West Bengal News| বিদ্যুতের মিটারে কারচুপির কথা বলে কাটমানি, তদন্তে বিদ্যুৎ দফতর
- Published by:Pooja Basu
Last Updated:
এ নিয়ে ভাঙড় সাপ্লাইতে (South 24 Parganas) বেশ কিছু অভিযোগও জমা পড়েছে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার আধিকারিকরা কাশীপুর গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে গ্রাহকের সাথে কথা বলেন।
#দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কেন্দ্রীয় সরকার ডিজিটাল ইন্ডিয়ার (Digital India) কথা বললেও, এখনও অনেক মানুষই ডিজিটাল পরিষেবা বিষয়টি রপ্ত করতে পারেনি। ফলে ডিজিটাল (Digital Electricity meter) পরিষেবাকে হাতিয়ার করেই ভুল বুঝিয়ে, ভয় দেখিয়ে কাটমানি নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বহু জায়গায়। পুরনো চাকা লাগানো মিটার বদলে নতুন ডিজিটাল মিটার লাগানোর ব্যবস্থা করেছে বিদ্যুৎ দফতর (Electric Department)। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গ্রাহককে এই নতুন মিটার প্রদান করার কথা বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার। অভিযোগ, ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরা বিনামূল্যে মিটার না প্রদান করে গ্রাহককে ভয় দেখিয়ে বা কারচুপি করার কথা বলে গ্রাহকদের থেকে মোটা টাকা নিচ্ছে। এ নিয়ে ভাঙড় সাপ্লাইতে বেশ কিছু অভিযোগও জমা পড়েছে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার আধিকারিকরা কাশীপুর গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে গ্রাহকের সাথে কথা বলেন। গ্রাহকরা এ বিষয়ে তাঁদের ক্ষোভ উগরে (Clients complain) দেন দফতরের আধিকারিকদের।
advertisement
কাশীপুর সাপ্লাই-এর ষ্টেশন (Kashipore Supply station) ম্যানেজার ঋত্বিক দেব এলাকায় ঘুরে গ্রাহকদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন। কাশীপুর বাজারের ওপর কাপড়ের দোকান অলোক মন্ডল, নওয়াব আলি মোল্লার। অলোকের অভিযোগ, ‘দুই যুবক মিটার পাল্টাতে এসে বলে আমরা মিটারের রিডিং শূন্য করে দেব। আপনার অনেক টাকা বেঁচে যাবে। এজন্য আমাদের চারশো টাকা বকশিস দিতে হবে। না দিলে আমরা মিটার লাগাব না।‘ অলোক দুশো টাকা দেন। আবার নওয়াব আলি মোল্লার কাছে পাঁচশো টাকা দাবি করা হয়। নওয়াবের কথায়, ‘এক যুবক বলেন পাঁচশো টাকা দিলে আপনার নতুন মিটারে এমন ব্যবস্থা করে দেব যাতে কম ইউনিট বিদ্যুৎ পুড়বে। টাকা না দিলে এমন গণ্ডগোল করে দেব, যে প্রচুর টাকা দিতে হবে।‘
advertisement
কাশীপুর ভট্টচার্য্য পাড়ার বাসিন্দা দেবরাজ ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘আমাকে ভুল বুঝিয়ে তিনশো টাকা নিয়ে গেছে। যারা মিটার বদলে দিচ্ছে তাঁরা ঠগ, প্রতারক। ওদের কড়া শাস্তির দাবি করছি।‘ ক্যান্সার আক্রান্ত আনন্দ মোহন ঘোষের থেকেও তিনশো টাকা ভুল বুঝিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আনন্দের স্ত্রী কল্যাণী ঘোষ এদিন বিদ্যুৎ আধিকারিক ঋত্বিক দেবের সামনে বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে একজন ক্যান্সার আক্রান্ত মরণাপন্ন রোগী আছেন। আমি নিজেও বিছানায় শয্যাশায়ী। তারপরেও ছেলেগুলো বলে তিনশো টাকা না দিলে মিটার পাল্টাবো না। মিটার না পাল্টালে এমন রিপোর্ট করবো অফিসে যাতে আপনাদের অসুবিধায় পড়তে হবে।‘
advertisement
রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন (Power supply board) সংস্থার ভাঙড় গ্রাহক পরিষেবার অধীন ১৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই এ ভাবে কয়েক লক্ষ টাকা বেআইনি ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। যদিও এখনও পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন ভাঙড় সাপ্লাই এর (Bhangar Supply station) ষ্টেশন ম্যানেজার দীপক দেবনাথ। ভাঙড়ের ডিভিশনাল ম্যানেজার শান্তনু নায়েক বলেন, ‘দীন দয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনার রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের কর্মীরা এমনটা করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি।সেইমত দফতরের আধিকারিকদের দিয়ে আমরা একটা ফিল্ড এনকোয়ারি করিয়েছি। তাঁর রিপোর্ট পেলেই ওই ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘
advertisement
রুদ্র নারায়ন রায়
Location :
First Published :
Sep 08, 2021 12:31 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/Local News/
West Bengal News| বিদ্যুতের মিটারে কারচুপির কথা বলে কাটমানি, তদন্তে বিদ্যুৎ দফতর








