বন্ধ স্কুলে এবার সেফ হোম, করোনা মহামারিতে অনন্য নজির দক্ষিণ কলকাতার  স্কুলে

স্কুলের গ্রাউন্ড ফ্লোর এর নকশা টাই বদলে যাচ্ছে। ব্লাকবোর্ডের পাশেই তৈরি হচ্ছে বাথরুম। অস্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে স্কুলের অন্দরেই।

স্কুলের গ্রাউন্ড ফ্লোর এর নকশা টাই বদলে যাচ্ছে। ব্লাকবোর্ডের পাশেই তৈরি হচ্ছে বাথরুম। অস্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে স্কুলের অন্দরেই।

  • Share this:

#কলকাতা: শিক্ষাঙ্গনে চিকিৎসালয়। বন্ধ স্কুলে এবার সেফ হোম। করোনা মহামারিতে অনন্য নজির দক্ষিণ কলকাতার  স্কুলে। ৫০  শয্যার সেফ হোম চালু হবে পয়লা জুন। সৌজন্যে বিধায়ক দেবাশীষ কুমার।

সাউথ সুবার্বন ব্রাঞ্চ স্কুল। দক্ষিণ কলকাতার শরৎ বোস রোড। বন্ধ স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ড ক্রমশ ধূসর হচ্ছিল। স্কুলের ঘণ্টাধ্বনি ....সে তো কবেই বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ শিক্ষাঙ্গনে এবার জীবন যুদ্ধের লড়াই। শিক্ষাঙ্গনেই ছোটখাটো চিকিৎসালয় খুলছেন স্থানীয় বিধায়ক। ৫০ শয্যার এই সেফহোমের সঙ্গে যুক্ত হবে রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের নামও।

স্থানীয় কাউন্সিলর ও কলকাতা পুরসভার মন্ডলীর সদস্য  দেবাশীষ কুমার বলেন রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান খুব কাছেই তাদের নজরদারি থাকবে এই সেফহোম। যেন মনে হবে রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান একটি অংশ । সর্বক্ষণের চিকিৎসক ও নার্স ছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই সেফহোমে এসে রোগীদের পর্যবেক্ষণ করবেন।

স্কুলের গ্রাউন্ড ফ্লোর এর নকশা টাই বদলে যাচ্ছে। ব্লাকবোর্ডের পাশেই তৈরি হচ্ছে বাথরুম। অস্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে স্কুলের অন্দরেই। তৈরি হচ্ছে মিনি অক্সিজেন প্লান্ট। যে প্ল্যান্ট থেকে সরাসরি নলের মাধ্যমে সেফহোমের বেডে পৌঁছে যাবে জীবনদায়ী অক্সিজেন। কেমন হবে স্কুলের অন্দরে এই সেফহোম! জানালেন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধারদেবপ্রিয়া গুহ বলেন অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের জন্য একটি অস্থায়ী প্ল্যান্ট রুম করা হচ্ছে। সেখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে মেল ফিমেল ওয়ার্ডে যাবে অক্সিজেন। প্রয়োজনমতো জাতি রোগীদের ব্যবহার করা যায় অক্সিজেন সেই সুবিধার জন্যই এই পরিকল্পনা। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড ছাড়াও এই সেফহোমে থাকবে একটি আইসোলেশন রুম। যেখানে নন কোভিদ রোগী এলে তার পরীক্ষার জন্য পৃথক করে রাখা যায়। আরো একটি ওয়ার্ড তৈরি করে রাখা হচ্ছে প্রয়োজনে নন কোভিড সারি রোগীদের যাতে অক্সিজেন এর সুবিধা ও চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া যায়।

স্কুলের অন্দরেই যখন সেফহোম তখন মিড ডে মিলের কি হবে??? তার ও বিকল্প ব্যবস্থা বাতলে দিলেন বিধায়ক। রাসবিহারী কেন্দ্রের বিধায়ক দেবাশীষ কুমার বলেন মিড ডে মিল মাসে একবার দেওয়া হবে। স্কুল প্রেমিসেস ছাড়া অন্যত্র এই মিড-ডে-মিল দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। যাতে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং  অভিভাবকদের মিড ডে মিল দেওয়া নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা না হয়।

রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের নজরদারি তো থাকছেই। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকেরাও রোগী দেখতে আসবেন এই সেফ হোমে। পেশাদারী নার্স ও সেবিকারা তো থাকবেনই সঙ্গে সর্বক্ষণের একজন চিকিৎসক ও থাকবেন এই সেফহোমে। মহিলা ও পুরুষদের পৃথক ওয়ার্ড থাকবে। থাকবে নতুন রোগীদের জন্য আইসোলেশন রুম।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: