Pratik Ur Rahaman: সৃজন ভট্টাচার্যও কি CPIM ছাড়ছেন? এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে 'বন্ধু'র ভবিষ্যৎও জানিয়ে দিলেন প্রতীক উর! বললেন, 'কয়েক দশকে একটা সৃজন আসে...'
- Reported by:ABIR GHOSHAL
- news18 bangla
- Published by:Suman Biswas
Last Updated:
Pratik Ur Rahaman: মহম্মদ সেলিমের তীব্র সমালোচনা। কিন্তু বন্ধু সৃজন ভট্টাচার্যকে নিয়ে সুস্পষ্ট মতামত দিলেন প্রতীক উর রহমান। জানিয়ে দিলেন, কয়েক দশকে একটা সৃজন ভট্টাচার্য আসে।
কলকাতা: বুধবার রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে সিপিআইএম সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতীক উর রহমানকে আর গুরুত্ব দেবে না দল৷ ইস্তফা দেওয়া এই নেতার সঙ্গে আর আলোচনা অথবা যোগাযোগের চেষ্টাও হবে না বলে সূত্রের খবর৷ ফলে প্রতীক উরের সঙ্গে সিপিএম নেতৃত্বের সন্ধির আর কোনও সুযোগ থাকল না বলেই মনে করা হচ্ছে৷ রাজ্য সিপিএম নেতৃত্ব যখন কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন, তখন পাল্টা সিপিএম নেতাদের অস্বস্তি আরও বাড়ালেন প্রতীক উর রহমানও। এই পরিস্থিতিতে News 18 Bangla-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রীতিমতো বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রতীক উর রহমান।
প্রশ্ন: আপনি কি সিপিআইএম-এ প্রাক্তন হয়ে গেলেন?
প্রতীক উর: মানসিক যন্ত্রণাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যখন পাল্টা পদক্ষেপ করতে হয়। দল আমাকে প্রাক্তন করতে চাইছে, করেও দিয়েছে মনে হয়। আমি দলের অভ্যন্তরেই যা বলার বলেছিলাম, দলের সঙ্গে বসতেও চেয়েছিলাম। রাজ্য সম্পাদককে চিঠিও দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে ডাকেননি। আমি প্রাক্তন হতে চাইনি, আমাকে প্রাক্তন করে দেওয়া হচ্ছে মনে হচ্ছে।
advertisement
advertisement
প্রশ্ন: কেন দলে থাকলেন না?
প্রতীক উর: আমি দলের মিটিংয়ে যা বলার, বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি বলতে পারলাম না। দল কি আমাকে রাখতে চাইল? দলের সঙ্গে আমার কোনও সংঘাত নেই। দলের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি, যাদের কোনও প্রশ্ন করা যাবে না। সেই প্রশ্ন যাতে করতে না পারি, তার জন্য আমাকে কর্নারড করে দেওয়া হল।
advertisement
প্রশ্ন: কী সমস্যা হচ্ছিল?
প্রতীক উর: দলের মধ্যে আমার অনেক প্রশ্ন ছিল। মতাদর্শগত, সাংগঠনিক নানা প্রশ্ন ছিল। সৃজন ভট্টাচার্যের মতো নেতৃত্বকেও বাংলা বাঁচাও যাত্রার কোনও দায়িত্বে রাখা হয়নি। সৃজন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তাকে কেন রাখবে না? আমাকে শিখিয়ে দেওয়া হবে, আমি দলের বৈঠকে কী বলব, এটা চলতে পারে না।
advertisement
প্রশ্ন: মহম্মদ সেলিম কি যোগাযোগ করেছেন আপনার সঙ্গে?
প্রতীক উর: মহম্মদ সেলিম কেন আমার সঙ্গে বসছেন না? ভয় পাচ্ছেন? নাকি ঔদ্ধত্য? নাকি ফেরাতে চান না? নাকি মনে মনে বলছেন, আপদ বিদায় হয়েছে, আর ফেরাতে হবে না। আসলে সর্ষের মধ্যেই ভুত রয়েছে। কোন কোন কালপ্রিট রয়েছে, তা খুঁজে বের করুক ওরা। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তখন ব্যবস্থা নেননি কেন?
advertisement
প্রশ্ন: রাজনীতি ছেড়ে দেবেন নাকি নতুন শিবিরে যোগদান?
প্রতীক উর: আমি এখন যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছি, হয় আমাকে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিতে হবে অথবা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েই রাজনীতি করতে হবে। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেব। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, আমি তো ভীমরুলের চাঁকে ঢিল মেরেছি। সেই ভীমরুল এখন আমাকে কামড়াচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে, আমাকে মৌমাছি কামড়ালে, আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্যও দুটো লোকের তো প্রয়োজন। তাই নিজে সার্ভাইভ করার জন্য আমার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দরকার।
advertisement
প্রশ্ন: কবে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন?
প্রতীক উর: তাহলে কি তৃণমূলে যাবেন? প্রতীক উরের জবাব, ”জানি না। সময় বলবে। সময় তো ইতিহাসের শিক্ষক, সময় বলে দেবে। একটু হাঁটতে দিন, বাঁকটা পেরিয়ে গেলেই বলব, আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী।” সেলিমকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ”হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে উনি বৈঠকে বসতে পারেন, অথচ আমার সঙ্গে বসতে পারেন না। কারণ আমি ইয়েস স্যার নই। পার্টিই আমাদের শিখিয়েছিল, প্রশ্ন করো। সেই মতোই আমি প্রশ্ন করেছি। আগেও করেছি। তখন এমন হয়নি।”
advertisement
প্রশ্ন: মহম্মদ সেলিম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে দলের ক্ষতি করছেন?
প্রতীক উর: নিজের স্বার্থের জন্য মহম্মদ সেলিম সিপিআইএম পার্টি ধ্বংস করছেন। তৃণমূলের এই অভিযোগে আপনি কি সহমত? প্রতীক উরের জবাব, ”আগে সহমত হতাম না। এতদিন পার্টির ফোরামের মধ্যে ছিলাম। এখন পার্টির বাইরে এসে বুঝতে পারছি, এই অভিযোগ মিথ্যে নয়। সূর্যকান্ত মিশ্র নারায়ণগড়, সবচেয়ে কঠিন সিটে দাঁড়াচ্ছেন, আর আপনি দাঁড়াবেন কখনও চণ্ডীতলা, কখনও মুর্শিদাবাদ। প্রতীক উর রহমান দাঁড়াবেন ডায়মন্ড হারবারে। আমার দাঁড়ানোর কথাই ছিল না ডায়মন্ড হারবারে। আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমাকে বলা হয়েছিল, অন্য প্ল্যান আছে। পরে বুঝলাম, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে, এটা ধরে নিয়েই আমাকে ডায়মন্ড হারবারে দাঁড় করানো হয়। সেটা যখন হল না, তখন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হল। আমাকে সরাসরি বহিষ্কারের জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমি যখন যে দল করেছি, জানপ্রাণ দিয়ে সেই দলই করেছি। সব রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমি বলেছি, আমি যদি সিদ্ধান্ত নিই, আপনাদের জানাব।”
প্রশ্ন: সৃজন ভট্টাচার্যও কি আপনার পথেই হাঁটবেন?
প্রতীক উর: আমার মতো পদক্ষেপ সৃজন ভট্টাচার্য কখনও করবে না। অসম্ভব। সৃজন ভট্টাচার্য সৃজন ভট্টাচার্যই। থার্ড জেনারেশন কমিউনিস্ট। একটা ছেলে যদি মাস্টার হতে চাইত, তাই হত। যদি গান লিখতে চাইত, তাহলে তাই হত। সেই লোকটা দলের সর্বক্ষণের কর্মী। প্রতীক উর রহমানদের আপনি অলিতে গলিতে পাবেন, কিন্তু কয়েক দশকে একটা সৃজন ভট্টাচার্য জন্মায়। দল তাঁকে ব্যবহারই করল না। আমি এখন বাঁকে দাঁড়িয়ে আছি, বাঁক পেরিয়ে গেলেই অন্য প্রতীক উরকে দেখা যাবে।
প্রশ্ন: আপনাকে কি ইয়েস ম্যান হয়ে থাকতে হচ্ছিল?
প্রতীক উর: নিয়ম কমিউনিস্ট পার্টিতে সবার জন্য সমান হবে, আমার জন্য একরকম নিয়ম, অন্য কারও জন্যে আরেক রকম নিয়ম, এটা হতে পারে না। আমি, সৃজন, দীপ্সিতা সবাই একজোট আছি। তাই প্রতীক উরকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে এমন জায়গায় নিয়ে যাও, যেন ও মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হয়েছে বারবার। অনেক চেষ্টা করেছে, পারেনি। তাই ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। কিছু নেতৃত্বের কাছে কোনও প্রশ্ন করা যাবে না। ইয়েস ম্যান হয়ে থাকতে হবে। ইয়েস ম্যান হলেই তুমি পদ পাবে।
প্রশ্ন: দলের অভ্যন্তরের বিষয় আপনি সামনে নিয়ে এলেন কেন?
প্রতীক উর: পার্টির অভ্যন্তরে স্বার্থপরতা চলছে। নীতি নৈতিকতা বিহীন কাজ চলছে। আমি যে চিঠি দিয়েছিলাম, তা দলের বাইরে আনা হয়েছে ইচ্ছাকৃত ভাবে। এক ঘণ্টার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই চিঠি চলে এল। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, চিঠি আমি বাইরে আনিনি। আমি আমার ফোন পাঠিয়ে দিচ্ছি। তদন্ত করুক। সব সামনে চলে আসবে। বহিষ্কারের জন্য ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। বিমান বসুকে নামালেন। বিমান দা আমাকে ডেকেছিলেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন, আমি বিমান বসুকে চিঠি দিইনি, দিয়েছি মহম্মদ সেলিমকে।
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ থাকছে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের খবরও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Feb 19, 2026 6:26 PM IST











