ভোট দিতে এসে নতুন করে লকডাউনের ভয়! আর ভিন রাজ্যে যেতে চাইছেন না পরিযায়ি শ্রমিকরা

ভোট দিতে এসে নতুন করে লকডাউনের ভয়! আর ভিন রাজ্যে যেতে চাইছেন না পরিযায়ি শ্রমিকরা

কাজের ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত।

কাজের ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ:  লকডাউনের ভয়ে কাজের জন্য আর ভিনরাজ্যে যেতে চাইছেন না রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর গ্রামের পরিযায়ি শ্রমিকরা। ভিনরাজ্যে না গিয়ে পঞ্চায়েতে কাজের ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত।

উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকের কাজ করতে অসংখ্য মানুষ দিল্লি,মুম্বই, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশে যান। ২০২০ সালের মার্চ মাসে সারা দেশে লকডাউনের সময় এসমস্ত পরিযায়ি শ্রমিকদের দেখা গেছে।সেই সময়ে পরিযায়ি শ্রমিকদের দুর্দশা দেশের মানুষ চাক্ষুষ করেছে। ভিন রাজ্যে তাদের যে অবস্থা হয়েছিল সেই সময়কালের  বিভিষিকা  আজও ভুলতে পারেনি রায়গঞ্জ ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মলয় সরকার, দুলাল দাসরা।রায়গঞ্জ ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ  শ্রমিকের কাজ করতে বিহারে গিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার আচমকাই সারা দেশে লকডাউন ঘোষনা করল। লকডাউন বিষয়টি কি তাদের কাছে পরিস্কার ছিল না।লকডাউনের ফলে ঠিকাদারি সংস্থাও কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়। কাজ হারিয়ে তারা বেকার হয়ে পরেছিলেন ।উপার্জিত অর্থ বসে বসে খাবার পর হাতে অর্থের টান পড়ল। রাস্তা দিয়ে দেখছেন কেউ হেঁটে, কেউ আবার সাইকেল চালিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছেন।তারা কিভাবে বাড়ি ফিরবেন ভেবে কুল করতে পারছিলেন না। অন্যদের মত তারাও কি সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।এইনভাবনায় তারা দিনরাত এক করে দিয়েছিলেন। মুজাফরপুর থেকে রায়গঞ্জের গোবিন্দপুর গ্রাম। এই বিশাল দূরত্ব কিভাবে সাইকেল নিয়ে ফিরবেন। এসমস্ত ভাবনা চিন্তা করতে করতেই কয়েকদিন কেটে যাবার পর একদিন ঠিক করে ফেললেন যদি মরতে হয় বাড়িতে গিয়েই তাদের মৃত্যু হবে।এই ভাবনা থেকেই মুজাফরপুর থেকে সাইকেলেই চাপলেন। রাস্তায় যেন কিছু কিনে খাবেন সেই পয়সানটুকু তাদের হাতে ছিল না। রাস্তায় কেউ কিছু দিলেই তবে তাদের খাওয়া জুটেছে নইলে নয়। অনাহার, অর্ধাহারের মধ্যে দিয়ে সাইকেল চালিয়ে চরম কষ্টকরে বাড়িতে পৌছান।

করোনার প্রকোপ কিছুটা কমলে  জনজীবন স্বাভাবিক হবার পর উপার্জনের আশায় তারা আবার কাজের জন্য ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছিলেন।গনতন্ত্রের বড় উৎসব ভোট।  বিধানসভা ভোটে নিজের গনতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে তারা  গ্রামে ফিরে এসেছিলেন । ভোটের পর থেকে গ্রামে আসার পর  দেশে করোনা সংক্রামনের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। করোনা আক্রান্ত সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে কোনদিন দেশের  সরকার আবার লকডাউন ঘোষনা করতে পারে। বিগত দিনের অভিজ্ঞতা এখনও তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে।তাই সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তারা আর ভিন রাজ্যে যেতে চাইছে না।কাজ না করলে পরিবারে মুখে আহার ঢুকবে না। গ্রামে বসে থাকলে তো কাজ জুটবে না। তাই গ্রামেই কাজের জন্য স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের দ্বারস্থ হয়েছেন।  পঞ্চায়েত সদস্য তাদের কাজ দেবার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। সেই আশ্বসের দিকে তাকিয়ে আছেন গোবিন্দপুর গ্রামের অসংখ্য পরিযায়ি শ্রমিক।

Uttam Paul

Published by:Debalina Datta
First published:

লেটেস্ট খবর