লাইফস্টাইল

corona virus btn
corona virus btn
Loading

Father's Day | লকডাউনে কি বদলে গেল বাবা-র সংজ্ঞা?

Father's Day | লকডাউনে কি বদলে গেল বাবা-র সংজ্ঞা?
Happy Father's Day 2002

এই নিও নর্মাল শুধু যে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক মজবুত করেছে তা নয়৷ সংসারে মা-বাবার মূল্য যে এক, সেটাও অনেকক্ষেত্রে বুঝতে সাহায্য করেছে সন্তানদের৷

  • Share this:

লকডাউনের নিয়ম শিথিল হতে খুলেছে অফিস৷ বাবা-মা দু’জনেই আবার ঘরের বাইরে৷ ছোট্ট পরী দুঃখ করে পরিচারিকাকে বলছে আমার ভাগ্যে সপ্তাহে মাত্র ১দিনই বাবা-মায়ের দেখা মিলবে! সত্যি, লকডাউন হয়ত চায়নি কেউ৷ করোনা থেকে বাঁচতে লকডাউন ছাড়া কোনও উপায় ছিল না ঠিকই৷ কিন্তু এতে অর্থিকভাবে ক্ষতি হয়েছে বিপুল৷ তবে লকডাউনের কিছু ভাল দিকও উঠে এসেছে৷ যার মধ্যে অবশ্যই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো৷ সবাই মিলে বাড়ির কাজ ভাগ করে নেওয়া৷ যাতে মায়েদের সঙ্গে সমানভাবে সামিল হয়েছেন বাবারাও৷ তাই তো এই ফাদার্স ডে-র আগে সন্তাদের কাছে অনেকটাই বদলে গিয়েছে বাবা-র সংজ্ঞা৷

মধ্যবিত্ত বাড়িতে বাবা মানেই একমাত্র রোজগেরে৷ তিনি সব সময় বাড়ির বাইরে৷ কর্মব্যস্ত৷ তাই তার কাছে সময় কোথায় বাড়ির ছোট সদস্যকে সময় দেওয়ার৷ অফিস থেকে ফিরেও কাজের শেষ নেই৷ তাই সন্তানের সঙ্গে কাটনো সময়ও একেবারে ঘড়ি ধরে৷ তবে লকডাউনে ভেঙেছে সব নিয়ম৷ বাড়িতে অফুরন্ত সময়ে বাবাকে প্রাণ ভরে কাছে পেয়েছে সন্তান৷ এটা কীভাবে ছাপ ফেলতে পারে বাচ্চাদের ওপর? মনোবিদ শাওনী বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, বাঙালি মধ্যবিত্তের যে সাংসারিক খাঁচাটা রয়েছে তাতে মা চাকরি করলেও বাবার থেকে তিনি বেশি বাচ্চাদের প্রতি দায়িত্বশীল৷ খুব কম ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বাবারা সন্তানের যত্ন নিচ্ছেন৷ আসলে আমাদের সমাজ মায়ের সংজ্ঞা ঠিক করে দিলেও বাবার কেমন হওয়া উচিৎ, তার ব্যাখ্যা দেয় না৷ তাই সেভাবে বাবার কথা ভাবলেই মনে হবে একজন ব্যস্ত মানুষ যিনি অধিকাংশ সময়ে সন্তানের প্রতি কঠোর৷ কিছু ক্ষেত্রে সেটা আলাদা হতেই পারে৷ শাওনী আরও বলছেন, বাবা সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেন৷ তাই সন্তানকে তিনি যত তাঁর সঙ্গে নিযুক্ত করবেন যে কোনও কাজে, সন্তানের আত্মবিশ্বাস, মানসিকভাবে দৃঢ় হওয়ার প্রবণতা তত বাড়ে৷ আর সেটা না পেলে অনেকক্ষেত্রেই অজান্তে সন্তানের মনে ক্ষোভ জন্মায়৷ রাগ বা হীনমন্যতা আসে৷

এই নিও নর্মাল শুধু যে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক মজবুত করেছে তা নয়৷ সংসারে মা-বাবার মূল্য যে এক, সেটাও অনেকক্ষেত্রে বুঝতে সাহায্য করেছে সন্তানদের৷ কারণ যে কাজগুলো তারা মায়েদের করতে দেখে অভ্যস্ত, সেগুলি এই লকডাউনে বাবা করেছেন, এবং হাসিমুখে৷ তাই সন্তান বুঝেছে যে সব কাজের সমান গুরুত্ব রয়েছে৷ স্মল স্কেলে হলেও বাড়িতে কোথাও একটা লিঙ্গ সমতার ধারণা তৈরি হয়েছে ছোটদের মধ্যে৷ যেই সব সন্তানদের বয়স একটু বড়, তারাও এটা উপলব্ধি করেছেন যে মা ও বাবার কাজে খুব বেশি পার্থক্য নেই৷

শাওনীর ব্যাখ্যা, ছোটদের কাছে এই সময়টা মা-বাবাকে একই রকম কাজ করতে দেখে লিঙ্গ বৈষম্যের ধারণাটা ভাঙবে৷ যারা একটু বড় অর্থাৎ ৮ বছর থেকে বয়ঃসন্ধিতে , তাদের মধ্যে বাবার সঙ্গে কাটানো সময় আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেবে৷ এবং যারা তার থেকেও বড়, তাদের এই সময়টা বাবার সঙ্গে গাঢ় বন্ধুত্ব তৈরি হওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ যদিও তাদের ভাবনাকে সম্মান করতে পারেন বাবা, এবং সংঘাতে না গিয়ে সবকিছু বুঝিয়ে বলতে পারেন,তা হলে এই বন্ধুত্ব আজীবন থাকবে৷ তবে চিত্র অনেকটা আলাদা দাপুটে বাবাদের ক্ষেত্রে৷ সেখানে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি৷

একই ভাবে যারা একা মায়ের কাছে মানুষ হচ্ছেন,এই সময় তাদের বাবার কথা মনে পড়তে পারে৷ কারণ প্রতিদিনের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা, স্কুল-কলেজে-পড়ার মধ্যে ডুবে থাকা মন কখনও এতটা সময় পায় না নিজেকে নিয়ে চর্চা করতে৷ সেক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও না পাওয়াগুলি ভীষণভাবে নাড়া দিয়ে যেতে পারে এই লকডাউনে, বলছেন মনোবিদ শাওনী৷ তাই মায়ের কাছে খুবই আদরে মানুষ হওয়া সন্তান অজান্তে এই লকডাউনে বলে উঠতেই পারেন, আই মিস ইউ বাবা!

Published by: Pooja Basu
First published: June 19, 2020, 7:24 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर