ছেলেকে প্রাণে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান, অ্যাক্সিডেন্ট হওয়া ছেলের অতি কঠিন অস্ত্রোপচারের আশায় মা-বাবা
- Written by:SHANKU SANTRA
- news18 bangla
- Published by:Debalina Datta
Last Updated:
মাথার খুলি পেটের ভেতরে রাখা,দুর্ঘটনায় অসুস্থ ছেলেকে চিকিৎসার আশায় বসে পিজি হাসপাতালের বারান্দায়
#কলকাতা: এসএসকেএম হাসপাতালে বারান্দায় পড়ে রয়েছে এক রোগী।সঙ্গে তার মা এবং বাবা রয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন মোটর বাইক দুর্ঘটনায় ছেলে মানস মাইতি গুরুতর জখম হয়েছিল। স্থানীয়দের পরামর্শে ওড়িশার এএইমস হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁকে। সেখানে চিকিৎসার সুযোগ হয়নি, অবশেষে জমি বিক্রি করে ওখানেই একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কিছুটা চিকিৎসা করিয়ে ফেরেন কলকাতায়।
মানস মাইতি, বাড়ি এগরা থানার রাসন গ্রামের,মহাপাত্র পাড়ায়। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বাড়ি থেকে দীঘায় যাওয়ার পথে পানিপারুল নামে একটি জায়গায় চার চাকার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। সেই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন মানস। ওড়িশার এএইমসের চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে, তাঁকে ওড়িশার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেই নার্সিংহোমে মোট ৬ লক্ষ টাকা নেয়। মা ভারতী মাইতি জানান, ‘‘জমি বিক্রি করে এই টাকা খরচ করেছি। আর কোনও টাকা নেই আমাদের কাছে। ছেলেকে বাঁচানোর জন্যই পড়ে রয়েছি কলকাতায়। এখনও পর্যন্ত ডাক্তার শুধু পরীক্ষা লিখে দিচ্ছে, চিকিৎসা কিছু হয়নি। ভর্তি তো দূরের কথা।’’
advertisement
advertisement
তিনি আরও জানান ,তাঁর সঙ্গে থাকা কাপড়, টাকা সব চুরি হয়ে গেছে।নিজেদের খাবার মত সেরকম কোনও সামর্থ্য নেই এখন। এক আত্মীয় কিছু কিছু করে জুগিয়ে যাচ্ছেন। ওড়িশার হাসপাতাল থেকে মাথা অপারেশনের পর মাথার খুলিটা পেটের মধ্যে রেখে দিয়েছে ডাক্তাররা।
advertisement
ফের অপারেশন করে মাথার খুলিটা যথাস্থানে লাগাতে হবে। অন্যদিকে কোমরের দিকে হাড় ভেঙে গেছে তার। ছেলে মানস কোনভাবে দাঁড়াতে পারছে না,হাঁটতেও পারছে না। অসহায় গ্রামের মানুষ, ছেলেকে নিয়ে এসএসকেএম এর এমার্জেন্সির পাশেই দিনরাত অপেক্ষা করছেন।
advertisement
বহু মানুষকে অনুরোধ করেও ছেলের পূর্ণ চিকিৎসা কিংবা ভর্তির ব্যবস্থা করতে পারেনি।- কথা বলতে গেলে দুজনই কেঁদে ফেলছেন। নিজেদের সমস্ত কিছু চুরির ব্যাপার পাশেই পুলিশ ফাঁড়িতে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।
একদিকে ছেলেকে বাঁচানোর চিন্তা, অন্যদিকে চোরের উপদ্রব।সবেতেই দুজনে নিজেদের কপালকেই দুষছেন। মাঝে মাঝে উঠে গিয়ে উপায় খুঁজছেন কিভাবে ছেলেকে বাঁচিয়ে বাড়ি ফেরানো যায়। তবে সমস্ত জায়গা থেকেই ফেরত আসতে হচ্ছে তাদের।
advertisement
SHANKU SANTRA
Location :
First Published :
Nov 11, 2022 10:49 AM IST








