পাঁচ বছর ধরে নিজেই অক্সিজেন সাপোর্টে! দুঃসময়ে তিনিই মানুষকে দিচ্ছেন 'প্রাণবায়ু'

৪৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা।

৪৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি:

    শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তিনি। ক্রনিক অ্যাজমা। বছর পাঁচেক ধরে তিনি নিজেই অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন। কিন্তু সেই তিনিই দেশের এমন দুঃসময়ে মানুষের কাছে প্রাণবায়ু পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। বাড়িতে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর নিয়ে থাকেন। আর বাইরে বেরোলে অক্সিজেন সিলিন্ডার সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। এমন একজন মানুষ কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় মানুষের পাশে থাকতে পিছপা হননি। শুধু তাই নয়, মনজুর আহমেদ নামের সেই ব্যক্তি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও করোনা রোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। আর সবটাই তিনি করছেন নিজস্ব উদ্যোগে। কাশ্মীরের ৪৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা। সংসার চালাতে তিনি এখন ছোট মালবাহী গাড়ি চালান। আর সেই গাড়ির সাহায্যেই এখন বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

    মনজুর বলছেন, শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে কতটা কষ্ট হয় তা আমি জানি। আমার আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। তাই বেশিরভাগ মানুষের থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম নিচ্ছি। কিন্তু আমি চাই এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকতে। আমি একটা বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতাম। করোনার জন্য কাজ হারিয়েছি। এখন এই গাড়ি চালাই। আমার ফোন নম্বর অনেক জায়গায় দেওয়া রয়েছে। করোনা রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিলের প্রচুর ফোন আসে। সারাদিন তাদের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিই। অনেক মানুষকে খাবার ও অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসও পৌঁছে দিচ্ছি। এখন অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য সব থেকে বেশি ফোন আসে। কত মানুষ অক্সিজেনের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। তাদের সাহায্য করতে পারলে ভাল লাগে।

    প্রতি মাসে তাঁর নিজের জন্য ওষুধের খরচ প্রায় ছ হাজার টাকা। তার উপর তিন সন্তান ও স্ত্রীর মুথে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্বও তাঁর উপর। এত দায়িত্ব সামলেও মনজুর অসুস্থ মানুষদের পাশে থাকতে চান। করোনার এই দুঃসময় কোনওভাবেই বাড়িতে বসে থাকতে রাজি নন তিনি। দেশে এখন অক্সিজেনের ঘাটতি মেটানোই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই সময় মনজুরদের মতো মানুষদের প্রয়োজন আরও বেশি। যাঁরা অক্সিজেনের মূল্য অন্য অনেকের থেকে অনেকটাই বেশি বুঝবেন।

    Published by:Suman Majumder
    First published: