corona virus btn
corona virus btn
Loading

দামে ট্রিপল সেঞ্চুরি লঙ্কার ! এই কারণেই আচমকা আকাশ ছুঁয়েছে লঙ্কার দর..

দামে ট্রিপল সেঞ্চুরি লঙ্কার ! এই কারণেই আচমকা আকাশ ছুঁয়েছে লঙ্কার দর..

আলু সেদ্ধ ভাত খেতে হলেও দরকার লঙ্কার। সেই কাঁচা লঙ্কাও বাজারে অগ্নিমূল্য।

  • Share this:

#কলকাতা: কার্যত লঙ্কায় আগুন। কাঁচা লঙ্কা হাতে নিলেই ছ্যাঁকা। ঊর্ধ্বমুখী টমেটো , ক্যাপসিকাম , বিনস এর মত আমদানি নির্ভর সবজি। বর্ষায় এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী থাকে সবজির দর। এবছর আমফান আর লকডাউন এর জোড়া ফলায় অগ্নিমূল্য সবজি বাজার। এর উপর আলুর দাম বাড়তে থাকায় বাঙালির হেঁসেলে বেহাল দশা।

কদিন ধরেই আলুর বাজার দর ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছিল। কুড়ি টাকা থেকে বেড়ে ২৫ পার হয়ে এখন জ্যোতি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। এক মাসের মধ্যেই ১০ টাকা কেজি দরে বাড়ায় বাজারে বিপর্যয় বাঙালির।

আলু সেদ্ধ ভাত খেতে হলেও দরকার লঙ্কার। সেই কাঁচা লঙ্কাও বাজারে অগ্নিমূল্য। কলকাতায় লঙ্কার বাজারে কার্যত আগুন লেগেছে বলা যায়। মাত্র ৭ দিনে ১০০ টাকা কেজি বেড়েছে লঙ্কার। গত সপ্তাহেও যা ১০০ /১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি কাঁচা লঙ্কার দর। সোমবার কলকাতার বাজারে সেই লঙ্কায় বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে।

শুধুমাত্র খুচরো বাজার নয় কোলে মার্কেট এর পাইকারি লঙ্কার বাজারেও অগ্নিমূল্য।‌ ১৭ জুলাই যে লঙ্কা ৪০ /৫০ টাকা কেজি প্রতি পাইকারি বিক্রি হয়েছে। সেই লঙ্কাই সোমবারের বাজারে বিক্রি হয়েছে একশো কুড়ি টাকা থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

লঙ্কার বাজারে কেন এই অগ্নিমূল্য?? কোলে মার্কেটের জনসংযোগ আধিকারিক কমল কুমার দে জানান, শুধু লঙ্কা নয় , আমদানি করা হচ্ছে এমন সবজি, টমেটো, ক্যাপসিকাম ,বিনস সহ একাধিক সবজির দাম বাড়ছে। আরও বাড়বে আগামী দিনে। এই সময়ের লঙ্কার দাম কিছুটা বেশি থাকে। এবছর বেশি আমদানি করতে হচ্ছে বলে লঙ্কার দাম হু হু করে বাড়ছে।

প্রতিবছরই জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কাঁচা লঙ্কার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকে। বর্ষার সময় এবং গরমে বাংলায় লঙ্কার উৎপাদন কমে যায়। নির্ভর করতে হয় ইউপি , বিহার ও ঝাড়খণ্ডের লঙ্কার ওপর। সেই নির্ভরতা এবছর অনেকটাই বেড়ে গেছে আমফান এর কারণে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ, ভাঙ্গড়, ক্যানিং উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে লঙ্কার জমি অনেকটাই ক্ষতি হয়ে গেছে আমফান ঝড়ে।

লকডাউনের কারণে জেলার কোনও মান্ডি থেকে গাড়ি করে লঙ্কা পৌঁছতে হচ্ছে কলকাতায়। অন্য সময় অল্প লঙ্কা হলেও ট্রেনে করে কৃষকরা নিয়ে আসতেন শিয়ালদায়। এখন অনেক কৃষকের লঙ্কা জড়ো করে গাড়ি করে আনতে হচ্ছে। একসঙ্গে কয়েক টন লঙ্কা হলে তবেই গাড়ি করে আনা লাভজনক। এর ফলে জেলার মান্ডিতে যেটুকু লঙ্কা রয়েছে সেটাও কলকাতায় পৌঁছাচ্ছে না।

সাধারণত কলকাতায় দুই ২৪ পরগনা বা নদিয়া, মুর্শিদাবাদ থেকে প্রচুর লঙ্কা আসে কলকাতার বাজারে। হলদিবাড়ি থেকেও লঙ্কা আসে। এবারে উত্তর বঙ্গে বর্ষা হওয়ায় হলদিবাড়ি লঙ্কা একেবারেই আসছে না।নএই সমস্ত কারণের জন্যই চাহিদা অনুযায়ী যোগান না থাকায় লঙ্কার দাম বেড়েছে ।

পশ্চিমবঙ্গের লঙ্কার উৎপাদন মূলত অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। এই সময়  বেশিরভাগ আচারের জন্য বড় লঙ্কা,  বাংলার লঙ্কা বাইরে রপ্তানি হয়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছরই ভিন রাজ্য থেকে ৫০% লঙ্কা আমদানি করতে হয়। তাই দাম বাড়ে। এবারে সেই আমদানি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। তাই আকাশছোঁয়া দাম।

পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে লঙ্কার দামের পার্থক্য বরাবরই থাকে। কারণ খুচরো লঙ্কা ২৫/৫০/ ১০০ গ্রাম বিক্রি বেশি হয়। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে বিক্রির মধ্যে লঙ্কা শুকিয়ে ওজন কমে যায়। এর ফলে পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারের লঙ্কার দাম এর তারতম্য বরাবরই থাকে।

১৭ জুলাই কোলে মার্কেটে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি প্রতি পাইকারি লঙ্কা বিক্রি হয়েছে । সেই লঙ্কার বাজার গতকাল কোলে মার্কেটে পাইকারি বাজার দর গিয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কিলো।গত সপ্তাহে খুচরো বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকা লঙ্কা বিক্রি হয়েছে। আজ সেই লঙ্কার বাজার দর কলকাতায় আজ ১৮০ থেকে আড়াইশো টাকা।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সোমবার কলকাতার বাজারে সবজির কেজি প্রতি বাজার দর কত???

*কাঁচালঙ্কা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

*টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা

*ক্যাপসিকাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা

*বিনস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা

*বিট/গাজর ৬০ টাকা

*আলু জ্যোতি ৩০ টাকা

*আলু চন্দ্রমুখি ৩৫ টাকা

*পেঁয়াজ ২৫ টাকা

*ভেন্ডি/ পটল /ঝিঙে ৫০/ ৬০ টাকা

*কড়লা /বেগুন ৬০ /৮০ টাকা

*কুমড়ো ৩০ টাকা

Biswajit Saha

Published by: Elina Datta
First published: July 27, 2020, 4:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर