East Medinipur News: একদিন মাস্টার্সে ভর্তির ৩৫০ টাকার জন্য কাঁদতে হয়েছিল, আজ তিনিই গবেষক তৈরির নেপথ্য কারিগর
- Reported by:Madan Maity
- hyperlocal
- Published by:Rukmini Mazumder
Last Updated:
মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য বাবার কাছে মাত্র ৩৫০ টাকা চেয়ে একদিন চোখের জল ফেলেছিলেন তিনি। আজ সেই মানুষটিই বহু গবেষক ও আইআইটি অধ্যাপক তৈরির নেপথ্য কারিগর
কাঁথি, মদন মাইতি: মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য বাবার কাছে মাত্র ৩৫০ টাকা চেয়ে একদিন চোখের জল ফেলেছিলেন তিনি। আজ সেই মানুষটিই বহু গবেষক ও আইআইটি অধ্যাপক তৈরির নেপথ্য কারিগর। তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ই। বাবা ছিলেন ধান চাষি। ছোটবেলা কেটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং-এর কেলেঘাই নদীর পাড়ে সুন্দরপুর গ্রামে। অভাবের সংসার ছিল। তবু বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে পড়াশোনা করে বড় হবে! জমি বিক্রি করে ছেলেকে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় স্নাতক পড়ান। স্নাতক পাশের পর বসন্ত কুমারের ইচ্ছে ছিল মাস্টার্স ডিগ্রি করার। কিন্তু বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হতে প্রয়োজন ছিল ৩৫০ টাকা। বাবার কাছে কান্নাকাটি করেও সে টাকা জোগাড় হয়নি।
শেষ পর্যন্ত বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। মামা ও পিসেমশাইয়ের কাছে হাত পাতেন। সেখান থেকেই জোগাড় হয় ৩৫০ টাকা। বাবাকে কিছু না জানিয়ে ভোররাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন মাস্টার্সে। তবে সমস্যার শেষ হয়নি। থাকার জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসতে হয়। কিছুদিন পর ছাত্র সংসদ থেকে ডাক আসে। থাকার ব্যবস্থা হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিতেও যুক্ত হন তিনি। মাস্টার্স শেষ করার পর বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পরই শুরু হয় কর্মজীবন।
advertisement
প্রথমে তমলুক কলেজে ১০ মাসের লিওন লেকচারার হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে দাসপুরের খুকুড়দহ হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে টানা ১১ বছর ৬ মাস শিক্ষকতা করেন। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে বদলি হয়ে আসেন কাঁথির নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলে। এখানেই শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই। বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের উন্নতির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। তখন মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২৬০ জন পড়ুয়া অংশ নিলেও উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয় মাত্র ১১ জন।
advertisement
advertisement
ছাত্রসংখ্যা বাড়াতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বোঝাতে শুরু করেন প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করেন। মাধ্যমিকে প্রথম হওয়া যাদব মাঝির বাড়িতে নিজে গিয়ে তাঁর বাবা-মাকে বোঝান। নিজের বিদ্যালয়ে ভর্তি করান তাঁকে। আর্থিক সমস্যার কারণে যাদবকে নিজের বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করান তিনি। নিজের বাইকে করে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যেতেন। আজ সেই যাদব মাঝি আইআইটি-র অধ্যাপক। শুধু যাদব নন, আরও একাধিক মেধাবী ছাত্র তাঁর বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করেছে। নিজের বাড়িকে কার্যত হস্টেলে পরিণত করেছিলেন তিনি। একটি মাত্র ছাত্রীর থাকার জন্য বিদ্যালয়ে গার্লস হস্টেলও তৈরি করেছিলেন। আজ সেই ছাত্রী দিল্লিতে গবেষণার ছাত্রী। বসন্ত কুমারের টার্গেট পিছিয়ে পড়া পড়ুয়ারা। তৈরি হয়েছে স্মার্ট ক্লাসরুম। স্কুল ক্যাম্পাস এখন বেসরকারি স্কুলের মতো। আজও বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ুয়াদের স্কুলে ফেরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বসন্ত কুমার ঘোড়ই।
স্বাস্থ্য এবং লাইফস্টাইলের (Lifestyle News in Bengali)সব খবরের আপডেট পান নিউজ 18 বাংলাতে ৷ যেখানে থাকছে হেলথ টিপস, বিউটি টিপস এবং ফ্যাশন টিপসও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং টপ হেডলাইনগুলি অনলাইনে নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিতে ৷ এর পাশাপাশি ডাউনলোড করুন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-এ সব খবরের আপডেট পেতে ! News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Medinipur (Midnapore),Paschim Medinipur,West Bengal
First Published :
Jan 28, 2026 1:39 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/লাইফস্টাইল/
East Medinipur News: একদিন মাস্টার্সে ভর্তির ৩৫০ টাকার জন্য কাঁদতে হয়েছিল, আজ তিনিই গবেষক তৈরির নেপথ্য কারিগর










