Home /News /life-style /
NetraSuraksha: ডায়াবেটিসের কারণে আপনার চোখের ক্ষতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আপনার পরিবারও

NetraSuraksha: ডায়াবেটিসের কারণে আপনার চোখের ক্ষতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আপনার পরিবারও

NetraSuraksha: ভারতে, ডায়াবেটিস আক্রান্ত মোট প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা ২০১৯ সালে ছিল ৭৭ মিলিয়ন

  • Share this:

    NetraSuraksha সেল্ফ চেক করিয়ে নিন এখানে

    অন্ধ হয়ে গেলে জীবন কেমন হবে, এই রকম দুশ্চিন্তা আমরা কেউই করতে চাই না। এই রকম ভাবনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ভয়াবহ।কিন্তু যদি এই বিষয়ে ভাবেন, তাহলে দেখবেন কত জিনিস আপনি মিস করবেন। এমনকী আপনাকে চাকরিও ছেড়ে দিতে হবে। হয়তো আপনাকে নতুন করে কোনও বিষয় শিখতে হবে (তা-ও এমন সময়ে যখন হয়তো আপনি সদ্য নিজের কেরিয়ার সুপ্রতিষ্ঠিত করে ভালো পরিমাণ টাকা রোজগার করতে শুরু করেছেন!)। আপনার প্রতিদিনের দিনলিপি সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তার সাথে এই নতুন প্রতিবন্ধকতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা রকম প্রশ্ন মাথায় আসতে পারে: আপনার কি পরিচারকের প্রয়োজন হবে? আপনার জীবনসঙ্গীকেও কি চাকরি ছাড়তে হবে? আপনার সন্তানদের উপরে এই ঘটনার কীরকম প্রভাব পড়বে? তাদের পড়াশোনার উপরে এর কীরকম প্রভাব পড়বে? এরপরেও কি নিজের সন্তানকে বিদেশের কলেজে পড়তে পাঠাতে পারবেন?এই ঘটনার পরে চিকিৎসার বাবদ কত খরচ হতে পারে?

    নিঃসন্দেহে এর ফলে আপনার জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন আসবে।কিন্তু আমরা এই বিষয় নিয়ে এখন কেন আলোচনা করছি? কারণ আপনার কিছু পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানা উচিত, এবং সেগুলি নীচে দেওয়া হল:

    ● 2019 সালে 20–79 বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল বড়জোর 463 মিলিয়ন,যা ছিল তৎকালীন বিশ্বের এই বয়সসীমাভুক্ত মোট জনসংখ্যার মাত্র 9.3%। আশঙ্কা করা হচ্ছে, 2030 সালের মধ্যে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হবে 578 মিলিয়ন (10.2%) এবং তা বেড়ে 700 মিলিয়নে(10.9%) পৌঁছবে 2045 সালের মধ্যে1।

    ● প্রতি দুই জনের মধ্যে একজন (50.1%), বা 463 মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে অন্তত 231.9 মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক জানেন না যে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি টাইপ 2 ডায়াবেটিস,20–79 বছর বয়সীদের মধ্যে)1।

    ● ভারতে, ডায়াবেটিস আক্রান্ত মোট প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা 2019 সালে ছিল 77 মিলিয়ন, তাঁদের মধ্যে অন্তত 43.9 মিলিয়ন ভারতীয়ের ক্ষেত্রে এই রোগ নির্ণীত হয়নি1।

    একদম শেষ তথ্যটি পড়ে হয়তো আপনার ভ্রূ কুঁচকে গিয়েছে – ভারতে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ব্যক্তি জানেনই না যে তাঁর শরীরে এই রোগ রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে এই সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। দিনভর যাতায়াত, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা, এই সম্পর্কিত মানসিক চাপ, বাইরের খাবার খাওয়া, শরীর-চর্চার জন্য হাতে সময় না থাকা এবং এক জায়গায় বসে কাজ করা, এই ধরনের অভ্যাসগুলির জন্য ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শহরে এই সমস্যা বেশি চোখে পড়ে। নিশ্চয়ই ভাবছেন, অন্ধত্বের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা করার মাঝে কেন ডায়াবেটিসের প্রসঙ্গ টেনে আনছি? তাহলে আরও কয়েকটি তথ্য জেনে নিন:

    ● ডায়াবেটিসের কারণে হওয়া জটিলতাগুলির মধ্যে অপেক্ষাকৃত অজানা, কিন্তু সম্ভবত সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হল ডায়াবেটিক চোখের রোগ। এর মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ডায়াবেটিক ম্যাকুলার এডিমা, ছানি বা ক্যাটারাক্ট এবং গ্লুকোমা, তার পাশাপাশি রয়েছে ডবল ভিশন এবং ফোকাস না করতে পারার সমস্যাও1।

    ● অধিকাংশ দেশে, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি-কে কর্মক্ষম জনগণের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ বলে গণ্য করা হয় এবং তাই এই রোগের অত্যন্ত ক্ষতিকারক পারিবারিক ও আর্থ-সামাজিক প্রভাব রয়েছে বলা যেতে পারে1।

    ● 1980 থেকে 2008 সালের মধ্যে সারা বিশ্বে সংগঠিত প্রায় 35টি সমীক্ষার উপরে ভিত্তি করে করা বিশ্লেষণে আরও একটি তথ্য উঠে এসেছে। ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের রেটিনাল ইমেজে দেখা গিয়েছে, এই রোগে আক্রান্তদের দৃষ্টিশক্তি অন্তত 35% ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- রোগীদের মধ্যে অন্তত 12%-এর মধ্যে এই রোগের উপস্থিতি রয়েছে1।

    এই পরিসংখ্যানগুলি আর একবার দেখে নিন। ভারতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষই জানেন না যে তাঁর এই রোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বিভিন্ন পর্যায়ের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে আক্রান্ত, এবং প্রতি আট জনের মধ্যে এক জনের চোখে এই রোগ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে এবং তার ফলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই তথ্যগুলি জানার পরে কি চোখের পলক ফেলতে ভুলে গিয়েছেন? আমাদের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ঠিক এই কারণেই Novartis–এর সাথে হাত মিলিয়ে Network18 চালু করেছে 'Netra Suraksha' - India Against Diabetes initiative নামের একটি উদ্যোগ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল করার জন্য ভারতের সেরা চিকিৎসক, নীতি প্রণেতা এবং বিদ্বজ্জনদের একত্রিত করা।

    ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি যে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের কোনও রকম উপসর্গ বোঝা যায় না। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত, এই পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু হলে তা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হয়। যতদিনে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করবে, ততদিনে রোগ জটিল রূপ ধারণ করবে এবং তার ফলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেনে রাখা জরুরি, এই রোগের জেরে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা চিকিৎসার মাধ্যমে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে রোগ ধরা পড়ার পরে, চিকিৎসকের সমস্ত পরামর্শ মেনে চললে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    আরও একটা বিষয় আমরা জানতে পেরেছি, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি চিহ্নিত করা খুবই সহজ। এর জন্য শুধু একটি সহজ, যন্ত্রণাবিহীন, রুটিন চোখের পরীক্ষা করাতে হবে (চোখের ডাক্তারের কাছে গিয়ে এই পরীক্ষা করাতে হবে, চশমার দোকানে নয়!)। Netra Suraksha মিশনের মূল্য লক্ষ্য হল সকলকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা – বিভিন্ন গোলটেবিল বৈঠক, ব্যাখ্যামূলক ভিডিও এবং প্রতিবেদনের মাধ্যমে। News18.com –এর Netra Suraksha initiativeপেজে গিয়ে আপনারা এই সমস্ত কিছু পেয়ে যাবেন। এছাড়াও আমরা একটি অনলাইন Diabetic Retinopathy Self Check Up তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে আপনার ঝুঁকির পরিমাণ পরিমাপ করা সম্ভব।

    আমরা আপনাকে এখান থেকেই যাত্রা শুরু করার পরামর্শ দেব। অনলাইনে Diabetic Retinopathy Self Check Up করিয়ে নিন এবং তারপরে Netra Suraksha initiative পেজে গিয়ে এই বিষয়ে পড়ুন। আপনার নিজের এবং পরিবারের সকলের চোখের পরীক্ষা করানোর জন্য আপনার চোখের ডাক্তারের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করুন। এর পাশাপাশি রক্তপরীক্ষা করিয়ে ব্লাড সুগারের মাত্রা জেনে নিন। প্রতি বছর নিয়ম করে এই পরীক্ষাগুলি করান- আপনার জীবনের কোনও গুরুত্বপূর্ণ দিনে এগুলি করাতে পারেন, তাহলে আর সহজে ভুলে যাবেন না।

    সবাইকে জানিয়ে দিন: আপনার বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সকলের সাথে এই তথ্য শেয়ার করুন। এই সমস্যার সমাধান করার যে প্রয়াস করা হচ্ছে, তার অংশ হয়ে উঠুন। স্ক্রোল করে উপরে গিয়ে পরিসংখ্যানগুলি আরও একবার দেখে নিন। এই রোগকে হারাতে হলে, প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীকে প্রতি বছর নিয়ম করে চোখের পরীক্ষা করাতে হবে। ডায়াবেটিস এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে এগিয়ে আসুন। তাহলে জয় অনিবার্য।

    References:

    1. IDF Atlas, International Diabetes Federation, 9th edition, 2019

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    Tags: Diabetes, NetraSuraksha

    পরবর্তী খবর