অ্যাঙ্গলো ইন্ডিয়ানদের বাজারে দখল নিচ্ছে অ্যাঞ্জেল মুখার্জিরা, বাঙালি মজেছে হোম মেড কেকে

অ্যাঙ্গলো ইন্ডিয়ানদের বাজারে দখল নিচ্ছে অ্যাঞ্জেল মুখার্জিরা, বাঙালি মজেছে হোম মেড কেকে
প্রতীকী চিত্র ৷

ক্রিসমাসে ভাল কেকের খোঁজ রাখেন রসিকরা। বাজার জুড়ে নামি-অনামি কোম্পানি ও বেকারির কেকও রয়েছে প্রচুর। তবু বাঙালির রসনা এখন মজেছে হোম মেড কেকে। প্লাম কেকে কিংম্বা ফ্রুট কেকে ৷ সেই কেকই তৈরী করে দিচ্ছেন ঘরে বসে এক দল গৃহিনী।

  • Share this:

RAJARSHI Roy

#কলকাতা: উৎসবের আমেজ চারিদিকে। ঠান্ডাও পড়ছে জাঁকিয়ে। ক্রিসমাসকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বাঙালি। পার্ক স্ট্রিট কিংম্বা গভার্মেন্ট প্লেস, শহরের নামকরা রেস্তোরাঁ বা হোটেলে কিংম্বা বেকারিতে লম্বা লাইন দেন না বহু বাঙালি। তবু ক্রিসমাসে ভাল কেকের খোঁজ রাখেন রসিকরা। বাজার জুড়ে নামি-অনামি কোম্পানি ও বেকারির কেকও রয়েছে প্রচুর। তবু বাঙালির রসনা এখন মজেছে হোম মেড কেকে। প্লাম কেকে কিংম্বা ফ্রুট কেকে ৷ সেই কেকই তৈরী করে দিচ্ছেন ঘরে বসে এক দল গৃহিনী।

সোদপুর, তিলোত্তমার উপকন্ঠে, এই শহরে হোম মেড কেকের ব্যবসা করেন প্রিয়াঙ্কা দাস। এবার বড়দিনের আগে হোম মেড কেকের যোগান দিতে তাঁর হিমশিম অবস্থা। চাহিদা মত ঘরের তৈরী কেকের যোগান দিতে দু’জন কর্মীকেও এবার নিয়োগ করেছেন তিনি। প্রিয়াঙ্কার কথায় বছর খানেক হল তিনি এই ব্যবসা শুরু করেছেন । তাঁর কথায় বাঙালির যে কোনও আনন্দে ও উৎসবে কেক এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাই শুধুই বড় দিন নয়, সারা বছর ঘরে বানানো কেকের চাহিদা রয়েছে। প্রথমে শখ করে কেক বানানোর শুরু। আর আজ সেই কেককেই আঁকড়ে ধরে খুঁজে পেয়েছেন নিজের কেরিয়ার। আজ সাবলম্বী তিনি। এই সাফল্যের পিছনে রয়েছেন বারাসাতের শুভশ্রী সরকার। তিনিই প্রিয়াঙ্কাদের কেক বানানোর খুঁটিনাটি শিখিয়ে দিয়েছেন। আর কেক তৈরি উপকরণ ও সরঞ্জামের যোগান ও দেন সেই শুভশ্রীদি । বারাসত নবপল্লীর পৈত্রিক বাড়িতে কেকের সরঞ্জামের দোকান শুভশ্রীর। আর সেইখানেই ভিড় জামাচ্ছেন হোম মেড কেক মেকাররা। এই যেমন বারাসাত শিশির কুঞ্জের গৃহবধূ অ্যাঞ্জেল মুখোপাধ্যায়। ছেলেকে ভাল কেক খাওয়াবেন বলে শুরু করেছিলেন কেক তৈরি। আজ সেটা থেকে উপার্জনের পথ পেয়েছেন তিনি। তাঁর কথায় আত্মীয় প্রতিবেশীদের কিছু কিছু ওর্ডার তিনি পাচ্ছেন। কিছু উপার্জন আর নিজের শখ মেটাতে ৷ ভালই আনন্দ পাচ্ছেন এই ব্যবসা করে। আবার হাবরার তানিয়া হালদার এই দিন বারাসত নবপল্লীতে এসেছে হোম মেড কেক তৈরির সরঞ্জাম নিতে। তানিয়ার দাবি, বাজারের নামি বা অনামি কোম্পানির কেকের তুলনায় তাঁদের কেক বেশী সুস্বাদু। তানিয়া কিংম্বা প্রিয়াঙ্কার কথায় মূলত ভাল মানের উপাদান দিয়ে তাঁরা তৈরি করেন কেক। বাটার ব্যবহার করেন সব সময়। বাজারের কেক গুলিতে প্রিজার্ভেটিভ দেওয়া থাকে বলে মত তাঁদের। তানিয়াদের দাবি, হোম মেড এই কেকে তাঁরা কোনও প্রিজার্ভেটিভ ব্যবহার করেন না। তাই তাঁদের কেক একবার যিনি খেয়েছেন, তিনিই আগামী দিনে তাঁদের বড় খরিদ্দার হয়ে যান।

সাহেবদের হাত ধরে এদেশে কেকের প্রসার হয়। পরে অ্যাঙ্গলো ইন্ডিয়ান গৃহিনীদের এই কেক তৈরিতে একচেটিয়া নাম ছিল। গত কয়েক বছরে বাঙালি মহিলারাও সেই নামে ভাগ বসিয়েছেন। রমরম করে নতুন এই কাজে নিজেদের দক্ষতায় বাজার তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বাঙালি মহিলারা।

First published: 06:44:20 PM Dec 23, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर