নারদ মামলায় কেন স্বতঃস্ফূর্ত পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ, প্রশ্ন হাইকোর্টের

বার বার নারদ কাণ্ডে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন ৷ কলকাতা হাইকোর্টের মত, নারদ কাণ্ডের ফুটেজে যে তথ্য প্রমাণ মজুত রয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষ ৷

বার বার নারদ কাণ্ডে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন ৷ কলকাতা হাইকোর্টের মত, নারদ কাণ্ডের ফুটেজে যে তথ্য প্রমাণ মজুত রয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষ ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: বার বার নারদ কাণ্ডে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন ৷ কলকাতা হাইকোর্টের মত, নারদ কাণ্ডের ফুটেজে যে তথ্য প্রমাণ মজুত রয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষ ৷ বিচারপতি নিশীতা মাত্রের প্রশ্নের উত্তরে অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়ন্ত মিত্রের দাবি, ভিডিওতে টাকা চাওয়া হয়েছে এবং কী কারণে টাকা নেওয়া হচ্ছে তার কোনও তথ্য ধরা পড়েনি ৷

    বৃহস্পতিবার নারদ স্টিং কাণ্ডের জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আবারও ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়া দৃশ্যের পিছনের কার্যকারণ নিয়ে সওয়াল চলে ৷ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দেওয়া ভিডিও ক্লিপের সত্যতা নিয়ে আরও একবার দ্বন্দ্ব আদালতে ৷ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে নারদ স্টিং জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়ন্ত মিত্রের দাবি, টাকা দেওয়া-নেওয়ার ছবি দেখিয়ে কোনও দুর্নীতি প্রমাণিত হয় না ৷

    নারদ ডট কমের প্রকাশিত ৫৭ ঘণ্টার ফুটেজে বিভিন্ন নেতা ও মন্ত্রীদের যে টাকা আদানপ্রদানের ফুটেজ দেখা যায়, তা নিয়ে এদিন প্রশ্ন তোলেন অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিশীতা মাত্রে ৷ তাঁর প্রশ্ন ছিল, ‘তিন ভিডিওয় যে টাকার লেনদেনের স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে, এটা কী কোনও অপরাধ নয়?’

    বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়ন্ত মিত্র পাল্টা প্রশ্ন তোলে, ভিডিও টাকা আদানপ্রদানের যে ফুটেজ দেখানো হয়েছে তা অপরাধ কিনা সেটা আগে প্রমাণ হওয়া দরকার ৷ AG-এর এই প্রশ্নের উত্তরে অস্থায়ী বিচারপতি দাবি করেন, বঙ্গারু লক্ষ্মণের ক্ষেত্রেও টাকা চাওয়ার প্রমাণ না পাওয়া গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষের মামলাই দায়ের হয়েছিল ৷

    অ্যাডভোকেট জেনারেলের পাল্টা মন্তব্য,‘স্টিংয়ে দেখানো লেনদেন অসম্পূর্ণ ৷ স্টিংয়ে দেখানো লেনদেন গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ কিনা ৷ সেই বিচার আগে করুক আদালত ৷ নারদকাণ্ডে গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ হলে, আদালত যেকোনও সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে ৷’

    এর সওয়াল শোনার পর বিচারপতি নিশীতা মাত্রে বলেন, ‘নারদ ফুটেজে দেখে কেন স্বতঃস্ফূর্ত পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ? ফুটেজ দেখে পুলিশ রিপোর্ট দিতে পারত আদালতে ৷ কিন্তু পুলিশ তা করেনি ৷’ এতেই অস্থায়ী বিচারপতি নিশীতা মাত্রের প্রশ্ন, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত করবে কে? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হলে নিরপেক্ষ সংস্থা দরকার ৷ রাজ্য পুলিশের পক্ষে এ দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয় ৷’

    এর পরেও নারদ স্টিং ভিডিওকে নকল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আরও একবার সওয়াল করেন AG জয়ন্ত মিত্র ৷ তিনি বলেন, ‘জনমানসে নারদ ফুটেজের প্রভাব নেই ৷ ফুটেজে টাকা নিতে দেখা গেছে যাঁদের, তাঁদেরই কয়েকজন ভোটে জিতে এসেছে ৷ নারদ ফুটেজে যাঁদের দেখানো হয়নি, এমন দু’জন নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে ৷’

    এই শুনানি পর্বের পর আরও একবার ঘুরপথে নারদ স্টিং ফুটেজের সত্যতা নিয়ে উঠল প্রশ্ন ৷

    দক্ষিণের সংবাদ সংস্থা নারদ ডট কম দাবি করেন, এই ভিডিও একদম খাঁটি ৷ ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে এই স্টিং অপারেশনটি তারা করেছিলেন বলে দাবি করেন সংস্থার কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েল ৷

    প্রথম থেকেই এই স্টিংকাণ্ডকে বিরোধীদের ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করে আসছে শাসক দল ৷ গত মার্চ ১৪, নির্বাচনের প্রথম দফার বিজ্ঞপ্তি জারির দিন বিজেপি পার্টি অফিসে শাসক দল তৃণমূলের ১১ জন শীর্ষ নেতা- নেত্রীদের ঘুষ নেওয়ার বিস্ফোরক ক্লিপটি দেখানোর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল ৷ এই ক্লিপ নিয়েই ভোটের আগে তৈরি হয় প্রবল বিতর্ক ৷ শাসক দলের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানান বিরোধীরা ৷

    First published: