কীভাবে বাঁচবেন ব্লাড সুগার থেকে, উপায় জানাচ্ছেন চিকিৎসক

  • Share this:

    #কলকাতা: ডায়াবেটিস সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে একটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত ভারত জুড়ে এ সমস্যা বর্তমানে ক্রমাগত বেড়েই চলছে ৷ দুশ্চিন্তার কথা এল, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও ডায়াবেটিস নিয়ে সেভাবে সঠিক ধারণা তৈরি হয়নি ৷ আর যার ফলে ঘরে ঘরে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে ৷ ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবসে, তাই ডায়াবেটিসের আগাগোড়া আলোচনায় উঠে এল নানা প্রশ্ন, উত্তর দিলেন-- মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডক্টর অরিন্দম বিশ্বাস৷

    ডায়াবেটিস বা ব্লাড সুগার হওয়ার কী কোনও বয়স রয়েছে ?

    আসলে ডায়াবেটিস দু’ধরণের ৷ আমরা ডায়াবেটিসকে টাইপ ওয়ান ও টাইপ টু ডায়াবেটিস হিবেসে ক্লাসিফায়েড করে থাকি ৷ প্রথম টাইপের ক্ষেত্রে যাঁদের শরীরে ইনসুলিন বলে কিছু নেই ৷ তাঁদের শরীর ইনসুলিন দিয়েই বাঁচিয়ে রাখতে হবে ৷ সুগারটা কনট্রোল করাতে হবে ৷ আর অন্যটি রয়েছে, টাইপ টু ডায়াবেটিস ৷ এক্ষেত্রে বলা যায়, এতদিন দেখা যেত টাইপ টু ডায়াবেটিস বয়স্কদের মধ্যেই রয়েছে ৷ তবে ইদানিং সব বয়সের ব্যক্তিদের মধ্যেই ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে ৷ আসলে, ডায়াবেটিস হওয়ার প্রধান কারণই হল আমাদের লাইফস্টাইল ৷ বিশেষ করে আমাদের খাওয়া-দাওয়া ৷ যা কিনাই ডেকে নিয়ে আসছে ডায়াবেটিস ৷

    খাওয়া-দাওয়া বলতে কি ফাস্টফুডের কথা বলছেন?

    একবারেই ৷ এই ফাস্টফুডই কিন্তু বিপদ ডেকে আনছে ৷ আসলে, আজকাল আমাদের জীবনে টাইমটা খুব কম ৷ দৌড়েই চলেছি আমরা ৷ অফিসের কাজের চাপ, নানা দায়িত্ব ৷ আর এরই মাঝে খাওয়ার ব্যাপারটাকে অনেক সময়ই আমরা হেলাফেলা করে দিচ্ছি ৷ এই যেমন, অফিসে ব্রেকে খিদে পেলে, রোল, চাউমিন, স্যান্ডউইচ, কিংবা পিৎজা ! এই খাবার গুলো অজান্তেই আমাদের জীবনে বিপদ ডেকে আনছে ৷ বেশিমাত্রায় ফাস্টফুড খাওয়া কিন্তু ডায়াবেটিস ডেকে আনে ৷ দেখুন, রেস্তোরাঁ বা রাস্তার খাবার কখনই স্বাস্থ্যকরভাবে তৈরি হয় না ৷ এক্ষেত্রে স্বাদের ব্যাপারটাই বেশি দেখা হয় ৷ আর আমরাও স্বাস্থ্যের পিছনে না দৌড়ে, স্বাস্থ্যের পিছনে দৌড়াই !

    শুধুই কী খাবারই দায়ী ডায়াবেটিসের জন্য ?

    রোজকার খাবার-দাবার অবশ্যই দায়ী ৷ কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গী হিসেবে রয়েছে টেনশন, স্ট্রেস ৷ দিন দিন আমরা যতই উন্নতির দিকে যাচ্ছি, ততই আমরা একা হয়ে পড়ছি ৷ আর একাই আমাদের টেনশন, স্টেস বাড়িয়ে তুলছে ৷ যা কিনা ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একাই একশো ৷ সহজ কথায় বলতে গেলে, অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইল ব্লাড সুগারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় ৷

    ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে কী করা উচিত ?

    প্রথমেই বলব, নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন ৷ প্রথমেই খাদ্যতালিকায় নিয়ে আসতে হবে প্রচুর শাক-সবজি, ফল ৷ সিগারেট, মদ ও অন্যান্য নেশা থেকে দূরে থাকতে হবে ৷ যতটা পারা যায় ফাস্টফুড কম খেতে হবে ৷ আর অবশ্যই প্রচুর হাঁটতে হবে ৷ হাঁটার থেকে ভালো কিন্তু কোনও এক্সারসাইজ নেই ৷ ঘাম ঝড়াতে হবে ৷ তাহলে ব্লাড সুগার থেকে দূরে থাকা সম্ভব ৷ আর হ্যাঁ, সুগার ফ্রি বেশি পরিমাণে খেলেও কিন্তু সমস্যা আরও বাড়তে পারে ৷

    আচ্ছা, সুগার ফল হলে কী করা উচিত ?

    সাধারণত, সুগার ফল হলে মাথা ঘোরাতে শুরু করে ৷ দুর্বল লাগতে শুরু করে ৷ এই সময় প্রথমেই যেখানে পারবেন বসে পড়ুন ৷ যত দ্রুত সম্ভব মিষ্টি কিছু খান ৷ এই সময় চিনির জল খাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি ৷ আর অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ অনেকেই ডায়াবেটিসের ওষুধ খান ৷ কিন্তু সম পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করেন না ৷ এটা কিন্তু একদমই করা উচিত নয় ৷

    আবার অনেক সময় সুগার বেড়ে গিয়েও বিপত্তি আসে ৷ তবে বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায় ৷ এক্ষেত্রে শরীর থেকে সমস্ত জল বেরিয়ে যায় ৷ এক্ষেত্রে রোগীকে বেশিমাত্রায় জল দেওয়া হয় ৷ ব্লাডে সুগারের পরিমাণ বেড়ে গেলে চোখের ওপর প্রভাব পড়ে ৷ হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে ৷

    First published: