• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • WEST BENGAL INFRASTRUCTURE SHOWN AS UP DEVELOPMENT SIGN IN YOGI ADVERTISEMENT TMC GOT WEAPON TO SHARPEN ATTACK AKD

Yogi advertisement Controversy| যোগীরাজ্যের বিজ্ঞাপনে মা উড়ালপুলের ছবি! বিতর্ক উস্কে ক্ষমা চাইল সংবাদপত্র

যোগীর বিজ্ঞাপনে কলকাতা! প্রতিবাদে শান তৃণমূলের।

UP Yogi advertisement Controversy| উত্তরপ্রদেশের বিজ্ঞাপনে মা উড়ালপুল! রাজনৈতিক মহলের অনেকে বলছেন তৃণমূলের হাতে অস্ত্র তুলে দিলো যোগী ‌ সরকার।

  • Share this:

    #লখনউ: সামনেই যোগীরাজ্যে ভোট (UP Vote 2022)। তার আগে  উন্নয়নের ফিরিস্তিতে সেজে উঠবে দেওয়াল, পাতা জোড়া বিজ্ঞাপন প্রকাশিত (Yogi Adityanath Government) হবে উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে- তা তো বলাই বাহুল্য। কিন্তু সেই উন্নয়নের বিজ্ঞাপনে যদি ঢুকে পড়ে কলকাতার ছবি! শুনতে অবাক লাগলেও এবার অভিযোগ এমনটাই। যোগী আদিত্যনাথের কর্মযজ্ঞের বিজ্ঞাপনে এবার স্পষ্টই উঠে এসেছে এক খণ্ড কলকাতা। খোলসা করে বললে বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ছবিটি মা উড়ালপুলের (UP ad Controversy)। ছবিতে দেখা যাচ্ছে কলকাতার সিগনেচার হলুদ ট্যাক্সি। দেখা যাচ্ছে কলকাতার দুটি বিখ্যাত হোটেলও। এই ছবিকে যোগীরাজ্যের বলেই দাবি করা হয়েছে ওই বিজ্ঞাপনে। তৃণমূল একযোগে এই ছবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর। রাজনৈতিক মহলের অনেকে বলছেন তৃণমূলের হাতে অস্ত্র উঠে এলো এই বিজ্ঞাপনের হাত ধরেই।

    অভিযোগ, আজ ১২ সেপ্টেম্বর একটি বিখ্যাত দৈনিকপত্রের পাতায় যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath Development ) একটি বিশাল বিজ্ঞাপনী কাটাউট বেরিয়েছে। তার সঙ্গে যে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ছবি দেখা উত্তরপ্রদেশের পরিকাঠামো হিসেবে তা আসলে কলকাতার। ওই বিজ্ঞাপনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আইটিসি সোনার বাংলা. জে ডবলিউ ম্যারিয়টের মতো কলকাতার বিখ্যাত হোটেলগুলি।

    এই নিয়ে টুইটারে সরব তৃণমূলর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখছেন, "ইউপির পরিবর্তন মানে বাংলার পরিকাঠামোর ছবি চুরি করে নিজের নামে চালানো। যে পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে।"

    অভিষেকের ট্যুইট-

    অভিষেক আরও লিখেছেন, " দেখে মনে হচ্ছে ডবল ইঞ্জিন মডেলের ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির সবথেকে শক্তিশালী রাজ্যেই। এবং এখন এটাই সবার সামনে চলে এলো।"

    প্রতিবাদে মুখর আরেক তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ও। তিনি বলছেন, "ইউপি সরকার জালিয়াতি করেছে সেটা পরিষ্কার। অন্য সময় একজায়গার দাঙ্গায় ছবি অন্য জায়গায় দিয়ে থাকে। এবার উন্নয়নের ছবি দিয়েছে। ভোট আসছে তাই কলকাতার উন্নয়নটা নিজেদের বলে চালানোর চেষ্টা করছেন। ভালো হতো যদি বলতেন পরের বার জিতে আসলে এই রকম উন্নয়ন করব। আইনি পদক্ষেপ করাই যায়। কিন্তু সেদিকে যাব না।"

    কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লিখছেন, "ওদের কাজই হল মিথ্যে বিজ্ঞাপন দেওয়া। এর আগে নকল বিজ্ঞাপন দিয়ে উত্তরপ্রদেশের যুবকদের চাকরির মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন ফ্লাইওভারের মৃত্যু ছবি দিয়ে বিকাশের আরও এক মিথ্যে ছবি তুলে ধরছে। মানুষের চাওয়া পাওয়ার সঙ্গে ওদের কোনো সম্পর্কই নেই।"

    সমাজবাদী দলের নেতা অখিলেশ যাদব বলছেন, "এতদিন বহু মিথ্যা কথাই বলত বিজেপি সরকার। এবার সব সীমা ছাড়াল তারা। কলকাতার ছবি দিয়ে বিকাশের মিথ্যে দাবি করছে বিজেপি সরকার।"

    বলা বাহুল্য এই মা সেতু আজ থেকে বছর ছয়েক আগে উদ্বোধন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজে। সেতুর নামও তাঁর দেওয়া। তারই সরকারের ট্রেডমার্ক নীল সাদায় সেতুটি রাঙানো। সেই সেতু উত্তরপ্রদেশের হয়ে গেল কী করে! এই প্রশ্নই উঠছে। এটা কি নেহাত বিজ্ঞাপনী সংস্থার ভুল নাকি ডিসইনফরমেশান (উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ছড়ানো অপতথ্য) সেই প্রশ্নই উঠছে। যাই হোক না কেন, দণ্ড দিতে হচ্ছে যোগী সরকারকেই-সে কথা বলাই যায়।

    সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে, প্রণব পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়কেও। অভিজিৎ লিখেছেন, বাংলার গর্ব এই নির্মাণকে দেখা যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছবির সঙ্গে। আসলে বিজেপি একটি ফেক পার্টি যা দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

    এই ঘটনাটি সামনে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই যে পত্রিকাটিতে এই বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল তার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় সংস্থার বিপণন বিভাগের তরফে ভুল করে এই ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, সব ডিজিটাল মিডিয়া থেকেই এই ছবিটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে । সংস্থার এ হেন বিবৃতি বিজেপিকে কিছুটা অক্সিজেন দিচ্ছে। আসরে নেমে গিয়েছেন অমিত মালব্য, শুভেন্দু অধিকারীর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ওই সংস্থার ট্যুইট শেয়ার করে লিখেছেন, "প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার অভাবে দেউলিয়া হওয়া একটি রাজ্য থেকে উত্তরপ্রদেশ সরকারের ছবি ধার করার করার প্রয়োজন নেই। এটি নিছক একটি বিজ্ঞাপনী ভুল যাকে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিকাশের উদাহরণ যোগী সরকার।"

    অমিত মালব্য হাতিয়ার করেছেন সংস্থার ওই ট্যুইটটিকেই। তিনি লিখেছেন, "তৃণমূল এবং অন্য বিরোধীদের অতি উৎসাহে জল ঢেলে দিল সংস্থার এই বিবৃতি। এই বড় ধাক্কার মাশুল কে দেবে?"

    বিশিষ্ট সাংবাদিক ভির সাংভিও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি ওই ছবিতে যোগীর ভঙ্গিটি প্রসঙ্গে লিখেছে, এটা কি জিক হেইল (নাৎসী আমলে সেনানায়কদের স্যালুটের ভঙ্গি) নাকি যোগীর হেইল? নাকি স্রেফ স্রেফ বিপণন বিভাগের ভুল?

    Published by:Arka Deb
    First published: