NRS Hospital Kolkata: চোখ বুজলেই টাকা, জিনিস হাওয়া! রাতের এনআরএস হাসপাতাল 'ওদের' স্বর্গরাজ্য
- Published by:Suman Majumder
Last Updated:
NRS Hospital Kolkata: শিয়ালদহ স্টেশনের পাশে হওয়ার কারণে এই হাসপাতালে রাতে থাকার সমস্যা আরও বেশি।
#কলকাতা: 'সবে নতুন গামছা আর হওয়াই চপ্পল জোড়া এনে রেখেছিলাম।পেছন ঘুরে দেখি নেই। এতো চোরের উৎপাত হলে কিী করে চলবে! একটু চোখ বুজলেই টাকা থেকে ব্যাগপত্র সব ফাঁকা করে দেয়।' বলছিলেন ৭০ বছরের বিকাশ কুমার মিত্র।
তিনি কৃষ্ণনগর থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন নীলরতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। অনেক দূরে বাড়ি বলে আউটডোরে দেখাচ্ছেন একদিন অন্তর। কিছু শারীরিক পরীক্ষা করতে দিয়েছেন ডাক্তার। সেটা হলেই ভর্তি হয়ে পায়ের অপারেশন হবে।
আরও পড়ুন- রবীন্দ্র সরোবরে রোয়িংয়ের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বোটের দাবি পরিবেশবিদদের
হাসপাতালে চুরির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। শহরের দুর দূরান্ত থেকে রোগীরা আসেন ডাক্তার দেখাতে। কারও রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকে।কেউ বা এখানে থেকে ডাক্তার দেখায়। সবাই হাসপাতালের সামনে ফাঁকা জায়গাতে বসে থাকে। রাতের বেলায় ওখানেই ঘুমায়।
advertisement
advertisement
যাঁরা আসেন তাঁরা বেশিরভাগ সমাজের প্রান্তিক মানুষ। তাঁদের কাছে ১০০০ টাকা মানে অনেক। তাই তাঁরা সরকারি বড়ো হাসপাতালে ভাল চিকিৎসার জন্য ছুটে আসেন কলকাতায়।
দেবাশীষ অধিকারী, হাওড়ার উদয়নারায়নপুর থেকে এসেছেন ১৭ই মে। তাঁর ছেলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ছেলের পায়ুদ্বারে অপারেশন হয়েছে।তাই তাঁর স্ত্রী হাসপাতালে ছেলের সঙ্গে বেডে রয়েছেন। তিনি সারাদিন এদিক-ওদিক থাকেন। রাতে হাসপাতাল চত্বরে ঘুমিয়ে পড়েন।
advertisement
তিনি বলছিলেন, 'রাতের বেলা এখানে এসে যারা ঘুমায়, তাদের মধ্যে অনেকেই রোগীর বাড়ির লোক নয়। তারা শুধু রাতের বেলা আসে। সুযোগ পেলেই কিছু নিয়ে পালায়। পকেট থেকে টাকা, মানিব্যাগ যা পাবে নিয়ে পালাবে। আমারও জিনিস চুরি হয়েছে। রাতের বেলা এখানে শোয়ার আগে মানিব্যাগ, মোবাইল স্ত্রীর কাছে দিয়ে আসি।'
এই ব্যাপারে হাসপাতালের পুলিশ কর্মীরা জানান, রাতে রোগীর বাড়ির লোক কে, সেটা বেছে বের করা খুব কঠিন। অভিযোগ পেলেই বা খবর পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাঝে মাঝে ধরাও পরে চোর।
advertisement
আরও পড়ুন- প্রচুর চোরাই বিদেশি সিগারেট উদ্ধার হল দক্ষিণ কলকাতার গাঙ্গুলি বাগানে
হাসপাতাল চত্বর চোরদের স্বর্গ রাজ্য হয়ে ওঠে রাত হলেই। বেশির ভাগ নেশাগ্রস্থ মানুষেরা ওখানে এসে জড়ো হয়। সব কিছু জেনেও রোগীর বাড়ির আত্মীয়রা সারাদিনের উৎকণ্ঠা ও ক্লান্তি নিয়ে গভীর নিদ্রায় চলে যান। এক বৃদ্ধা রীনা মিত্র বললেন, 'এসেছি ভগবানের ভরসায়। যা করবেন উনি করবেন। চুরি হলে হবে। কী আর করব!'
Location :
First Published :
Jun 05, 2022 7:08 PM IST










