'হাত সাফাই'-এ জোর কলকাতা পুলিশের  

'হাত সাফাই'-এ জোর কলকাতা পুলিশের  

করোনা ভাইরাস নিয়ে নানা জায়গায় সচেতনতা শিবির শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। এবার সচেতন করা হচ্ছে পুলিশের অন্দরমহলে...

  • Share this:

#কলকাতা: গোয়েন্দা দফতরে হাত না ধুয়ে ঢোকা যাবে না। এত দিন ধরে রহস্য ছিল নানা কেস নিয়ে। আর এবার রহস্য তৈরি হয়েছে করোনা নিয়ে। সেই রহস্য সমাধান কবে হবে তা জানা নেই। তবে ভাইরাস থেকে বাঁচতে এবার হাত পরিষ্কার করার কাজ শুরু করে দিল লালবাজার।

করোনা ভাইরাস নিয়ে নানা জায়গায় সচেতনতা শিবির শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। এবার সচেতন করা হচ্ছে পুলিশের অন্দরমহল। সচেতনতা কীভাবে? ধরুন আপনি লালবাজারে ঢুকে পড়লেন। হঠাৎ করে আপনার হাত কেউ ধরতেই পারে। না না, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আপনার হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হবে। ভাল করে দু'হাত ঘষে নিন। তাহলে কিছুটা হলেও নিশ্চিত বোধ করবেন আপনি ও আপনার বিপরীতে অপেক্ষা করা পুলিশ আধিকারিক।  তবে এটা শুধু কলকাতা পুলিশের প্রেস্টিজিয়াস গোয়েন্দা বিভাগ জুড়ে নয়। এমন ছবি ধরা পড়ছে কলকাতা পুলিশের 'টপ বস', পুলিশ কমিশনারের ঘরের সামনেও। লাল বাড়ির পুরনো দিনের বারান্দা ধরে হেঁটে পুলিশ কমিশনার ঘরের সামনে গেলেই, আপনার জন্য অপেক্ষা করবে প্রশ্ন। একটু ভারি গলায়, 'হাত ধুয়েছেন তো'। আপনার উত্তর 'হ্যাঁ' হোক বা 'না'। আপনার হাতে স্যানিটাইজার অবশ্যই দেওয়া হবে।

 কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন হাতে হাতে নজর এখন সবচেয়ে বেশি। আর হাত সাফাই না করলে 'নো এন্ট্রি' ! কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সদর শুভঙ্কর সিনহা সরকার জানাচ্ছেন, সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে লালবাজারে। আগে পরিষ্কার হোন, তারপর নিশ্চিন্তে আপনার কাজ করুন। তবে অনেকেই চুপি চুপি বলছেন, এতে একটু যা সময় নষ্ট হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিধি আগে। উঁকি মারছে করোনার ভয়। তাই সময় নয়, সুরক্ষা আগে। এরইমধ্যে অবশ্য একটা মজার ঘটনাও রয়েছে। যেমন মঙ্গলবার বিকেলে, গোয়েন্দা বিভাগে হাজির হয়েছিলেন এক মহিলা। সাদা পোষাকের এক পুলিশ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'দিদি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার...' হাসি মুখে ওই মহিলা অবাক করে নিজের ব্যাগের মধ্যে থেকে বার করে আনলেন একটা স্যানিটাইজার। আর এমন কাণ্ড বেশ খুশি মুডেই নিচ্ছে লালবাজার। প্রতিদিন সিপি নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন। কী করা উচিত আর কী উচিত নয়। ফলে লালবাজার মনে করছে, সাধারণ মানুষ নিজে থেকেই সচেতন হয়েছে।

 এবার একটু চোখ ফেরালেই দেখবেন আপনার চেনা বন্দুকের বাইরে পুলিশের হাতে আর এক ধরনের বন্দুকের মতো কিছু একটা। পিছন থেকে দেখে আপনার সেটা মনে হওয়া স্বাভাবিক। তবে আসলে ওটা থারমাল স্ক্যানার। আপনার দেহের তাপমাত্রা ওই যন্ত্র চিহ্নিত করে দেবে। ফলে যে বা যাঁরা এখানে আসছেন, তাঁরা শারীরিক ভাবে ফিট কিনা, তা ধরা পড়বে৷ বাদ নেই পুলিশও। তাঁরাও এসে একবার করে স্ক্যানারে মেপে নিচ্ছেন নিজেদের উত্তাপ। ফলে করোনা নামে সাবধানী আমি-আপনি ও পুলিশ। জানাচ্ছেন কলকাতা পুলিশের এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক।

Susovan Bhattacharjee

First published: March 17, 2020, 10:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर