• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • KOLKATA POLICE INTERROGATING VICTIM WOMAN IN ANANDAPUR MOLESTATION CASE SDG

গভীর প্রেম থাকলেও প্রেমিকের বিরুদ্ধেই চলন্ত গাড়িতে শ্লীলতাহানির অভিযোগ! উত্তর খুঁজছে পুলিশ

প্রতীকী ছবি

আনন্দপুরে তরুণীকে চলন্ত গাড়িতে শ্লীলতাহানি ও ঠেলে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়।

  • Share this:

#কলকাতা: আনন্দপুরে তরুণীকে চলন্ত গাড়িতে শ্লীলতাহানি ও ঠেলে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী তরুণী যার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির ও মারধরের অভিযোগ এনেছিলেন, যাকে বন্ধু বলে দাবি করেছিলেন, তিনি আসলে ওই তরুণীরই প্রেমিক। তরুণীর দাবি করা পাঁচদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের কথাও সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, ওই তরুণের সঙ্গে বেশ কয়েকবছর ধরেই প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে তরুণীর। শুধু তাই নয় তাদের বিয়ে হওয়ার কথাও রয়েছে। কিন্তু পুলিশকে ভাবাচ্ছে এই সম্পর্কের বিষয়টিই। কারণ যার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ঠিক হয়ে রয়েছে তার বিরুদ্ধেই কেন শ্লীলতাহানি, মারধর ও গাড়ি থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ আনলেন তরুণী। এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এখনও অধরা পুলিশের কাছে।

তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছিল তা গোটা কলকাতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে রাতের শহরে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে। তরুণী পুলিশকে জানিয়েছিলেন পাঁচ দিনের আলাপ হওয়া এক বন্ধুর সঙ্গে লংড্রাইভে বেরিয়ে বিপদের মুখে পড়েছিলেন তিনি। পাঁচদিনের বন্ধুর সেডান গাড়িতে চড়ে রাতের শহরে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন তারা। রাত বাড়তে থাকার পর গাড়িতে নিজেকে আর নিরাপদ বোধ করেননি তিনি। তাই ওই বন্ধুকে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধ না মেনে বচসা শুরু করে ওই যুবক। এমনকি চলন্ত গাড়িতে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেই অভিযোগ করেন তরুণী। যা থেকে বাঁচতে তিনি গাড়ির কাচ নামিয়ে চিৎকার করে সাহায্য চান। সেই অবস্থায় তরুণীকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিতে দেখে সাহায্য করতে আসা দম্পতি আক্রান্ত হন।

প্রাথমিকভাবে তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সম্পর্কে বিশেষ কোনো তথ্য দিতে পারেননি অভিযোগকারী। বন্ধুত্বের সম্পর্ক হলেও তার কোনও ছবি, মোবাইল নম্বর, এমনকী বাড়ির ঠিকানাও পুলিশকে দিতে পারেননি। পাঁচ দিনের সম্পর্ক হলেও যার সাথে নাইট আউট করতে বেরচ্ছেন ওই তরুণী, তার সম্পর্কে কোন তথ্য কিভাবে তার কাছে না থাকা কীভাবে সম্ভব? প্রশ্ন পুলিশের।

পরবর্তীতে তদন্ত এগোতেই পুলিশ জানতে পারে অমিতাভ বসু বলে অভিযুক্তের যে নাম তরুণী ব্যবহার করেছিলেন, সেই নামটিও ভুয়ো। অভিযুক্তের আসল নাম অভিষেক পান্ডে। তদন্তকারীদের প্রশ্ন কেন অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন তরুণী? প্রেমিক বলেই কি তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি? কিন্তু তাহলে কেন সেই প্রেমিকের বিরুদ্ধেই শ্লীলতাহানি, মারধরের অভিযোগ করলেন? পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার পর দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এদিকে ঘটনার দুদিন পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি তদন্তকারীরা। সে ক্ষেত্রে অভিযুক্তের সম্পর্কে তথ্য গোপন করায় বাধা পেয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়া। তবে সোমবার পূর্ব যাদবপুর এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে অভিযুক্তের গাড়িটি। এই গাড়ি উদ্ধারের মাধ্যমেই ঘটনার কিনারা করতে আরও বেশ কিছুটা এগিয়ে গেল আনন্দপুর থানার পুলিশ। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে আশাবাদী তারা।

SUJOY PAL

Published by:Shubhagata Dey
First published: