সরকারি সাহায্যের আশায়, সর্বহারা নামখানার বৃদ্ধ দম্পতি
- Published by:Ananya Chakraborty
Last Updated:
সরকারি সাহায্যের আশায়, সর্বহারা নামখানার বৃদ্ধ দম্পতি
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনের উপকূল তীরবর্তী এলাকার মানুষজন একাধিক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হয়ে একটু একটু করে হারিয়েছে তাদের ভিটেমাটি। গত ২৬ মে সুন্দরবনের আছড়ে পড়েছিল বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস । ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার ভরা কোটাল এর জেরে সুন্দরবনের শান্ত নদী গুলি মুহূর্তের মধ্যে রুদ্র রূপ ধারণ করে স্বমহিমায় সুন্দরবনের একাধিক গ্রামকে ভাসিয়ে দিয়েছিল। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী কোন নদী বাঁধ না থাকায় প্রকৃতির খামখেয়ালীতে হারাতে হয় শেষ সম্বল টুকু।
এরপরই উঠে আসে নামখানার বৃদ্ধ দম্পতির করুন কাহিনী। নামখানা ব্লকে নাদাভাঙ্গার বেরাঘেরী গ্রামের বাসিন্দা বছর ৯৫ এর খগেন ভূঁইয়া। শরীরের ভারে ঠিকমতন চলতেও পারেন না। বেশ কয়েক বছর আগে পারিবারিক বিবাদের জেরে একমাত্র ছেলে তাদেরকে গৃহ ছাড়া করেছে। বৃদ্ধ দম্পতি জীবিকা হিসেবে বেছে নেয় নদীর মাছ ধরাকে। দম্পতিরা জানান, আয়লা থেকে আম্ফান, বুলবুল থেকে ইয়াস বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় যখনই সুন্দরবনের হানা দিয়েছে তখনই নদীগর্ভে একটু একটু করে বিলীন হয়েছে সুন্দরবনের মানুষের জমি থেকে ঘরবাড়ি। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবের জেরে হাতানিয়া -দোয়ানিয়া নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় গোটা গ্রাম । নদীগর্ভে চলে গেছে ঘরবাড়ি। ইয়াসের সময় নিজেদের শেষ সম্বল টুকুর মায়া ত্যাগ করে ত্রাণ শিবিরে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। ত্রান শিবির থেকে ফিরে এসে দেখেন ঘর বাড়ি বলতে কিছুই নেই। সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এরপর থেকেই নদী বাঁধের উপর অস্থায়ীভাবে ত্রিপল দিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।
advertisement
পূর্ণিমার কোটালের জেরে নদীগুলির জল স্ফিতি বাড়ে, ফলে বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কায় ভয়ে কাটা হয়ে যায় উপকূল তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। বন্ধ থাকে রুজিরুটি। ভরসা সরকারি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলির দেওয়া ত্রান। তা দিয়েই দিন কাটে অসহায় এই দম্পতির। বৃদ্ধ দম্পতির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই বিষয়ে নামখানা ব্লকের বিডিও শান্তনু সিংহ ঠাকুর বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। রাজ্য সরকারের দুয়ারে ত্রাণ প্রকল্পের মাধ্যমে বৃদ্ধ দম্পতির ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সব রকমের সাহায্যে করবো আমরা। খুব দ্রুতই তাদের সমস্যার সমাধান হবে। প্রশাসনের আশ্বাসে পর বৃদ্ধ দম্পতির চাতকের মতন চেয়ে রয়েছেন কবে মিলবে সাহায্য।
advertisement
advertisement
রুদ্র নারায়ন রায়
Location :
First Published :
Jul 05, 2021 7:50 PM IST










