গরমে ঘুমের ওষুধ খেতে বাধ্য হন, ৭ দিন পরে বিদ্যুতে প্রাণ জুড়ল বৃদ্ধ দম্পতির
- Published by:Arindam Gupta
- news18 bangla
Last Updated:
সেই রাত কাটানোর জন্য রোজই নিয়েছেন ঘুমের ওষুধ। নির্মল কুমার সেন জানালেন, আগে মাঝে মধ্যে ঘুমের ওষুধ নিতে হতো তবে এখন ঘুমের জন্য রোজই নিচ্ছি।
#কলকাতা: জীবনের শেষে এত কষ্ট হবে তা ভাবতেও পারেননি সার্ভে পার্কের প্রবীণ দম্পতি। আমফানের তাণ্ডব চোখের সামনে দেখেছেন ৯৮ বছরে নির্মল কুমার সেন। দীর্ঘ জীবনে অনেক কিছুর সাক্ষী তিনি, আমফানের মত ঝড় জীবনে দেখেননি। এক মুহূর্তের জন্যও ভাবেননি আমফানের পর বিদ্যুৎটাই থাকবে না।
বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিদিনটা রাতই কেটেছে তার কষ্টের সঙ্গে। বৃহস্পতিবার হঠাত্ যেন এল এক খুশির হাওয়া। দুপুরে বাড়িতে ঘুরলো পাখা, জ্বলল আলো। গত বুধবারের পর থেকে প্রতিটি রাতই কেটেছে ঘুমের ওষুধ খেয়ে। শারীরিক অসুস্থতার জন্য আগে মাঝে মধ্যেই ঘুমের ওষুধ খেতে হত নির্মল কুমার সেনকে। একটি রাতেই বৈদ্যুতিক পাখার বদলে হাত পাখায় ফিরে আসতে হয়েছে। সেই কষ্ট আর সহ্য না করতে পেরে মাঝে মধ্যেই বাড়ির বাইরের বারান্দায় বসতেন, শরীরের ক্লান্তি আর গরম যেন তাঁকে প্রতি মুহূর্তের পরীক্ষা নিত।
advertisement
সেই রাত কাটানোর জন্য রোজই নিয়েছেন ঘুমের ওষুধ। নির্মল কুমার সেন জানালেন, আগে মাঝে মধ্যে ঘুমের ওষুধ নিতে হতো তবে এখন ঘুমের জন্য রোজই নিচ্ছি। প্রতিটি রাত একই ভাবে কষ্টের সঙ্গে কাটান নির্মলবাবুর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা সেন। ৮৯ বছর বয়েসে যে এতটা কষ্টে থাকতে হবে তা নিজেও ভাবেননি। আমফানের তাণ্ডবের সময় বাড়ির সামনের পুরানো গাছটা ভেঙে যেতে দেখেছেন, তারপরেই একটি লাইট পোস্ট ভেঙে যেতে দেখেছেন নিজেই। সেই তাণ্ডবের মধ্যেও তিনি জানতেন না এক খারাপ দিন অপেক্ষা করছে ৮৯ বছর বয়সে।
advertisement
advertisement
অন্য একটি ঘরে এক হাতে হাত পাখা আর অন্য হাতে রুমাল নিয়ে সারাদিনই কাটান। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ আসার পরে পেলেন একটু স্বস্তি। বাড়ির পাখার সুইচটি তাঁর অজান্তেই অন করা ছিল। হঠাত্ করে ঘুরতেই যেন এক গাল হাসি। তাঁদের ছেলে শান্তনু সেনেরও স্বস্তি। তিনি জানালেন, বাবা-মা এত কষ্ট পাচ্ছিল যে বলে বোঝানো যাবে না। অনেকবার জানানোর পরেও বিদ্যুৎ আসেনি, প্রতিবেশীদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেখে নিজেকে নিরুপায় মনে হচ্ছিল। এখন শান্তি। আমফানের বুধবারের অভিজ্ঞতা যেমন কোনও দিন ভোলার নয়, তেমনই বিদ্যুৎহীন রাত যেন এক দুঃস্বপ্নের দিন।
advertisement
Location :
First Published :
May 28, 2020 7:29 PM IST








