Home /News /murshidabad /
Murshidabad News: যে 'মাসি' রাঁধে, সে অঙ্কও শেখায়! মিড ডে মিল রাঁধুনির অঙ্ক শেখানোর ভিডিও ভাইরাল

Murshidabad News: যে 'মাসি' রাঁধে, সে অঙ্কও শেখায়! মিড ডে মিল রাঁধুনির অঙ্ক শেখানোর ভিডিও ভাইরাল

দশভূজা! [object Object]

Murshidabad News: প্রতিদিন প্রায় ৩৬০ জন ছাত্র-ছাত্রী দুপুর হলেই তাদের সকলের আদরের বিশাখা 'পিসির'' হাতে তৈরী খাবার খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে।

  • Share this:

    #ফরাক্কা: কথায় আছে যে রাঁধে সে চুল ও বাঁধে। তবে এখানে চুল বেঁধে নয়, ব্ল্যাকবোর্ডে প্রাথমিকের পড়ুয়াকে অঙ্ক শিখিয়ে রীতমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিশাখা পিসি। পেশায় তিনি মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ফরাক্কার (Farakka) ৪০ নং নয়নসুখ শ্রীমন্ত পাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের রাঁধুনী। প্রতিদিন প্রায় ৩৬০ জন ছাত্র-ছাত্রী দুপুর হলেই তাদের সকলের আদরের বিশাখা 'পিসির'' হাতে তৈরী খাবার খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু স্কুলের রান্নার 'পিসি' বিশাখা পাল যে দারুণ অঙ্কও শেখাতে পারেন এটা কারও জানা ছিল না। সেদিন যখন চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের অঙ্ক শেখাতে শ্রেণীর শিক্ষক হিমশিম খাচ্ছিলেন আর পড়ুয়ারা খাচ্ছিল বকা তখন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অঙ্ক শেখাতে এগিয়ে আসেন বিশাখা পাল। সহজ কথায় পড়ুয়াদের বোর্ডের ওপর চকের আঁচড় দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন ভাগের বড় বড় আঁক।

    আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় মারাত্মক পরিস্থিতি, কেন হল এমন? জানালেন শান্তিনিকেতনের প্রবাসী শ্রীলঙ্কান

    আর সেই দৃশ্য নিজের মোবাইল ক্যামেরায় বন্দী করে নেন স্কুলের শিক্ষক পরেশ দাস। পরে নিজের ফেসবুকে আপলোড করে দেন নয়নসুখ শ্রীমন্ত পাল স্কুলের বিশাখা পিসির অঙ্ক শেখানোর ভিডিও। আর সেই ভিডিও দেখে নেট নাগরিকরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিশাখা পাল বেশ কয়েক বছর ধরে ওই স্কুলের 'মিড ডে মিল' রান্নার কাজের সাথে যুক্ত। অভাবের কারণে ক্লাস টেনের পর পড়াশোনা করতে না পারার দুঃখ আজও তাঁর মনের মধ্যে রয়ে গেছে। তাই সময়-সুযোগ পেলেই রান্নার কাজের ফাঁকে তিনি দাঁড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন ক্লাসের দোরগোড়ায় আর শুনতে থাকেন শিক্ষকদের পড়ানো।

    আরও পড়ুন: ডাল চোর! বাংলার অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রে চাঞ্চল্যকর চুরি, তাজ্জব গোটা এলাকা

    ওই স্কুলের শিক্ষক পরেশ দাস বলেন, বৃহস্পতিবার আমি যখন চতুর্থ শ্রেণীর অঙ্কের ক্লাস নিছিলাম তখন বেশ কয়েকজন ছাত্র ছাত্রী অঙ্কগুলো করতে পারছিল না। হঠাৎই রান্নার পিসি বিশাখা পাল আমাদের ঘরে ঢুকে আমার কাছ আবদার করে আমি কি বাচ্চাদের একটু ক্লাস করাবো। আমি তাকে নিরুৎসাহিত করতে চাইনি। চক ডাস্টার হাতে ধরিয়ে দিয়ে দেখতে চাইলাম তিনি কেমন অঙ্ক করান। আর নিজের মোবাইল ফোনে গোটা দৃশ্যটা তুলে রাখি। ' পরেশবাবু বলেন,' আমাকে অবাক করে দিয়ে বিশাখাদেবী সবকটি অঙ্ক ঠিক করেন এবং তাঁর অঙ্ক শেখানোর অনন্য ভঙ্গী ছাত্রছাত্রীদেরও উৎসাহিত করে। তাই কিছুটা অন্যরকমভাবে পুরস্কৃত করার ভাবনা থেকে বিশাখা পিসির অঙ্ক শেখানোর ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করি। আমিও জানতাম না সেটি ভাইরাল হবে।' আর লাজুক মুখে বিশাখা পাল জানালেন,'সংসার চালানোর জন্য আমি রান্নার কাজ করি কিন্তু পড়াশোনা করার অদম্য ইচ্ছা আজও মনে রয়ে গেছে। একসময়ের স্কুলের শিক্ষকদের কাছে যে অঙ্কগুলো শিখেছিলাম সেগুলোই কাল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের শিখিয়েছি। আমার শেখানো থেকে যদি ছাত্র-ছাত্রীরা লাভবান হয় তাহলে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করবো।

    ----কৌশিক অধিকারী 

    First published:

    Tags: School, West Bengal news

    পরবর্তী খবর