• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • SILIGURI FIELD HOSPITALS BECOMING POPULAR AND COMPLEMENTARY AGAINST NURSING HOMES AC

নার্সিংহোমের পরিপূরক ফিল্ড হাসপাতাল, ফলাফল ভাল সেফহোমেরও! বাড়ছে জনপ্রিয়তা

নার্সিংহোমের পরিপূরক ফিল্ড হাসপাতাল, ফলাফল ভালো সেফহোমেরও! বাড়ছে জনপ্রিয়তা

নার্সিংহোমের পরিপূরক ফিল্ড হাসপাতাল, ফলাফল ভাল সেফহোমেরও! বাড়ছে জনপ্রিয়তা

  • Share this:

    ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন, স্পুটনিক বা ফাইজার; ভ্যাকসিনের দৌড় যেন শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন যেন বাড়তি নজরদারিতে রাখতে চাইছে। তাই করোনা সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা কমলেও ফিল্ড হাসপাতাল চালানোর ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা মনোভাব দেখাতে একপ্রকার নারাজ কর্তৃপক্ষ। উল্টে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে যাতে আরও বেশি সংখ্যায় উন্নত মানের সেফহোম বা ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করা যায়, সে পথেই হাঁটতে চাইছে ফিল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষরা।

    শিলিগুড়িতে সম্প্রতি তিনবাত্তি মোড় এলাকার একটি বহুতলকে দুঃস্থ করোনা রোগীর চিকিৎসায় ফিল্ড হাসপাতালে পরিণত করা হয়। চলতি মাসের ২ তারিখ থেকে সেই হাসপাতালও পথচলা শুরু করে। ইতিমধ্যে ২০ জনেরও বেশি সংক্রামিত রোগী সেই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। ফলে নার্সিংহোমগুলির বোঝা বোঝা টাকার চাপ থেকে দুঃস্থ গরিব মানুষরা এখন আশার আলো দেখছেন।

    এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সদস্য তথা শিলিগুড়ি কোভিড কেয়ার সেন্টারের নোডাল অফিসার দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, \'শিলিগুড়ির বুকে সেফহোম বা ফিল্ড হাসপাতালগুলি যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তবে একটা কথা পরিস্কার যে সদূর ভবিষ্যতে করোনা চিকিৎসায় বিকল্প হবে এই সেফহোম বা ফিল্ড হাসপাতালগুলি। শিলিগুড়িতে বর্তমানে তিনটি সেফহোম ও একটি ফিল্ড হাসপাতাল চলছে। প্রচুর মানুষ সুস্থ হয়ে এখান থেকে বাড়িও ফিরে যাচ্ছেন। ফলে ফিল্ড হাসপাতাল ও সেফহোমগুলির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েই চলেছে।\'

    অন্যদিকে, শিলিগুড়ি গভর্মেন্ট পলিটেকনিক কলেজে চলা কোভিড কেয়ার সেন্টারের নোডাল অফিসার অভিজিৎ নিয়োগী বলেন, \'সেফহোম বা কোভিড কেয়ার সেন্টারগুলি দিনরাত এক করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে দুঃস্থ মানুষদের। যারা নার্সিংহোমে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন না, তাঁরাই কিন্তু এই কোভিড কেয়ার সেন্টারগুলিতে আসছেন।\' অভিজিৎবাবু বলেন, \'আমাদের সেন্টারে পুরুষ-স্ত্রী মিলিয়ে ২০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকে ২ জন স্থানান্তর, ৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন এবং ৯ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। অর্থাৎ সুস্থতার হার যথেষ্ট ভালো আমাদের এই সেফহোমগুলিতে।\'

    তিনি আরও বলেন, \'বর্তমানে বিভিন্ন সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থার সাহায্যে এই সেন্টারগুলির যাবতীয় চাহিদা যেমন পিপিইকিট, যথেষ্ট পরিমাণে মাস্ক-স্যানিটাইজার ইত্যাদির যোগান মিটছে। তবে প্রশ্ন কতদিন? এই জন্য আমরা চাই যদি আমাদের এই সেন্টারগুলিকে সরকার একটু নজর দেন তাহলে হয়ত আমরা আরও ভালো পরিষেবা সাধারণ মানুষকে দিতে পারব।\'

    এদিন শিলিগুড়ির বিশিষ্ট সমাজসেবক তথা করোনা হেল্পিং টিম-২১\'এর সদস্য সুমন সরকার ক্ষোভের সুরে বলেন, \'বেসরকারি হাসপাতালগুলি চিকিৎসার নামে বেসরকারি নার্সিংহোমগুলির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা বিলের জুলুমবাজিতে প্রচুর মানুষ বর্তমানে অতিষ্ঠ। শিলিগুড়ি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নার্সিংহোমগুলি রক্তচোষায় পরিণত হয়েছে। গরীব মানুষদের চিকিৎসার নামে সর্বসান্ত হতে হচ্ছে। মানুষের ঘটি-বাটি-বাড়ি পর্যন্ত বিকিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করছে এই নার্সিংহোমগুলি। সম্প্রতি আমি শুনতে পাই আলিপুরদুয়ার জেলার দলসিং চা-বাগানের এক কোভিড রোগী শিলিগুড়ির সেবক রোডের এক নার্সিংহোমে চারদিন ভর্তি ছিলেন। সেই চারদিনে তাঁর বিল হয় তিন লক্ষ টাকার ওপরে! ভাবতে পারছেন?\'

    সুমনবাবু আরও বলেন, \'সেই অর্থে সেফহোমের বিকল্প বর্তমানে নেই। কিছুই হতেও পারে না। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিষেবাও প্রশংসনীয়। পাশাপাশি, করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়েও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। সুতরাং, মানুষকে সেবা করতে হলে, পরিষেবা দিতে হলে এবং তৃতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলা করতে হলে এই সেফহোম বা ফিল্ড হাসপাতালগুলির সংখ্যাবৃদ্ধি ছাড়া উপায় নেই। সেই সঙ্গে এই সেন্টারগুলির শয্যা সংখ্যাবৃদ্ধি। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দয়া করে তাঁরা যেন বিষয়টিতে নজর দেন।\'

    উল্লেখ্য, শিলিগুড়ির অমিত আগরওয়াল মেমোরিয়াল, শিলিগুড়ি সূর্যনগর সমাজ কল্যাণ সংস্থা সেফহোম চালাচ্ছে। সরকারিভাবে ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সেফহোম আগেই থেকেই চলছে। সম্প্রতি  শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে এবং লিভার ফাউন্ডেশন, ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স ও ফোরাম ফর হিউম্যানিটির মতো সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় তিনবাত্তির হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা চালু রয়েছে।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: