Home /News /kolkata /
#জুলফিকর রিভিউ: টলিউডের সব স্টার নিয়েও, ডুবল সৃজিতের ‘জুলফিকর’

#জুলফিকর রিভিউ: টলিউডের সব স্টার নিয়েও, ডুবল সৃজিতের ‘জুলফিকর’

প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ৷ অস্টমীর ছবি, একাদশীতে এসে রিভিউ ! আসলে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পুজোর ছবি

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ৷ অস্টমীর ছবি, একাদশীতে এসে রিভিউ করায় ! আসলে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পুজোর ছবি ‘জুলফিকর’ এমন ছবি নয়, যা নিয়ে তাড়াহুড়ো করা যায় ৷ অন্তত, ছবিটা  দেখার পর , তা কেমন হয়েছে জানানোর উৎসাহটা প্রায় উবেই যায় ৷ কারণ, যা তাড়াহুড়ো রয়েছে, তা একা হাতে পরিচালক সৃজিতই করেছেন সিনেমার পর্দায় জুড়ে ৷ কিন্তু কেন করলেন এত তাড়াহুড়ো ?

    ছবি প্রোমোশনের সময় বার বার গোটা জুলফিকর টিম নানা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শেক্সপিয়রের জুলিয়াস সিজার এবং অ্যান্টনি-ক্লিওপেট্রা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে এই ছবি ৷ আর যার সঙ্গে মিশে গিয়েছে কলকাতার খিদিরপুর অঞ্চলের অপরাধ জগত৷ কিন্তু ছবি দেখতে বসে, স্পষ্ট হয়ে যায় জুলিয়াস সিজারের দুর্বল অনুকরণ, আর খিদিরপুর অপরাধ জগত ? বাচ্চাদের লুকোচুরি খেলাও হয়তো এর থেকে বেশি ইন্টারেসটিং হয় ৷ অন্তত, সৃজিত যেরকমটি ‘চেজিং’ দৃশ্য, অ্যাকশন দৃশ্য দেখিয়েছেন ছবিতে তা নিতান্তই ভিডিও গেম থেকেও দুর্বল পর্যায়ে !

    প্রথম প্রশ্ন ৷ অ্যাকশন সিকোয়েন্স আউট অফ ফোকাশ কেন? অনেক সময়ই মোবাইল ক্যামেরায় তোলা ফুটেজ মনে হয় ৷ সে তো নয় গেল, টেকনিক্যাল পার্ট ৷ গল্প ?

    গডফাদারকে টুকে, থুড়ি অনুপ্রেরণা পেয়ে টেবিলে চেয়ার বসিয়ে ‘গুণ্ডাদের’ বৈঠক দেখালেন ৷ কিন্তু সেখানে তৈরি করতে পারলেন না কোনও টেনশন ৷ তৈরি করতে পারলেন না কোনওরকম ড্রামা ৷ কথায় কথায় বন্দুক দেখালেই কী আর অ্যাকশন ছবি হয় !

    তা জুলিয়াস সিজর থেকে কী কী নিলেন সৃজিত ? ইংরেজি থেকে বাংলায় কপি পেস্ট করেছেন ব্রুটাস ও মার্কিজের ‘স্পিচ’ ৷ Beware the ides of March, Et tu, Brute, Friends, Romans, countrymen, lend me your ears, জুলিয়াস সিজারের এই জনপ্রিয় ‘কোট’গুলো রয়েছে বাংলায় ! আর বাকিটা খিদিরপুরের অপরাধ জগত, নিষিদ্ধ কাজের মালিকানার সঙ্গে মেলাতে গিয়েছিলেন, ঠিক যেমন বিশাল ভরদ্বাজ ‘হয়দর’ ছবিতে হ্যামলেটকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন কাশ্মীরের অশান্ত প্রেক্ষাপটে ৷ তবে বিশাল ছিলেন সফল ৷ আর সৃজিত ‘অসফল’ !

    সৃজিতের ‘জুলফিকর’ অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট দোষে দুষ্ট ৷ যদি এই ছবিতে অভিনয় বলে কেউ কিছু করে থাকেন, তাহলে তাঁরা হলেন কৌশিক সেন ও যিশু সেনগুপ্ত ! আর বাকিরা ? শুধুই আছেন ৷

    এই ছবির সবচেয়ে বড় স্টার বললে হয়তো কম বলা হবে না প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ৷ তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি দুর্বল ৷ প্রথমভাগে ছবিতে তাঁর মৃত্যু ঘটলেও, বার বার আত্মা হয়ে ফিরে আসা, এবং হাত তুলে কৌশিক সেনকে কাছে ডাকা ! ‘অমরসঙ্গী’র চিরদিনই গানের সুরকে আবহসঙ্গীতের জায়গায় মিস করতে হয় ! এরকম চিত্রনাট্যের কী সত্যিই দরকার ছিল? প্রশ্ন ওঠে ৷

    ছবিতে দেব নির্বাক ৷ সবাক থাকলেও যা হোত, নির্বাকেও তাই ৷ দেব আছেন নিজের ‘চ্যালেঞ্জ’ মার্কা ইমেজেই৷ পরমব্রত-র বিশেষ কিছু করার ছিল না ৷ তাই করেননি ৷ দুর্বল অঙ্কুশ, রাহুল ৷ মায়া হয় শ্রীজাতকে দেখে ৷ কষ্ট হয় পাওলির মতো অভিনেত্রীকে কোনও কাজেই লাগনো হল না ছবিতে ৷ গোটা ছবিতে নুসরত ফ্যালফ্যালে চোখে তাকিয়ে ছিলেন, আর বলেছেন ‘কিছু খেয়ে বেরিয়েছো?’ এটাই কী সৃজিতের ক্লিওপেট্রা !

    সৃজিতের ‘জুলফিকর’ থেকে পাওয়া একমাত্র প্রাপ্তিই হল নচিকেতার গান ‘এক পুরনো মসজিদে’ ৷ সেটাকেও হেলায় ব্যবহার করলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায় ৷

    First published:

    Tags: Review, Srijit Mukherjee, Tollywood, Zulfiqar

    পরবর্তী খবর