রুবি মোড়ের নাম বদলে হচ্ছে রবি মোড়, বসছে ১ লক্ষ টাকার রবীন্দ্রনাথের মূর্তি
- Published by:Pooja Basu
Last Updated:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ণাবয়ব মূর্তি বানিয়েছেন শিল্পী জগৎ মন্ডল৷
#কলকাতা: অবশেষে শিল্পের যথাযথ কদর পেলেন জগৎ মন্ডল। কাঠ, পাথর সহ যাবতীয় সামগ্রী দিয়ে মূর্তি তৈরি তাঁর নেশা। সেই ভালোবাসা থেকেই মন দিয়ে তৈরি করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ণাবয়ব মূর্তি। কিন্তু ক্রেতা কোথায়?
২৫ বৈশাখের আগে যদি বিক্রি হয় সেই আশায় কালনা শহরের এসটিকেকে রোডের ধারে রেখেছিলেন ১০ ফুট উচ্চতার এই রবীন্দ্র মূর্তি। নীচে লেখা ‘ফর সেল'। কেউ কেউ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এক লক্ষ টাকা দাম শুনে মুখ ফিরিয়েছিলেন অনেকেই।
advertisement
advertisement
সেই মূর্তি বসছে কলকাতার রুবি মোড়ে। নাম বদলে এলাকার নাম হচ্ছে রবি মোড়। এক লক্ষ টাকা দাম দিয়েই কিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই মূর্তি। স্বাভাবিকভাবেই হাসি ফুটেছে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া শিল্পী জগৎ মণ্ডলের মুখে।
কালনা শহরের নতুন বাস স্ট্যান্ডের কাছে এসটিকেকে রোডের ধারে রবীন্দ্রনাথের পূর্ণাবয়ব মূর্তিটি রাখা ছিল। মূর্তিটি হয়তো কোথাও বসানো হবে, তাই রেখে দেওয়া হয়েছে, এমনই ভেবেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু সামনে যেতেই ভুল ভাঙে তাঁদের। মূর্তির তলায় তাঁরা দেখেন, ‘ফর সেল’ লেখা। কৌতূহলী কেউ কেউ ফোনও করেন শিল্পীকে। কিন্তু দাম শুনে পিছিয়ে গিয়েছেন সকলে। জগতের আশা ছিল, এই রাস্তায় বহু মানুষের যাতায়াত। শিল্পীর গুণের কদর কেউ না কেউ নিশ্চয়ই করবেন। তাঁর সেই আশাই সত্যি হল। সংবাদ মাধ্যমে সেই খবর প্রকাশ হতেই খদ্দের পেতে দেরি হয়নি শিল্পীর।
advertisement
আরও পড়ুন East Burdwan News: স্ত্রীর মুখে বিষ ঢেলে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে
কালনার যোগীপাড়ার বাসিন্দা জগৎ, অ্যাকাডেমি অফ ক্রিয়েটিভ আর্টস থেকে তিন বছরের ডিপ্লোমা করেছেন। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন তিনি। বাড়িতে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার। রাজ্যস্তরে ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫–পর পর তিন বছর দারুশিল্পে পুরস্কার জিতে নিয়েছেন জগৎ। জানালেন, ১০ ফুট উচ্চতার রবীন্দ্রমূর্তিটি তৈরি করতে সময় লেগেছে মাস দেড়েক। ফ্রেঞ্চ চক, মার্বেল ডাস্ট, রাসায়নিক ও রড দিয়ে মূর্তিটি তৈরি। এসটিকেকে রোডে বহু মানুষের যাতায়াত। যদি শিল্পানুরাগী কারও চোখে পড়ে, তাই বিক্রির জন্য রাস্তার পাশে রেখে দিয়েছিলেন। হতাশা এসেছিল। বলেছিলেন, ভেবেছিলাম ক্রিয়েটিভ আর্টস নিয়েই বেঁচে থাকব। কিন্তু বাজার নেই। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। তাই ঠিক করেছি, এই মূর্তিটি বিক্রি হয়ে গেলে আর সৃষ্টিমূলক কোনও কাজ করব না। কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করেই রোজগারের পথ খুঁজব।
advertisement
এখন আর সেই হতাশা নেই। এক কথায় এক লাখে বিক্রি হয়ে গিয়েছে তাঁর তৈরি এই ভাস্কর্য। বসছে কলকাতার বুকে জনবহুল এলাকায়। স্বাভাবিকভাবেই খুশি ভাস্কর জগৎ মন্ডল।
Location :
First Published :
May 08, 2022 6:14 PM IST








