রমজানের রসনায় ডুব, কলকাতার অলিগলির সেরা ১০ খাবার

Collected Photo

খাবারের ব্যাপারে যেকোনও শহরকে মাত দিতে পারে কলকাতা ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: খাবারের ব্যাপারে যেকোনও শহরকে মাত দিতে পারে কলকাতা ৷ তা যেকোনও দেশের, যেকোনও প্রান্তের, যেকোনও ঘরানার খাবার হোক না কেন৷ খাবারের ব্যাপারে কলকাতার ‘আপনা টাচ’, যখনই খাবারে অন্দরে গিয়ে পড়ে, বাদ বাকিটা খাদ্য রসিকের বাহবা থেকেই ছলকে পড়ে ৷

    অনেকে বলে থাকেন, কলকাতা মানেই সন্দেশ, রসগোল্লা বা মিষ্টি দই ! কিন্তু যারা একবার কলকাতার হালিম, লচ্চা সিমোই, কাবাব থেকে ফিরনি, ফালুদা চেখেছেন, বাজি ধরে বলা যায় হায়দরাবাদকে একটু হলেও দূরে রেখেছেন স্বাদে! তার ওপর যদি হয় রমজানের মরসুম, তাহলে তো কথাই নেই ৷ কলুতলার দিক থেকে জাকারিয়া স্ট্রিট, নাখোদা মসজিদের পাড়ায় পাড়ায়, পার্কসার্কাস কিংবা নিউ মার্কেট ৷ রমজান স্পেশাল খাবারে গন্ধে মত্ত হয়ে সেই সব রাস্তায় বার বার ঢুঁ না মারলে, প্রশ্ন উঠবে আপনি কী খাদ্য রসিক?

    Namaz during Ramzan

    হায়দরাবাদি হালিম

    রমজানের মরসুমে নাখোদা মসজিদের আশপাস একেবারে সাজসাজ রব ৷ হালিম, কাবাবের গন্ধে গোটা রাস্তাই যেন একটা বড় রেস্তোরাঁ ৷ গোটা ইদের মরসুমের খাদ্য রসিকদের প্রত্যহ আনাগোনা এই অঞ্চলেই৷ তা এই অঞ্চলে ঢুকেই প্রথমেই যেটার দিকে চোখ এবং পরে জিভ যাবে তা হল হায়দরাবাদি হালিমে ৷ নামে হায়দরাবাদি হলেও, এই হালিমে মাস্টার স্ট্রোক দিতে পারে একমাত্র কলকাতাই ৷ নাখোদা মসজিদের ফুটপাত জোড়া রেস্তোরাঁ এই হালিমের জন্য সেরা ৷ পাঁঠার মাংস, গম, ডাল, ঘি, আদা-রসুন বাটা, জিরে গুঁড়ো, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ও কালো মরিচ। এ ছাড়াও পাতিলেবুর রস, ধনে পাতা, কাজুবাদাম ও পেঁয়াজ লাগে গার্নিস করতে। তবে এখানে কিন্তু ‘বিফ’ দিয়ে তৈরি হায়দরাবাদি হালিমের টিআরপি বেশি !

    আলিয়ার মটন হালিম

    মোটামুটি যারা হালিম খেতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে ওয়াটার লু স্ট্রিটের আলিয়ার খবর পুরনো ৷ তবে নতুনদের জানানো দরকার, ৭৫ বছর ধরে কলকাতাকে সেরা মটন হালিম পরিবেশন করে যাচ্ছে আলিয়া ৷ রমজানের সময় বড়মাপের একটা হাড়ি রাখা হয় আলিয়ার প্রবেশ দ্বারের সামনে ৷ আর তার মধ্যেই থারে সুস্বাদু মটন হালিম ৷ আলিয়ার শ্যেফ জানিয়েছে, এই হালিমে ব্যবহার করা হয় খাটি শ্যাফরন ও উন্নতমানের খাসির মাংস ৷ রমজানের সময় রোজ কম করে হলেও ৭০০ প্লেট বিক্রি হয় এই মটনব হালিম ৷ দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকার মধ্যে !

    Bakarkhani-8

    জাকারিয়া স্ট্রিট ও কাবাব

    এমনিতে হালিমের ভিড় রয়েছে জাকারিয়া স্ট্রিটেও ৷ মাহি আকবরি আর মুর্গ চেঙ্গিসি-র রেসিপি জাকারিয়া স্ট্রিট ছাড়া আর পাবেন কোথায় ৷ আপনাকে জোম্যাটোও খুঁজে দেবে না এমন কোনও রেস্তোরাঁ ৷ তবে বাহারি কাবাবের খাজানায় উঁকি মারতে রমজান মরসুমে জাকারিয়া স্ট্রিটে ঢুঁ মারতে তো হবেই ! নিহারি কাবাব, সুতলি কাবাব, মটন গলৌটি কাবাব৷ এই সব কাবাব জিভে দিলেই গলা দিয়ে নেমে অন্দরে যেতেই আত্মার শান্তি ৷

    কলকাতার বিরিয়ানি

    বিরিয়ানি এমন একটা খাবার, যা কিনা রাজ্য বদলে স্বাদ বদল ঘটে ৷ যেমন হায়দরাবাদি বিরিয়ানির সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না দিল্লির বিরিয়ানি ৷ আবার কলকাতার বিরিয়ানি তো এ ব্যাপারে একেবারেই আলাদা ৷ রমজানের মরসুমে জাকারিয়া স্ট্রিট হোক বা কলকাতার জনপ্রিয় আমিনিয়া, আরসালান কিংবা সিরাজ ৷ বিরিয়ানির রসনা চেখে না দেখলে খাদ্য রসিকই নয় ৷

    muslim-biryani-01

    বখরখানি ও রমজান স্ন্যাক্স

    কলুটোলা থেকে বলাই দত্ত স্ট্রিট ধরে ডাইনে বেঁকে জাকারিয়ার মুখে এগোতেই স্পেশাল বাখরখানির ঠিকানা । ৮০ টাকার শুকনো, ফুরফুরে, প্রকাণ্ড গোলাকার দুধে ভিজিয়ে ব্রেকফাস্টের মাওয়াঠাসা রুটি। ১০ দিন তাজা থাকবে বাখরখানি।

    তবে শুধুই বখরখানি নয়, রমজানের স্ন্যাক্স হিসেবে স্পেশ্যাল খাস্তা বিস্কুট পাকিজা, মাকুটি বা মাংসের ঝোল দিয়ে খাওয়ার মিষ্টি রুটি শিরমল। দিলশাদ কবাবির খিরি কাবাব, সুতি কাবাব বা কলুটোলায় চিকেনের পেয়ারে কবাব তো বছরভর মেলে! রমজানে পদে পদে মাংসের কুচিভরা সামোসা, দইবড়া, পাঁচ টাকার ফলটলের সঙ্গে আমিনিয়া, সুফিয়ানার স্পেশাল বিরিয়ানিও দেদার। দুধেল সরের প্রলেপ জড়ানো রমজানি শাহি টুকরাও বড় মধুর।

    ফিরনি

    ফিরনি ছাড়া তো জমবেই না শেষপাত ৷ আর ফিরনির ব্যাপারে আমিনিয়া হোক বা জাকারিয়া স্ট্রিট কেউ কম যায় না ৷ এবার কিন্তু ফিরনির ব্যাপারে নানা ফ্লেভার হিট৷ জনপ্রিয় ফিরনি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে চকোলেট ফিরনি, স্ট্রবেরি ফিরনিও ৷

    পকোড়া ও ঘুঘনি

    ডিনার থেকে বিকেলের টুকটাক খাওয়া, সবই রয়েছে রমজানের খাওয়া-দাওয়ায় ৷ ঠিক যেমন টুক করে মুখে পুরে ফেলতে পারেন নানা স্বাদের পকোড়া৷ ইচ্ছে করলে ডুব মারতে পারেন গরম গরম ঘুঘনিতে ৷

    শরবতে খাস

    ইফতার পার্টি হোক ইদের দিন শরবত ছাড়া শুরুটা যেন জমেই না ৷ আর এ ব্যাপারে লাল রুহআবজা শরবত তো একেবারেই ইন থিং ৷ বরফ জলে ঠান্ডা লাল শরবত শান্তি দেয় প্রাণে ৷ চলতে থাকে খসের শরবতও ৷

    First published: