মাতৃশক্তি! সাইকেলে মহারাষ্ট্র থেকে বৈষ্ণোদেবী পাড়ি ৬৮ বছরের বৃদ্ধার, ভিডিও আপনাকে মুগ্ধ করবে!

মহারাষ্ট্রের খমগাঁওয়ের বাসিন্দা ৬৮ বছরের রেখা দেবভানকর। সাইকেলে করে তিনি নিজের গ্রাম থেকে পাড়ি দিয়েছেন জম্মু এবং কাশ্মীরের পবিত্র হিন্দুতীর্থ বৈষ্ণোদেবীর উদ্দেশে!

মহারাষ্ট্রের খমগাঁওয়ের বাসিন্দা ৬৮ বছরের রেখা দেবভানকর। সাইকেলে করে তিনি নিজের গ্রাম থেকে পাড়ি দিয়েছেন জম্মু এবং কাশ্মীরের পবিত্র হিন্দুতীর্থ বৈষ্ণোদেবীর উদ্দেশে!

  • Share this:

#মুম্বই: কোথাও একটা গিয়ে যেন হিন্দুধর্মে ভক্তির সঙ্গে কৃচ্ছসাধনের প্রশ্নটাও জড়িয়ে গিয়েছে। পুরাণে, জীবনে সাধক এবং সাধিকাদের কঠোর তপস্যার উদাহরণই যেন সেই জায়গাটা তৈরি করে দেয়। আর সেখান থেকেই নবরাত্রির আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যান মহারাষ্ট্রের খমগাঁওয়ের ৬৮ বছরের রেখা দেবভানকর। সাইকেলে করে যে তিনি নিজের গ্রাম থেকে পাড়ি দিয়েছেন জম্মু এবং কাশ্মীরের পবিত্র হিন্দুতীর্থ বৈষ্ণোদেবীর উদ্দেশে!

শারদীয়া তিথির এই নয় দিনে যে হিমালয়দুহিতা পার্বতীর উপাসনা করছেন ভক্তরা, তাঁর মতোই কঠোর শ্রমে অসাধ্যসাধন করতে চাইছেন রেখা। মনে পড়ে কি, এই দেবীও তীব্র তপস্যায় শরীরপাত করে শিবকে লাভ করেছিলেন পতিরূপে?

আবার, সেই দেবী পার্বতীর অঙ্গে শোভা পায় যেমন শ্বেতবাস, ভক্তিপ্রাণা রেখাও সেই সাজেই চলেছেন তাঁর আরাধ্যার দরবারে! কেমন তাঁর যাত্রাপথের আনন্দগান, সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল মারফত তার এক ঝলক ভিডিও ফরম্যাটে আপলোড করেছেন রতন শারদা নামের জনৈক ট্যুইটারেতি। তাঁর মাধ্যমে জানা গিয়েছে যে রেখা দিনে ৪০ কিলোমিটার করে সাইকেল চালাচ্ছেন! সেই ২৪ জুলাই শুরু হয়েছিল তাঁর এই যাত্রা। তবে দিনের আলো ফুরিয়ে এলে আর সাইকেল চালান না তিনি, আশ্রয় খুঁজে নেন কোনও সহৃদয় পরিবারে।

খুব স্বাভাবিক ভাবেই সারা দেশে সাড়া জাগিয়েছে রেখার এই ভক্তি। হিসেব বলছে যে রতন শারদার আপলোড করা ট্যুইট ভিডিওটি এখনও পর্যন্ত দেখা হয়েছে ১ লক্ষ ৭৮ হাজার বার! সেই ভিডিও দেখে রেখার প্রতি মূলত শ্রদ্ধাই জ্ঞাপন করেছেন সবাই!

ট্যুইটারেতিদের অনেকেই অবশ্য চিন্তিত রেখার বয়স এবং পথশ্রমের ব্যাপারটা নিয়ে। অনেকে অনুরোধ জানিয়েছেন অন্যদের- যাত্রাপথে তাঁরা যেন রেখার খাদ্য, পানীয় এবং বিশ্রামের সুবন্দোবস্ত করে দেন! পেশায় চিকিৎসক এক ট্যুইটারেতি আবার বিশেষ করে নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার কথাও জানাতে ভোলেননি রেখাকে।

তবে ট্যুইটারেতিদের সবাই যে প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তা ঠিক নয়! অনেকে যেমন দাবি করেছেন যে এ অভিনব কোনও প্রয়াস নয়। তেমনই জনৈকের মন্তব্য- যেখানে পরিবহন সুলভ, সেখানে এমন পরিশ্রমের মানে হয় না!

তা, সে যাঁর যা খুশি মনে হোক না কেন, রেখা যে আনন্দলাভ করছেন, সে তাঁর অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছে।

Published by:Shubhagata Dey
First published: