Home /News /kolkata /
শিক্ষক নিয়োগে কোনও বাধা নেই, তবে চলবে টেট মামলা: কলকাতা হাইকোর্ট

শিক্ষক নিয়োগে কোনও বাধা নেই, তবে চলবে টেট মামলা: কলকাতা হাইকোর্ট

হাইকোর্টের রায়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আপাতত স্বস্তিতে রাজ্য সরকার ও চাকরিপ্রার্থীরা ৷ তবুও এখানেই শেষ হচ্ছে না টেট জটিলতা ৷ নিয়োগ সম্পূর্ণ হওয়ার পরও চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ আদালতের চুড়ান্ত রায়ের উপর নির্ভর করবে ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: হাইকোর্টের রায়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আপাতত স্বস্তিতে রাজ্য সরকার ও চাকরিপ্রার্থীরা ৷ তবুও এখানেই শেষ হচ্ছে না টেট জটিলতা ৷ নিয়োগ সম্পূর্ণ হওয়ার পরও চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ আদালতের চুড়ান্ত রায়ের উপর নির্ভর করবে ৷ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি চলাকালীন এই কথাই জানাল হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ ৷

    নিয়ম মেনে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে কোনও বাধা নেই।  প্রশিক্ষণহীনদের নিয়োগে কোনও স্থগিতাদেশ নয়।  বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিল বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ।  পুজোর আগে ও পরে দুবার প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন রিতা হালদার।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘ ২০১৬ র ৩১ মার্চের পর প্রাথমিকে প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক নিয়োগে বৈধ ছাড়পত্র দেয়নি কেন্দ্র ৷ তাহলে কিসের ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রশিক্ষণহীনদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে রাজ্যে? ১২ অক্টোেবর সরকারি ছুটি দিন বিজ্ঞপ্তি জারি হয় ৷ নিয়ম বিরুদ্ধ এই নিয়োগ প্রক্রিয়া খারিজ করুক হাইকোর্ট  ৷’

    প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের আইনজীবী সুবীর সান্যাল বলেন, ‘নিয়মেই আছে চাকরি পাওয়ার দু’বছরের  মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করতে পারবেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা ৷ মামলাকারীর আইনজীবীর গ্রহণযোগ্যতা কম ৷’

    দুই পক্ষের সওয়াব-জবাব শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, নিয়ম মেনে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে রাজ্য ৷ আপাতত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ  প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ নয় ৷ এক মাসের মধ্যে হলফনামা দেবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও রাজ্য ৷ হলফনামা দেবে মামলার অন্য পক্ষও  ৷ তবে এই জনস্বার্থ মামলার রায়ের উপর নির্ভর করবে নিয়োগ হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের ভবিষ্যত ৷

    তবে একইসঙ্গে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের অবকাশকালীন বেঞ্চ জানায়, নিয়োগ জারি থাকলেও বিচারাধীন থাকবে টেট মামলা ৷ পুজোর ছুটির পর টেট মামলার নিয়মিত শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে ৷

    একইসঙ্গে হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, মামলা ফলের উপর নির্ভর করবে চাকরিপ্রাপকের ভবিষ্যৎ ৷ শুনানি শেষ হওয়ার আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গেলেও নিয়োগপত্রে বিষয়টি উল্লেখ করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট ৷

    বহু প্রতীক্ষার পর আইনি জট কাটিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর টেট পরীক্ষার ফল প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টেটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন করে মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে ৷ বিচারপতি সি এস কারনানের বেঞ্চে মামলকারী চিন্ময় দলুই রিভিউ পিটিশন দাখিল করেন ৷

    সেই মামলার শুনানিতে রাজ্যকে মোট কত পরীক্ষার্থী টেট পরীক্ষা দিয়েছিল, কত জন পাস করেছে এবং একইসঙ্গে কত জন প্রশিক্ষিত পরীক্ষার্থী ও কত জন প্রশিক্ষণহীন পরীক্ষা দিয়েছিলেন,তাদের পাসের পরিসংখ্যান সংক্রান্ত তথ্য রাজ্যকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি সিএস কারনান ৷

    গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রিপোর্ট দিয়ে জানায়, পরীক্ষায় বসেছিলেন প্রায় ২২ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী ৷ প্রশিক্ষিত ও প্রশিক্ষণহীনদের পরিসংখ্যান এখনই দেওয়া অসুবিধের ৷ টেট উত্তীর্ণদের ইন্টারভিউয়ের পরই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করতে পারবে রাজ্য ৷

    রাজ্যের জবাবে সন্তুষ্ট বিচারপতি সি এস কারনান, মামলাকারীদেরই অতিরিক্ত হলফনামা দিয়ে অনিয়ম খুঁজে দিতে বলেন ৷ একইসঙ্গে টেটে ফল প্রকাশে কোনও অস্বচ্ছতা খুঁজে পায়নি হাইকোর্ট বলে জানানো হয় ৷ তাই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় কোনওরকম স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত।

    এই রায়ে অসন্তুষ্ট মামলাকারীরা স্থগিতাদেশ চেয়ে ফের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছেন ৷ মামলাকারীদের তরফে অভিযোগ করা হয়, টেট-তথ্য আড়াল করছে রাজ্য। অন্য এক মামলাকারীর আইনজীবী জানান, সারদা-নারদার মতো প্রাথমিক টেটও বড় একটি কেলেঙ্কারি।

    এমনকি ১৯ তারিখ বিচারপতির কাছে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ারও আর্জি জানিয়েছিলেন মামলাকারীরা ৷ এরপরই বিচারপতি মামলাকারীরদের অতিরিক্ত হলফনামা জমার নির্দেশ দেন। হলফনামায় প্রাথমিক টেটের অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সরকারি নথির উপর ভিত্তি করেই হলফনামার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি কারনান।

    নতুন করে স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা করায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ৷ টেটের ফল প্রকাশের পরই রাজ্যের পরিকল্পনা ছিল পুজোর মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার ৷ সেই মতো কিছুদিনের মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষকপদের ইন্টারভিউয়ের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশের কথা ৷ নতুন করে টেট নিয়ে মামলা দায়ের হওয়ায় আবারও আদালতের রায়ের উপর নির্ভর করে ঝুলে রইল টেটে সফল পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ৷

    ইতিমধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়ার চুড়ান্ত পর্বের ইন্টারভিউয়ের তারিখ ঘোষণা করেছে পর্ষদ ৷ তবে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ইন্টারভিউয়ের চুড়ান্ত দিন ঘোষণা পরেও নিয়োগ স্থগিত ৩ জেলায় ৷

    First published:

    Tags: Calcutta High Court, Primary Teachers Appointment, Primary Teachers interview, Primary TET

    পরবর্তী খবর