে একটা প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।

উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী এই দিন দেশের নয় কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির ১৮ হাজার কোটি টাকা পাঠিয়ে দেন।

Abir Ghosal

Published by:Elina Datta
First published: