মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু’টি পুরস্কার দেওয়া হবে:শুভেন্দু অধিকারী

নিজের পুরনো দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক এক সভা মঞ্চ থেকে সদ্য বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন ।

নিজের পুরনো দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক এক সভা মঞ্চ থেকে সদ্য বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন ।

  • Share this:

Venkateswar Lahiri

#কলকাতা: ‘‘আমরা সরকারে আসছি। সরকারে এসেই বিজেপি দু’টো পুরস্কার দেবে। একটা 'মিথ্যাশ্রী'। যেটা পাবেন মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর অন্যটা 'তোলাশ্রী'। যেটা পাবেন তোলাবাজ ভাইপো’’, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যুব তৃণমূল নেতা তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ভাষাতেই আক্রমণের সুর চড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী।

নিজের পুরনো দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে রাজনৈতিক এক সভা মঞ্চ থেকে সদ্য বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘একদিকে যেমন জয় শ্রীরাম শুনলেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠছেন মাননীয়া, তেমনি নানান মিথ্যে  প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের নাম বদলে এ রাজ্যের প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর ধাপ্পাবাজি বাংলার মানুষ আজ বুঝে গিয়েছেন। তাই এ বার বাংলার মানুষ তৈরি হয়ে আছেন পরিবর্তনের পরিবর্তন করার জন্য।’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যে অনেক ধাপ্পাবাজির প্রকল্প শুরু করেছেন । মিথ্যে কথা বলতে বলতে উনি যেভাবে বাংলার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন সেই জায়গা থেকেই ওঁনাকে 'মিথ্যাশ্রী' পুরস্কার দেওয়ার ভাবনা। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'তোলাশ্রী' পুরস্কার দেওয়ার নেপথ্যে  কয়লা -বালি সহ সব জায়গা থেকেই  তাঁর কোটি কোটি টাকা কাটমানি নেওয়ার  কারণকেই  উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী এ দিন চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, ‘‘ওঁকে তোলাবাজ ভাইপো বললেই খুব রেগে যাচ্ছেন। এ ভাবে  একটা সরকার চলতে পারে না। এ সরকার পিসি ভাইপোরদের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সরকার। আমি তাই দল যখন একটি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে দেখলাম তখনই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই।’’

প্রসঙ্গত,  একুশের নির্বাচনের আগে তাততে  শুরু করেছে রাজনীতির ময়দান। তৃণমূল এবং বিজেপি , যুযুধান দুই শিবিরের  অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের বেসুরো হওয়ার তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। অনেকেই দল বদলে গেরুয়া শিবিরে নামও  লিখিয়েছেন। কেউ কেউ এখনও নাম লেখানোর  অপেক্ষায়। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব বেসুরো কিংবা দল বদলে অন্য শিবিরে যাওয়া নেতাদের নিয়ে তাঁরা যে মোটেই চিন্তিত নয়, সে কথা বার বার বললেও শাসকদলের কপালের চিন্তার ভাঁজ যে ক্রমেই মোটা হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গেরুয়া শিবির একুশের নির্বাচনে মসনদ দখল করতে একেবারে আদাজল খেয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর মত জননেতা তাঁদের দলে আসায় বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে রীতিমতো উজ্জীবিত বিজেপি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর সে কারণেই শুভেন্দু অধিকারীকে নির্বাচনের ময়দানে মুখ করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে অলআউট আক্রমণের ছাড়পত্র বিজেপি দেওয়ায় নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় একের পর এক অভিযোগ, বিস্ফোরক সব অভিযোগের বোমা ফাটিয়েই চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। হুগলির আরামবাগে এমনই এক সভায়  তৃণমূল নেত্রী তথা তাঁর ভাইপোকে যথাক্রমে 'মিথ্যাশ্রী'  এবং 'তোলাশ্রী' পুরস্কার দেওয়ার কথা বলেন শুভেন্দু।

Published by:Simli Raha
First published: