হোম /খবর /লাইফস্টাইল /
প্রযুক্তি কি পারিবারিক সম্পর্কে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে ? জানুন কী করা উচিত

প্রযুক্তি কি পারিবারিক সম্পর্কে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে ? জানুন কী করা উচিত

পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে প্রযুক্তি বড় ভূমিকা পালন করে। এর প্রভাব পিতা-মাতা-সন্তানের সম্পর্ককে ধ্বংস করছে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।

  • Share this:

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটা বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করছে । অতিরিক্ত মোবাইল , টিভি ,ল্যাপটপ, ট্যাবলয়েড ব্যবহার বাবা মায়েদের সাথে সন্তানদের যোগাযোগ নষ্ট করে দিচ্ছে। এমনকি অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করার পরিবর্তে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত জীবনে নিমগ্ন থাকতেই বেশি পছন্দ করছে। এর প্রভাব পিতা-মাতা-সন্তানের সম্পর্ককে ধ্বংস করছে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। রাস্তা ঘাট , সিনেমা, বাড়ি ,মল ,বেড়াবার জায়গা , খাওয়ার টেবিল এমনকি শোবার ঘরেও আজ মোবাইল ,ট্যাবলয়েডের প্রাধান্য। যে সময় শিশুরা তাদের বাবা মাকে খুব বেশি কাছে পেতে চাই, সেই সময়গুলোতে অনেক অভিভাবকরাই নিজেদের মোবাইলে চোখ রেখে দুনিয়াকে নিজের আঁচলে বন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ।

শিশুরাও বড়োদের দেখে শেখে , তাদের নকল করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাই বাবা মায়েরা কমপ্লেইন্ট করেন যে তাদের বাচ্চারা মোবাইল, টিভি ছাড়া খাবার খেতে চায়না।  কিন্তু এর জন্য দায়ী কি শুধু শিশুরা ? বাড়িতে রাতে বা ছুটির দিনে সবাই মিলে একসাথে খেতে বসার সময় গল্প গুজব, হাসি ঠাট্টা ,মজা করা আজকাল প্রায় হারিয়েই গেছে।  সেই মূল্যবান সময়গুলোকেও ছিনিয়ে নিয়েছে প্রযুক্তির আধুনিকতা। যে সময়গুলোতে শিশুরা নিজেদের আপনজনকে আরো কাছে পেতে চায় , সেই সময়গুলোতে দেখা যায় বেশিরভাগ অভিভাবকরা টিভি বা মোবাইল নিয়ে মত্ত থাকেন। অনেকের কাছে এটাই হয়তো  রিক্রিয়েশন। বড়োদের  সেই পথে চলতে দেখে শিশুরাও তাদের বিনোদনের নিজস্ব উপায় আবিষ্কার করে ফেলে  এবং নিজেদেরকে কৃত্তিম আনন্দে ডুবিয়ে রাখতে ভালোবাসে। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের সাথে কম সময় এবং প্রযুক্তির সাথে বেশি সময় কাটায়।

প্রযুক্তির কারণে পারিবারিক বিরোধ, পারিবারিক সময়ে প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব এবং পরিশেষে, পারিবারিক সামাজিকীকরণে মিডিয়ার প্রভাব সবকিছুই পারিবারিক সম্পর্ক, মা বাবা সন্তানের সম্পর্কের মধ্যে একটা অদৃশ্য দাগ কেটে যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যার বলি হয় শিশুরা।

প্রযুক্তির আধিপত্য কীভাবে মানুষকে প্রযুক্তির পুতুল বানিয়ে দিচ্ছে এবং পারিবারিক সম্পর্ককে ধ্বংস করছে তা এখন আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলের ক্ষেত্রেই খুবই চিন্তার বিষয় ।সমস্যাটি যথেষ্ট বাস্তবসম্মত এবং গুরুতর।

প্রযুক্তি সম্বন্ধে ভিন্ন লোকেদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি । কিছু লোকেদের মতে প্রযুক্তি পরকে আপন করেছে , সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার পুরোনো সম্পর্ক, পুরোনো বন্ধুবান্ধব এবং হারিয়ে যাওয়া কিছু জিনিষকে তাদের জীবনে ফিরিয়ে এনেছে, কারো কারো মতে প্রযুক্তি মানুষের একাকীত্ববোকে দূর করতে সাহায্য করেছে।  কিন্তু বেশিরভাগই প্রযুক্তির অগ্রগতিকে পারিবারিক সম্পর্কের ভেঙে যাওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে দায়ী করেছেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি খুবই চিন্তাজনক। আধুনিক প্রযুক্তির কৃত্তিম আনন্দ তাদের মানসিক, শারীরিক এবং সম্পূর্ণ বিকাশে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

কিভাবে স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে রাখবেন ?

সীমানা নির্ধারণ করুন :

একটি ফ্যামিলি প্ল্যান তৈরি করুন উদাহরণস্বরূপ, আপনি রাতের খাবারের সময় বা শোবার সময় প্রযুক্তির ব্যবহার না করে সেই সময়টুকু পরিবারের সাথে কাটান । অথবা আপনি যখন বাড়িতে পৌঁছান এবং আপনার বাচ্চারা আপনাকে দেখে উত্তেজিত হয় তখন তাদের নিজের কাছে টেনে নিন এবং কিছু সুন্দর সময় কাটান। একটি নির্দিষ্ট ঘরে আপনার ডিভাইসটি প্লাগ ইন করুন এবং শুধুমাত্র সেখানে এটি ব্যবহার করুন বা বাড়ির অন্যান্য জায়গায় নয় (যেমন বাচ্চাদের শয়নকক্ষ) ।

আপনার মোবাইল ব্যবহার ট্র্যাক করুন :

বাড়িতে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রলোভন এড়াতে আপনার ডিভাইসে একটি ফিল্টার বা ব্লক তৈরি করার কথা বিবেচনা করুন। "মোমেন্ট" এবং "কোয়ালিটি টাইম" এর মতো অ্যাপগুলি আপনাকে মোবাইল ব্যবহার ট্র্যাক করতে এবং আপনি কোথায় বেশি সময় ব্যয় করছেন তা দেখতেও সাহায্য করতে পারে। যদি আপনার ৯০ শতাংশ সময় ফেসবুক বা কাজের ইমেলে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি   প্রযুক্তির সময় কমানোর উপায়গুলি ভাবতে পারেন।

শীর্ষ ডিভাইস স্ট্রেসর শনাক্ত করুন :

আপনার মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের কোন অংশগুলি আপনার জন্য সবচেয়ে চাপযুক্ত তা নিয়ে ভাবুন। যদি নিউজ পড়ছেন বা কাজের ইমেল চেক করছেন , এই কাজগুলি সেই সময়ের জন্য সংরক্ষণ করুন যখন আপনার বাচ্চারা নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকবে। বাচ্চাদের প্রয়োজনে তাদের সাথে ভালোভাবে সময় কাটান এবং তাদের সাথে আপনার সম্পর্ককে আরো বেশি মজবুত বানাতে সাহায্য করুন।

মোবাইল কে দূরে রেখে পরিবারকে সময় দিন :

সপ্তাহের শেষে পুরো পরিবার মিলে আনন্দ করুন কোনো বাহ্যিক চিন্তা ছাড়া সেই দিনটিকে পরিপূর্ণ ভাবে উপভোগ করুন যা আপনার সাথে আপনার সাথে সন্তান  , আপনার স্ত্রী এবং বাকি সদস্যদের সম্পর্ক ভালো বানাবে।  খুব চেষ্টা করবেন সেই সময় আপনার গ্যাজেটস কে দূরে রাখতে।

একে অপরকে সময় দিন :

আজকের দিনে স্বামী স্ত্রী উভয়েই কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য কেউ কাউকে ঠিক মতো সময় দিতে পারেননা। এর থেকেই একটা সুন্দর সম্পর্কের মধ্যে মতানৈক্য , রোজকার লড়াই , মানসিক অশান্তি শুরু হয় যার শেষ হয়তো ভালো হয়না। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও যেটাকে সময় পাচ্ছেন, চেষ্টা করবেন প্রযুক্তির ছায়া কে নিজের থেকে দূরে রাখতে এবং নিজের প্রিয়জনকে সময় দিতে। এটি ভাঙা সম্পর্ককে নতুন করে জোড়া লাগাবে।

বয়স্কদের সঠিক মূল্য এবং সময় দিন :

পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক যেমন ঠাকুমা, দাদু, দিদু, মা ,বাবা এবং আরো অনেকে যাদের কাছে পারিবারিক সম্পর্কটা খুব বেশি গুরুত্ব রাখে , যেভাবে হোক এই প্রযুক্তির আধুনিকতা থেকে তাদের দূরে রাখুন। নিজের কিছুটা সময় তাদের দিন এবং তাদের বুঝিয়ে দিন যে তাদের গুরুত্ব মোবাইল , টিভি, ট্যাবলয়েড এসবের থেকে অনেক বেশি। জীবনকে আরো সুন্দর করে তুলুন।

(Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি কেবলমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য, তাই বিস্তারিত জানতে হলে সর্বদা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।)

Published by:Brototi Nandy
First published:

Tags: Children, Family, Mobile, Parents, Relationship, Technology, Television