• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • পুজোর সাজে থাক মুক্তির স্বাদ : শর্বরী দত্ত

পুজোর সাজে থাক মুক্তির স্বাদ : শর্বরী দত্ত

শর্বরী দত্ত’র পোশাকে রিচা শর্মা ৷ ছবি: অমিত চক্রবর্তী ৷

শর্বরী দত্ত’র পোশাকে রিচা শর্মা ৷ ছবি: অমিত চক্রবর্তী ৷

এবারের পুজোর ফ্যাশন ঠিক কী তা জানতেই শর্বরী দত্ত’র নতুন ব্র্যান্ডের স্টোরে হাজির হয়ে গিয়েছিল নিউজ এইটিন বাংলা ডট কম ৷ মন খুলে পোশাকের বিবর্তন থেকে এবারের পুজোতে ফ্যাশন কী বলছে সব নিয়ে মন খুলে আড্ডা দিলেন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্ত ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: তাঁর বাবা ছিলেন একজন কবি ৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্টও ৷ ছোট থেকেই সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা৷ দর্শন শাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে আসেন ফ্যাশন জগতে ৷ তবে সব কিছু পেরিয়ে ২৭ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আজ তিনি একজন সফল ফ্যাশন ডিজাইনার ৷ তিনি শর্বরী দত্ত৷ আন্তর্জাতিক স্তরেও কাজ করেন তিনি ৷ ট্র্যাডিশনাল ইন্ডিয়ান ওয়্যার ফর ম্যানকে ফ্যাশনের মর্যাদা দিয়েছেন তিনিই৷ এক্ষেত্রে আজও তিনি এক এবং অদ্বিতীয়৷ সঞ্জয় লীলা বনসালি থেকে শুরু করে গোটা বচ্চন পরিবারের ড্রেস ডিজাইন করেছিলেন তিনিই ৷

    এবারের পুজোর ফ্যাশন ঠিক কী তা জানতেই শর্বরী দত্ত’র নতুন ব্র্যান্ডের স্টোরে হাজির হয়ে গিয়েছিল নিউজ এইটিন বাংলা ডট কম ৷ মন খুলে পোশাকের বিবর্তন থেকে এবারের পুজোতে ফ্যাশন কী বলছে সব নিয়ে মন খুলে আড্ডা দিলেন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্ত ৷

    যখন শুরুটা করেছিলাম, তখন ছেলেদের পোশাক নিয়ে অনেকটা খুঁতখুঁতে ভাব ছিল ৷ তখনও পোশাক আশাক নিয়ে এতোটা এক্সপেরিমেন্টের জায়গা ছিল না ৷ কিন্তু সেই জায়গা থেকে সরেই আমি ছেলেদের পোশাক বানাতে শুরু করেছিলাম ৷ ছেলেদের পোশাক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে শুরু করেছিলাম ৷ আমাদের নিজের সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে নিয়েই ভেঙেচুরে অন্য ধরনের পোশাক তৈরি করতে শুরু করেছিলাম ৷ যা তৎকালীন পুরুষদের বড্ড ভাল লেগে যায় ৷ এমনকী মহিলাদের মধ্যেই অনেকেই বলেছেন, আপনার বানানো ছেলেদের পোশাক দেখে সত্যিই হিংসে হয় ৷

    F13

    শর্বরী দত্ত’র আউটফিটে রিচা শর্মা ৷ 

    আমরা এত সুন্দর করে সাজতে পারি না ৷ আপনি কিছু বানান না ৷ আসলে সে সময়ও ছেলেদের পোশাক বলতে কয়েকটি রং এবং নকসার মধ্যেই ঘোরাফেরা করত ৷ লাল কিংবা পিঙ্ক রংয়ের পোশাক যে ছেলেরা পরতে পারেন, এই ভাবনাটাই ছিল না সে সময় ৷ তবে সময় এগিয়েছে, মানুষের ভাবনা-চিন্তা, স্বাদ-সব কিছুরই বদল ঘটেছে ৷ তখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে আমার পোশাকের মাধ্যমে যে কথাগুলো বলতে চেয়েছিলাম ৷ এখন দেখি পুরুষরা সেই ধরনের পোশাকই বেছে নেন ৷

    থাকুন সংস্কৃতির সঙ্গে

    এই তো এবারের পুজোতে বিভিন্ন কাটের পাঞ্জাবি, ড্রিপিং স্টাইলের পাঞ্জাবি ফ্যাশন ইন ৷ হ্যাঁ পুজোটা তো আমাদের সংস্কৃতিকে উদযাপন করার একটা সময় ৷ আর সেই সময় আমাদের সংস্কৃতিকে শো কেস করব না তো কখন করব! তাই পুজোর কয়েকটাদিন ট্রাডিশনাল আউট ফিট বেছে নিন ৷ এ বার আমার কালেকশনে রয়েছে কুমোরটুলি, বাউল, বুদ্ধের জীবন নিয়ে বিভিন্ন মোটিফের কাজ ৷ আমার পোশাকে বারে বারেই ঘুরে ফিরে মাইথোলজি ফিরে আসে ৷ এবারও সেই ব্যাপারটাই রাখা হয়েছে ৷ একই সঙ্গে পুজো বাদে অন্যান্য কমিটমেন্টও তো থাকে ৷ তাই সে সময় নানা ধরনের ডিজাইনার শার্ট পরা যেতে পারে ৷ ডিস্কো শার্ট পরা যেতে পারে ৷ ট্রাউজার্সের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করা যেতে পারে ৷ জুতোর ক্ষেত্রেও একটু ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে বইকি ৷

    রঙিন ধুতিতে সাজুন

    একটা সময় রঙিন ধুতি কেউ পরতে চাইতেন না ৷ মানুষ বলত, ছেলেরা আবার রঙিন ধুতি পরে নাকি! কিন্তু আমাদের সংস্কৃততেই রঙিন ধুতির চল রয়েছে ৷ পুরোহিতরা রঙিন ধুতি পরেন ৷ তিরুপতি মন্দিরে গেলে সেখানকার পুরোহিতদেরও বিভিন্ন রংয়ের ধুতি পরতে দেখা যায় ৷ সেটাকেই একটু অন্যভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছিল ৷ সেটাই ছিল ইউএসপি ৷ এখন তো প্রতিটা স্টোরেই রঙিন ধুতি পাওয়া যায় ৷ কিন্তু ধুতি পরা বেশ কষ্টসাধ্য বলেও অনেকের অভিযোগ ছিল ৷ কিন্তু এখন ধুতি পরা বেশ সহজ ৷ কেন না পুরো ব্যাপারটাই পায়জামা মতো করে দেওয়া হয়েছে ৷ শুধু পরে নিয়ে দড়ি বেঁধে নিতে হবে ৷ যা দেখতে হুবহু কাছা দেওয়া ধুতির মতোই ৷

    F14

    শর্বরী দত্ত’র ডিজাইনার শাড়িতে রিচা শর্মা ৷ 

    মেয়েদের সাজ

    পুজোর সময় মেয়েদের সব থেকে বেশি মানায় শাড়িতেই ৷ আর ‘শূন্য’মহিলাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের শাড়ি নিয়ে এসেছে ৷ আমার মনে হয়, কিছু নতুন ধরনের শাড়ি পরা উচিত ৷ নতুন ধরনের বলতে এমন নয় যে মনে হয়, একটা বোঝা কাঁধে বয়ে নিয়ে যাচ্ছি ৷ এমন হওয়া উচিত যাতে, নিজেদের সংস্কৃতির ছাপ থাকে সে সমস্ত পোশাকে ৷ আর আমার মনে হয় আমাদের দেশে তো বিভিন্ন ধরেনর শাড়ি তৈরি হয় ৷ তা নিয়ে যদি একটু ভাবনা-চিন্তা করে একটা নতুন আঙ্গিকের শাড়ি উপহার দেওয়া যায়, তার থেকে ভাল কিছু হতে পারে না ৷

    শাড়িতে সুন্দর

    আর এখন শাড়ি হওয়া উচিত এমন যে যা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে যায় ৷ এখন তো অনেকেরই পুজোর সময় ছুটি থাকে না ৷ হয়তো সকালে পাড়ার পুজোতে সময় কাটিয়ে দুপুরে অফিসে যাওয়া আছে ৷ তেমন ধরনের শাড়ি বেছে নিন, যাতে দুটো জায়গাতেই সমান তালে ম্যানেজ দেওয়া যায় ৷ আমাদের দেশের এক একটা প্রদেশে এক ধরনের শাড়ি পাওয়া যায় ৷ এবারের পুজোতে তার একটা মিশেল ট্রাই করুন না ৷ যা এক্কেবারে অন্য ধরনের একটা ফিল এনে দেবে ৷ আমি বলল পুজোর সব ক’টাদিন না হলেও অষ্টমীর দিন যেন মেয়েটি শাড়ি পরুক ৷ মাথায় ফুল দেয়, বিভিন্ন ধরনের সুন্দর সুন্দর গয়না পরুক ৷

    এছাড়া সকালের দিকে একটু হালকা রং বেছে নিন ৷ আর রাতের জন্য তোলা থাক একটু জমকালো সাজ ৷ আবার আপনি যদি একটু আনকমফর্টেবল মনে করেন তবে ফর্মাল ওয়্যারও নিঃসন্দেহে বেছে নিতেই পারেন ৷ তবে পুজোর কটা’দিন তো কোনও বাধা ধরা নিয়ম থাকে না ৷ তাই এই সময়টা একটু মুক্তভাবে, প্রাণ ভরে সাজুন ৷ চুল বাঁধুন,সুন্দর সুন্দর পোশাক পরুন ৷ মোদ্দা কথা হল-পুজোটায় চুটিয়ে আনন্দ করা আর মজা করা ৷ যার রেশটা সারাটা বছর থেকে যাবে ৷ আর সেই কারণে পোশাকটা এমন হোক যাতে আনন্দের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলে ৷

    ছবি: অমিত চক্রবর্তী ৷

    মেক আপ ও কেশ বিন্য়াস: কৌশিক দাস ৷

    শুটিং কো অর্ডিনেটর: অ্যাডভার্ব ৷

    First published: