?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

জোটের জটে বামেদের ভোট কমল প্রায় ১৩ শতাংশ

জোটের জটে বামেদের ভোট কমল প্রায় ১৩ শতাংশ

রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে ক্ষমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে রাজনৈতিক ময়দানে মাষ্টার স্ট্রোক দিতে চেয়েছিল সিপিএম ৷ কিন্তু সেই মাষ্টার স্ট্রোকই এখন ব্যুমেরাং হয়ে নৌকা ডুবিয়েছে বামেদের ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবুজ ঝড়ে নিশ্চিহ্ন বামফ্রন্ট ৷ ২০১১-তে পরিবর্তনের ধাক্কাতে সিংহাসনচ্যুত হয় বামেরা ৷ কিন্তু তাঁর পাঁচ বছর পর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে এবার বামফ্রন্টের মান ও কুল দুই ডোবার উপক্রম ৷ গতবারে তুলনায় এবারের ভোটে বামফ্রন্টের আসন সংখ্যা হয়ে গেল অর্ধেক ৷

  • Share this:

#কলকাতা: রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে ক্ষমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে রাজনৈতিক ময়দানে মাষ্টার স্ট্রোক দিতে চেয়েছিল সিপিএম ৷ কিন্তু সেই মাষ্টার স্ট্রোকই এখন ব্যুমেরাং হয়ে নৌকা ডুবিয়েছে বামেদের ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবুজ ঝড়ে নিশ্চিহ্ন বামফ্রন্ট ৷

২০১১-তে পরিবর্তনের ধাক্কাতে সিংহাসনচ্যুত হয় বামেরা ৷ কিন্তু তাঁর পাঁচ বছর পর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে এবার বামফ্রন্টের মান ও কুল দুই ডোবার উপক্রম ৷ গতবারে তুলনায় এবারের ভোটে বামফ্রন্টের আসন সংখ্যা হয়ে গেল অর্ধেক ৷

লক্ষ্য ছিল তৃণমূল-বিরোধী ভোট এক জায়গায় জড়ো করা। তাই শিলিগুড়ি মডেলের অণুকরণে, রাজ্যজুড়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়েছিল সিপিএম। কিন্তু ভোটবাক্সে কাজে এল না সেই জোটের কৌশল।

গতবারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক আসনে নেমে এল বামেদের আসন সংখ্যা। তবে হাতুড়ি ধরে ফায়দা তুলল হাত। বামেদের সরিয়ে রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে উঠল সাইনবোর্ডে পরিণত হওয়া কংগ্রেস।

congress_cpm_flag

উত্তরে টিমটিম করে জ্বলছে। বাকি রাজ্যে সাইনবোর্ড। শুধুমাত্র মালদহ ও মুর্শিদাবাদের আধিপত্য রাখা কংগ্রেসকে তাই দুই জায়গার আদ্যক্ষর নিয়ে মামু বলে রসিকতাও চালু ছিল। রাজ্য-রাজনীতিতে কংগ্রেস সম্পর্কে অনেকদিন ধরেই প্রচলিত রয়েছে এই রসিকতা। বিধানসভার ভোটযুদ্ধে বামফ্রন্টের সৌজন্যে ধুলোঝেড়ে সেই সাইনবোর্ডটাই একটু পরিষ্কার করল প্রদেশ কংগ্রেস। আর সেই ধুলোতেই মলিন হল কাস্তে-হাতুড়ি।

জোট গড়ার পিছনে বামেদের লক্ষ্য ছিল তৃণমূল-বিরোধী ভোটের ভাগাভাগি রোখা। কংগ্রেস চেয়েছিল যেনতেনভাবে রাজ্যে অস্বিত্ব টিকিয়ে রাখতে। বৃহস্পতিবার ভোটগণনার পর বামের ব্যর্থ হলেও, অনেকাংশেই লাভবান কংগ্রেস।

২০১১ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে জোট গড়ে ৪২টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস ৷ এবার বামেদের সঙ্গে জোট গড়ে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ ৷ অন্যদিকে, ২০১১-এ পরিবর্তন ঝড়েও ৬২টি আসনে জিততে পেরেছিল বামেরা ৷ এবার জোট গড়েও ৩২-এ থেমে গেল ফ্রন্টের দৌড় ৷

গতবারের তুলনায় এবারে বামফ্রন্টের ভোট কমেছে ১২.৯৪ শতাংশ ৷ অন্যদিকে, কংগ্রেসের ভোট পারসেন্টেজ বাড়ল ৩.২ শতাংশ ৷ জোটকে ধূলিসাৎ করে গতবারের থেকে ৬.৮৬ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য সরকারে ফিরছে তৃণমূল ৷

PIE_CHART

বাকি রাজ্যে কংগ্রেসের সমীচীন অবস্থা হলেও এরাজ্যে খানিক উন্নতি ঘটেছে কংগ্রেসের ৷ ফলে পাটিগণিতের হিসেবেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের স্বীকৃতি হারাতে বসেছে টানা সাড়ে তিন দশক রাজত্ব করা বামেরা। আর ১৮ বছর আগের দলীয় ভাঙনের পর, ফের প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে উঠতে চলেছে কংগ্রেস।

কিন্তু হাতের ফায়দা কেন দেখা গেল না হাতুড়ির ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের ফলে কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে বামেদের ভোট কিন্তু কংগ্রেসের ভোট টানতে ব্যর্থ বাম প্রার্থীরা ৷

শুধু আসন বাড়ানো বা প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেনে উঠে আসাই নয়, বামেদের হাত ধরেই উত্তরের পরিচিত গণ্ডি থেকেও বেরিয়ে এল কংগ্রেসের হাত। ঝুলিতে পুরল বাঁকুড়া, চাঁপদানি, আমতার মতো আসন। তাই হাতুড়ি ধরে নিঃসন্দেহে লাভবান হাত।

First published: May 19, 2016, 8:08 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर