• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • SOVABAZAR RAJBARI OBSERVES ULTO RATHAYATRA ON TUESDAY WITH ALL HERITAGE AND RITUALS ARC

Sovabazar Rajbari : নিয়ম মেনে উল্টোরথে দুর্গোৎসবের কাঠামো পুজো, দুর্গাপুজোয় বন্ধ হচ্ছে ২৩১ বছরের প্রাচীন রীতি

ছবি-শোভাবাজার রাজবাড়ি সূত্রে

সোমবার উল্টো রথ অনুষ্ঠিত হল শোভাবাজার রাজবাড়ির (Sovabazar Rajbari) ছোট তরফে ৷ সেইসঙ্গে পালিত হল দুর্গোৎসবের কাঠামোপুজোর প্রাচীন রীতি ৷

  • Share this:

    কলকাতা : সোমবার উল্টো রথ অনুষ্ঠিত হল শোভাবাজার রাজবাড়ির (Sovabazar Rajbari) ছোট তরফে ৷ সেইসঙ্গে পালিত হল দুর্গোৎসবের কাঠামোপুজোর প্রাচীন রীতি ৷ পারিবারিক মিলনোৎসবে সনাতনী ঐতিহ্যের পাশাপাশি পালিত হল সব কোভিডবিধি ৷

    শোভাবাজার রাজ পরিবারের ছোট তরফ হল রাজা নবকৃষ্ণ দেবের নিজের ছেলে রাজা রাজকৃষ্ণ দেবের উত্তরশাখা ৷ প্রায় জীবন উপান্তে পৌঁছে পুত্রসন্তানের পিতা হন রাজা নবকৃষ্ণ ৷ ছেলের নামকরণ করা হয় রাজকৃষ্ণ ৷ তার আগে অগ্রজপুত্র গোপীমোহনকে দত্তক নিয়েছিলেন রাজা নবকৃষ্ণ ৷ সেই শাখা পরিচিত ‘বড় তরফ’ নামে ৷ তাঁদের শাখায় দুর্গোৎসবের কাঠামোপুজো হয় সোজা রথযাত্রার তিথিতে ৷

    ছোট তরফের প্রবীণ সদস্য অলককৃষ্ণ দেব জানালেন, ‘‘আমাদের পরিবারে কাঠামো হিসেবে পুজো করা হয় একটি বাঁশকে ৷ পরে সেই বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয় দেবী দুর্গার ডান পা ৷ ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই রীতি পালিত হয়ে আসছে৷’’

    ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দেই শোভাবাজার রাজবাড়ির ছোট তরফে দুর্গোৎসব শুরু হয় ৷ বড় তরফে অবশ্য পুজো শুরু হয়েছিল ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ৷ মতান্তরে যাকে কলকাতার প্রথম দুর্গোৎসব বলে ধরে নেওয়া হয় ৷

    পরিবারের নিজস্ব রথ মহারাজা নবকৃষ্ণদেবের আমলের ৷ রথযাত্রার দিন ছোট্ট রথটিকে ফুল ও মালায় সাজিয়ে তাতে নারায়ণশিলা বসানো হয় সিংহাসন-সহ ৷ প্রাচীন এই পরিবারের রথে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা থাকেন না ৷ তাঁদের প্রতীকস্বরূপ বিরাজ করেন শালগ্রাম শিলা ৷ বছরে শুধু রথযাত্রার দিনই শালগ্রাম শিলাকে স্পর্শ করার অনুমতি পেতেন এই পরিবারের সদস্যরা ৷ কিন্তু করোনা ভাইরাসের জন্য গত বছর থেকে সেই রীতি বন্ধ ৷ এ বছরও শালগ্রাম শিলা স্পর্শ করার অনুমতি পাননি রাজপরিবারের সদস্যরা৷

    গত বছর আরও একটি জিনিস হয়েছে রাজবাড়ির ছোট তরফের পুজোয় ৷ যার ফলে এ বছর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আরও একটি প্রাচীন প্রথা, ছাগবলি ৷ অলককৃষ্ণ দেবের কথায়, ‘‘গত বছর বলির সময় বাধা পড়েছিল ৷ তাই এ বছর থেকে ছোট তরফের দুর্গাপুজোয় আর ছাগবলি হবে না ৷’’ প্রসঙ্গত বড় তরফের পুজোয় বহু বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে ছাগবলির প্রথা ৷ পাশাপাশি, সরকারি নিষেধাজ্ঞায় দু’ দশক আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে এই পরিবারের দুর্গোৎসবের দশমী তিথিতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর প্রথাও৷

    প্রচলিত বিশ্বাস বলে, নীলকণ্ঠ পাখি কৈলাসে উড়ে গিয়ে মহাদেবকে খবর দেন, উমা ফিরছেন ৷ তার আগে দেবীপক্ষে উমার তাঁর নিজের বাড়িতে আগমনের খবর দেয় নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ৷ সেই পেঁজা মেঘের নীচেই শোভাবাজার রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে ঢাকে কাঠি পড়ে গেল ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: