GI Tag: খুশির খবর! এবার জিআই ট্যাগ পেতে চলেছে মহিলাদের পছন্দের 'মুর্শিদাবাদ সিল্ক'
- Reported by:Koushik Adhikary
- Published by:Shubhagata Dey
Last Updated:
GI Tag: মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত মিষ্টি ছানাবড়া, গরদ ও কোরিয়াল শাড়ি এবং বালুচরি শাড়ি জিআই ট্যাগ পেয়েছে। মুর্শিদাবাদ সিল্ক জিআই ট্যাগ পেলে জেলার মুকুটে নতুন সম্মানের পালক যোগ হবে।
*মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: মুর্শিদাবাদ জেলার মুকুটে এবার নয়া পালক। মুর্শিদাবাদ জেলার ছানাবড়া মিষ্টি ও গরদ শাড়ির পর এবার আবার জিআই তকমা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্য এবং গর্বের প্রতীক মুর্শিদাবাদ সিল্ক পেতে চলেছে জিআই ট্যাগ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান দেশের সংসদে 'জিরো আওয়ার'এ মুর্শিদাবাদের সিল্ক থান শিল্পের জন্য বক্তব্য রেখে জানতে চেয়েছিলেন কবে এই শিল্প জিআই ট্যাগ পাবে।
advertisement
advertisement
advertisement
*সূত্রের খবর, ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের খাগড়া ললিত মোহন রেশম খাদি সমিতির পক্ষ থেকে 'মুর্শিদাবাদ সিল্ক'এর জন্য জিআই ট্যাগের আবেদন জানানো হয়েছিল। বেশ কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর মুর্শিদাবাদ সিল্কের জিআই ট্যাগ নিয়ে কারও কোনও আপত্তি থাকলে তা জানানোর নোটিফিকেশন জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে কেউ কোনও আপত্তি জমা না দিলে 'মুর্শিদাবাদ সিল্ক' পেতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত দুর্লভ এক সম্মান।
advertisement
*'মুর্শিদাবাদ সিল্ক' এই সম্মান পেলে তা জেলার হস্তশিল্পীদের জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে হবে। যা তাঁদের পণ্যের গুণমান এবং ভৌগোলিক পরিচয়কে আইনত সুরক্ষিত করবে। মুর্শিদাবাদের ছোটে নবাব রেজা আলি মির্জা জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ সিল্কের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মুঘল যুগে বিশেষ করে নবাব মুর্শিদ কুলি খানের সময় থেকে মুর্শিদাবাদ জেলা রেশম উৎপাদনের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়।
advertisement
*মুর্শিদাবাদের মির্জাপুর, জিয়াগঞ্জ, ইসলামপুরের মত গ্রামগুলোয় হাজার হাজার তাঁতি পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রেশমের সুতো থেকে সিল্কের শাড়ি এবং অন্যান্য জিনিস তৈরি করে আসছেন। 'মুর্শিদাবাদ সিল্ক' বললে সাধারণত রেশমের তৈরি শাড়ি, স্কার্ফ, রুমাল প্রভৃতিকে বোঝায়। তবে এর মধ্যে গরদ, প্রিন্টেড সিল্ক ও অন্য কিছু বৈচিত্রও রয়েছে।
advertisement
advertisement
*তিনি বলেন," মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্পীরা 'তানা' এবং 'বানা' ভার্টিক্যাল এবং হরাইজেন্টাল পদ্ধতিতে যেভাবে সিল্কের শাড়ি বোনেন তার কদর কেবল এই রাজ্য এবং দেশে নয় বিদেশেও রয়েছে। মুর্শিদাবাদের নগর, ডাঙ্গাপাড়া, খড়গ্রাম, পিয়ারাপুর, দৌলতাবাদ, জিয়াগঞ্জ-সহ আরও কয়েকটি এলাকায় বংশ পরম্পরায় 'ক্লাস্টারে' রেশম উৎপাদন এবং সিল্কের শাড়ি তৈরি হয়।"
advertisement
"*পলু পোকা পালন থেকে রেশমের বিভিন্ন রকমের জিনিস তৈরি পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় মুর্শিদাবাদ জেলাতেই কয়েক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছেন এবং এই জেলায় প্রত্যেক বছর কয়েকশো কোটি টাকার সিল্কের 'প্রোডাক্ট' বিক্রি হয়। আমাদের আশা মুর্শিদাবাদ সিল্ক জিআই ট্যাগ পেয়ে গেলে বিদেশের বাজারে আমাদের জেলার হস্তশিল্পীদের কদর বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সিল্কের চাহিদা বাড়বে। পাশাপাশি হাজার হাজার তাঁতি পরিবারের আয় বৃদ্ধি পারবে এবং এই শিল্পর ভবিষ্যৎ মজবুত হবে।"






