সমপ্রেম সম্পর্ককে স্বীকার করুন, ৩৭৭ ধারা নিয়ে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

সমপ্রেম সম্পর্ককে স্বীকার করুন, ৩৭৭ ধারা নিয়ে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

Representative image

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: সমপ্রেম সম্পর্ক মানেই অপরাধ নয়, এমনটাই মত শীর্ষ আদালতের ৷ মঙ্গলবারের শুনানি শেষে প্রত্যাশামতোই সমলিঙ্গে প্রেম বিরোধী ইন্ডিয়ান পিনাল কোডের ৩৭৭ ধারাটিকে খারিজের সিদ্ধান্তই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট ৷

    এদিন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রা, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, সমপ্রেম স্বীকৃতি পেলেই বরং এইডস বা যৌন রোগের মতো সমস্যার মোকাবিলা করা যাবে ৷ সমপ্রেমকে যত দমানো হবে ততই বাড়বে সমস্যা ৷ এর আগে ৩৭৭ ধারা জারি রাখার স্বপক্ষে যেসব আইনজীবীরা সওয়াল করছিলেন, তাদের যুক্তি ছিল সমলিঙ্গে প্রেম, যৌনতা অস্বাস্থ্যকর ৷ এইডস-এর মতো মারণব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ এই গে রিলেশনশিপ ৷ এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেই সুপ্রিম কোর্টের এদিনের পর্যবেক্ষণ ৷ আদালতের মতে, স্বীকৃতি না পেলে, ‘অপরাধী’ তকমা পাওয়ার ভয় থাকলে সমপ্রেমী মানুষেরা কখনই নিজেদের স্বাস্থ্যের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহস পাবে না ৷

    আরও পড়ুন 

    মেধাতালিকা প্রকাশের পরও কাটল না জট, ফের মামলার ফাঁসে শিক্ষক নিয়োগ

    ১৫৭ বছরের পুরনো আইন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমপ্রেম মানেই অপরাধ ৷ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এদিন ৩৭৭ ধারাকে খারিজের পক্ষেই মত দিল ৷ শীর্ষ আদালতের মতে, ৩৭৭ ধারা খারিজ হলে সমপ্রেমীদের জীবিকার ক্ষেত্রে বহু বাধা উঠে যাবে ৷ যৌনক্রিয়া প্রতিটি সম্পর্কের একটি অঙ্গ ৷ সমপ্রেমের ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত স্বাভাবিক ৷ দু’জন সমলিঙ্গপ্রেমী মানুষ হাত ধরে হাঁটলে তাদের কখনই অপরাধী হিসেবে তকমা দেওয়া যায় না ৷

    আরও পড়ুন 

    ‘পুলিশ নিজেকে না শোধরালে এমনটাই হবে’ বিজেপি কর্মীদের পুলিশ পেটানোকে সমর্থন দিলীপ ঘোষের

    আলোচ্য ৩৭৭ ধারা নিয়ে বিতর্কের জেরে ফের এই আইন পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ আদালত ৷ এর আগে সরকার পক্ষের আইনজীবি সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট বেঞ্চকে জানিয়ে দিয়েছে যে কোর্ট যদি ৩৭৭ ধারাকে অসাংবিধানিক হিসেবে ঘোষণা করে অথবা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্মতিসূচক সম্পর্কের প্রসঙ্গে রায় দেয়, তাহলে এ বিষয়ে পুনরায় আপত্তি তুলবেনা কেন্দ্র ।

    ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতাকে অপরাধ বলেই গণ্য করে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারাকেই লাগু করে ৷ ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমকামিতা অপরাধ এবং এই আচরণের কারণে যাবজ্জীবন সাজা পর্যন্ত হতে পারে ৷ তবে ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট ৩৭৭ ধারাকে বৈষম্যমূলক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে এই ধারার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল ৷ ২০১৩ সালে সু্প্রিম কোর্টের ৩৭৭ ধারা নিয়ে দেওয়া পর্যবেক্ষণ আরও একবার পর্যালোচনার দরজা খুলে দেয় ৷ তার উপর ভিত্তি করেই শীর্ষ আদালতে বিভিন্ন সময়ে এই ধারা পুনর্বিবেচনার জন্য পিটিশন দায়ের করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ৷

    First published:

    লেটেস্ট খবর