Mamata writes letter to Modi: কলাইকুন্ডার বৈঠকে কেন ছিলেন শুভেন্দু? মোদিকে লেখা চিঠিতে প্রশ্ন তুললেন মমতা

কলাইকুন্ডার বৈঠকে শুভেন্দুর উপস্থিতি নিয়ে মোদিকে অভিযোগ মমতার৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) লেখা মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee)চিঠিতেও স্পষ্ট, শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উপস্থিতিই তাঁর বৈঠকে না থাকার অন্যতম প্রধান কারণ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: কলাইকুন্ডার বৈঠকে কেন উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী? নন্দীগ্রামের বিধায়কের নাম না নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা চিঠিতে সরাসরি এই প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে নির্ধারিত বৈঠকে একজন বিধায়কের থাকার কোনও এক্তিয়ারই নেই৷ মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে এমনও দাবি করেছেন, বৈঠক শুরুর আগেই এই বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যসচিব প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা এক সিনিয়র অফিসারকে জানিয়েছিলেন৷ সমস্যার সমাধান না হলে মুখ্যমন্ত্রী যে ওই বৈঠকে থাকবেন না, তাও জানানো হয়৷ আর তা না হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পৃথক বৈঠকের আয়োজন করারও কথাও জানানো হয় বলে মোদিকে চিঠিতে দাবি করেছেন মমতা৷ যদিও প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে শুভেন্দুর নাম না নিয়ে তাঁকে বিধায়ক হিসেবেই উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

    বিজেপি-র তরফে অবশ্য বার বারই দাবি করেছে, শুধু একজন বিধায়ক হিসেবে নয়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবেই বৈঠকে আমন্ত্রিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷

    বিতর্কের সূত্রপাত গত ২৮ মে কলাইকুন্ডায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠক নিয়ে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বৈঠকে যোগ না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির হাতে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব তুলে দিয়ে ফিরে আসেন৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এর পর সেদিন রাতেই মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে বদলির নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী পরে অভিযোগ করেন, প্রথমে শুধুমাত্র তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও পরে রাজ্যপাল সহ আরও অনেককে সেই বৈঠকে ডাকা হয়৷ গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ওই বৈঠক কার্যত বিজেপি-র দলীয় বৈঠকে পরিণত হয়েছিল৷ তবে তাঁর বা রাজ্যের তরফে প্রধানমন্ত্রীকে কোনওরকম অসম্মান করা হয়নি বলে দাবি করেন মমতা৷

    প্রসঙ্গত সেদিনের ওই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের৷ প্রধানমন্ত্রীকে লেখা মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিতেও স্পষ্ট, নন্দীগ্রামের বিধায়কের উপস্থিতিই তাঁর বৈঠকে না থাকার অন্যতম প্রধান কারণ৷ শুভেন্দু ছাড়াও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, দেবশ্রী চৌধুরীরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন৷

    এ দিন মুখ্যসচিবের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেই কলাইকুন্ডার বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'আমি চেয়েছিলাম শান্তি পরিবেশে আপনার সঙ্গে আমার একটি বৈঠক হোক৷ কিন্তু আপনি বৈঠকের কাঠামো বদলে ফেলে আপনার দলের একজন স্থানীয় বিধায়ককে বৈঠকে অন্তর্ভুক্ত করলেন৷ আমার চল্লিশ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া বৈঠকে একজন বিধায়কের উপস্থিত থাকার কোনও এক্তিয়ারই নেই৷ ওই বৈঠকে মাননীয় রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ডাকা হয়েছিল৷ সৌজন্য বশতই আমি তা নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছি না৷ কিন্তু একজন বিধায়ক, যার ওই বৈঠকে থাকার কোনও এক্তিয়ারই নেই, তাঁর উপস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না৷' মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য চিঠিতে একই সঙ্গে দাবি করেছেন, সাংবিধানিক ভাবে রাজ্যপালেরও ওই বৈঠকে কোনও ভূমিকা ছিল না৷

    মুখ্যমন্ত্রী এ দিনের চিঠিতে আরও লিখেছেন, কলাইকুন্ডার ওই বৈঠকের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিবের বদলির কোনও সম্পর্ক নেই বলেই তিনি আশা করেন৷ পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়েই মিটিং শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় বেলা ২.৩০ মিনিটের আগেই তিনি কলাইকুন্ডায় উপস্থিত হয়েছিলেন৷ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কলাইকুন্ডায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার৷

    বিজেপি শিবিরের অবশ্য দাবি, বিরোধী দলনেতা হিসেবেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু৷ বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁকে স্বীকৃতি দিয়ে বিধানসভার তরফে যে চিঠি দেওয়া হয়, সেটিও এই বৈঠক বিতর্কের পরই প্রকাশ্যে আনে গেরুয়া শিবির৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: