ব্রিকসের মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক জয়, যৌথ প্রস্তাবে নিন্দা পাক জঙ্গি সংগঠনের

ব্রিকসের মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক জয়, যৌথ প্রস্তাবে নিন্দা পাক জঙ্গি সংগঠনের
ডোকলামের পর এবার ব্রিকসের মঞ্চে ভারতীয় কূটনীতির ঐতিহাসিক সাফল্য।

ডোকলামের পর এবার ব্রিকসের মঞ্চে ভারতীয় কূটনীতির ঐতিহাসিক সাফল্য।

  • Share this:

    #বেজিং: ডোকলামের পর এবার ব্রিকসের মঞ্চে ভারতীয় কূটনীতির ঐতিহাসিক সাফল্য। পাক ভূখণ্ডে যে একাধিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী সক্রিয় তা ঘোষণাপত্রে এই প্রথম মেনে নিল পাঁচ দেশের ওই আন্তর্জাতিক মঞ্চ। একইসঙ্গে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে ভারতের দাবিকে দ্বিধাহীন ভাবে মেনে নিল চিনও। বেজিংয়ের সম্মতিতে মাসুদ আজহার বা হাফিজ সইদের মতো জঙ্গির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাঞ্জা জারির ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে গেল নয়াদিল্লি।

    ডোকলাম নিয়ে সাফল্যের হাসি এখনও মিলোয়নি সাউথ ব্লকের। তার মধ্যেই ভারতীয় কূটনীতির মুকুটে দ্বিতীয় পালক। চিনের জিয়ামেনে নবম ব্রিকস সম্মেলন থেকে ঐতিহাসিক ঘোষণা। পাকিস্তান-সহ বিশ্বের বিভিন্ন অংশে সন্ত্রাসবাদের বাড়বাড়ন্তে ব্রিকসের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে ঘোষণাপত্রে সই করল পাঁচটি সদস্য দেশ। এর আগে অবশ্য এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেনি ওই আন্তর্জাতিক মঞ্চটি। জঙ্গিসংগঠনগুলির তীব্র নিন্দা করে ঘোষণাপত্রের আটচল্লিশ নম্বর অংশে স্পষ্ট বলা হয়েছে,

    আমরা বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বেড়ে চলা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করছি। বিশেষত সেইসব এলাকার কথা ভেবে আশঙ্কা হচ্ছে, যেখানে তালিবান, আইএসআইএস, আল কায়দা ও তার সহযোগী, হক্কানি নেটওয়ার্ক, লস্কর-এ-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান ও হিজব-উত-তাহরিরের মতো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি দারুণ ভাবে সক্রিয়।


    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপও করবে ব্রিকস।

    ব্রিকসের নিশানায় সন্ত্রাসবাদ-

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে রাষ্ট্রসংঘের কাছে আবেদন জানানো হবে- এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হবে- রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও এ নিয়ে প্রস্তাব আনার দাবি উঠেছে ব্রিকসের মঞ্চে

    নজিরবিহীন এমন ঘোষণাপত্রকে ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য হিসেবেই দেখছে নয়াদিল্লি।

    কূটনীতিতে মিলল সাফল্য- অতীতে মাসুদ আজহার, হাফিজ সইদের মতো জঙ্গিদের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাঞ্জা জারি করতে চেয়েছিল ভারত- কিন্তু, বারবারই তাতে বাধা দিয়েছে চিন- পাকিস্তানের সঙ্গে আর্থিক ও সামরিক সম্পর্ক গভীর হওয়ায় ইসলামাবাদের পাশেই বরাবর দাঁড়িয়েছে বেজিং- জইশ-ই-মহম্মদ বা লস্কর-ই-তইবা নিয়ে কোনও দিনই কড়া মনোভাব দেখায়নি চিন- ঘোষণাপত্রে ওইসব সংগঠনগুলির নাম উল্লেখ হওয়ায় ফের পাকিস্তানকে কোণঠাসা করা গেল- নয়া ঘোষণাপত্রের ফলে জঙ্গিনেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করার কাজ অনেকটা সহজ হবে ভারতের

    চেনা গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে, ওই ঘোষণায় সই করেছে ড্রাগনের দেশও। আচমকা কেন একশো আশি ডিগ্রি অবস্থান নিল শি জিংপিঙের দেশ?

    কেন চিনের মতবদল?-

    ডোকলাম নিয়ে কড়া টক্করের পর ভারতীয় কূটনীতিকে অন্যচোখেই দেখছে বেজিং- তাই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলেও কিছুটা পিছু হঠেছে চিন- উত্তর কোরিয়ার লাগাতার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে- চাপে কিম জং উনের দুই বন্ধু শি জিংপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনও- সেই চাপ কাটাতেই কি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া হল?

    ব্রিকসের এই বেনজির পদক্ষেপে অবশ্য বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেল পাকিস্তান।

    First published:

    লেটেস্ট খবর